অর্ধশত পাহাড় সাবাড়!

8

এম. সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির গুইমারায় থামছে না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাহাড়কাটার মহোৎসবে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত পাহাড় এখন বিলীন হয়ে গেছে। তারা একটি বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় পাহাড় কাটলেও ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন। চক্রটি নাকের ডগায় পাহাড় কাটলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব পাহাড়কাটা।
স্থানীয় নির্মাণ ও উন্নয়নের অযুহাতে গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক, মুসলিমপাড়া, তৈকর্মা, হাতিমুড়া, বাইল্যাছড়ি, ছোটপিলাক, চিংগুলিপাড়া, লুন্দুক্যাপাড়া, বুদংপাড়া এমনকি বাজার সংলগ্ন ফজরটিলার পাহাড়সহ উপজেলার অর্ধশত পাহাড়কাটা হয়েছে। তবে সুযোগসন্ধানী এ চক্রটি কখনো মসজিদের মাটি, কখনো বলে কবরস্থানের মাটি, কখনো মাদ্রাসার মাটি, কখনো মক্তবের মাটি, কখনো বৌদ্ধ মন্দিরের মাটি আবার কখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাটি বলে নিজেদের অপকর্মগুলো জায়েজ করার চেষ্টা করে। পাহাড়ের এসব মাটি ইটভাটা ও স্থানীয়দের বাড়িঘর নির্মাণে বিক্রি করছে। প্রতি গাড়ি মাটির মূল্য পনেরশত টাকা থেকে দুই হাজার টাকা।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ধারা ৬ এর (খ) এ বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতৃর্ক সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্ত¡শাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না। তবুও থামছে না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য। এসব পাহাড়কাটার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুইমারা থানার পাশেই লুন্দুক্যাপাড়ায় সুুউচ্ছ পাহাড়কাটা হচ্ছে। জানা যায়, এ জমির মালিক আনিস মিয়া। টাকার বিনিময়ে তিনি পাহাড়টি কাটতে দিয়েছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুটি ব্যানার টানিয়ে এই পাহাড়কাটা বন্ধ করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব চেীধুরী। সেখানে একটি ব্যানার এখনও টানানো আছে। অথচ পাহাড়ের গায়ে লাগানো ব্যানারটি সরিয়ে ফেলে মাটিকাটা হচ্ছে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি জানি। গুইমারা মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য এই পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। মডেল মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও মাটি দিতে পারবেন না এমন আন্ডার টেকেন দিয়ে অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদি মডেল মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও মাটি বিক্রি করে তাহলে জেল জরিমানা করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আইন অমান্য করে পাহাড় কাটা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, পাহাড়কাটা বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। এ কারণে প্রতিদিন পাহাড় কাটার প্রবনতা বাড়ছে। গুইমারা উপজেলা ঘোষণা হওয়ার পর পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ প্রয়োগ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
গুইমারা উপজেলার অর্ধশত পাহাড় কাটার বিষয়ে কথা হয় পরিবেশ অধিপ্তরের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. ফেরদৌস আনোয়ারের সাথে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমরা সবসময় কঠোর অবস্থানে আছি। বিভিন্ন সময় পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে মামলা করে পাহাড়কাটা বন্ধ করছে। গুইমারা উপজেলা ঘোষণা হওয়ার পর পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।