অভিনন্দন নারী ফুটবল দল

13

২০১৮ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দলের নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্য যে বিজয় অর্জন করেছিল তার ধারাবাহিকতায় চার বছর পর এসে ফুটবলের জাতীয় নারী দল সেই নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ানশীপ অর্জন করেছে। এ বিজয়ে নারী ফুটবল দল নয় শুধু; দেশের সর্বস্তরের ক্রীড়াপ্রেমিদের উজ্জীবিত করেছে। এ বিজয় নিঃসন্দেহে ঝিমিয়েপড়া ফুটবল অঙ্গনকে নতুুনভাবে অনুপ্রানিত করবে। অভিনন্দন নারী ফুটবল দল। আপনাদের এ সফলতা বারবার ফিরে আসুক। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, পর্যবেক্ষকদের বিবেচনায় মাঠের ফুটবলের সব বিভাগেই শারীরিক যোগ্যতা, বলের নিয়ন্ত্রণ, গতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রত্যেক ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। এ জন্য সফলতাও এসেছে। নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন সাবিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঠমুÐ দশরথ স্টেডিয়ামে এ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের মেয়েদের এ কৃতিত্বে আমরা যারপরনাই আনন্দিত। জাতীয় দলের সাফে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথম হলেও অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ ফাইনালে জিতেছে দুই শিরোপা। লিখল বাংলাদেশের ফুটবলের আরেকটি ‘স্বস্তি’র গল্প। সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে বাংলাদেশ। ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা পাওয়া বাংলাদেশ সর্বশেষ শিরোপা লাভ করে।
স্বাগতিকদের ৩-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে শিরোপা বিজয়ের মূল নায়িকার ভূমিকায় ছিল সাবিনা খাতুন। তিনি দলের অধিনায়ক । স্ট্রাইকিং পজিশনে থাকা এ তারকা ফুটবলার যেকোন দেশের ফুটবলারের কাছে আইডল। বাংলাদেশের জন্য গর্ব ও অহঙ্কারের প্রতীক। তারই ক্রমাগত আক্রমণ এবং আর্ট অব প্লে নেপালকে করে তুলে পর্যুদস্ত। ফাইনালে নেপালকে আরেকবার হারাল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে ঢাকায় গত বছরের ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। সেই পদচিহ্ন অনুসরণ করে পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দল সাফ চ্যাস্পিয়নশীপ অর্জন করেন। বাংলাদেশের মানুষ ক্রমাগত ক্রিকেট এবং ফুটবলের জাতীয় দল (পুরুষ) এর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম ব্যর্থতার এ সন্ধিক্ষণে নারী দলের সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়নশীয় আশা জাগানীয়া। আমরা জানি, ২০১৬ সালে এই চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামেই হেরে একপ্রকার নির্বাসনে গিয়েছিল মামুনুল ইসলামরা। মেয়েদের সামনে সুযোগ ছিল সেই দুঃখের স্মৃতিতে নতুন পদচিহ্ন আঁকার। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দলের ধারাবাহিক ওই বিজয় ঝিমিয়েপড়া ফুটবল অঙ্গনে উজ্জীবনী বার্তা দিয়েছিল। নারী ক্রিকেট ও ফুটবল দল প্রতিটি খেলায় বাংলাদেশকে সম্মানিত করছে-একথা না বললে নয়। পর্যবেক্ষকদের বিবেচনায় মাঠের ফুটবলের সব বিভাগেই শারীরিক যোগ্যতা, বলের নিয়ন্ত্রণ, গতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রত্যেক ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলেছে বাংলাদেশ। এ জন্য সফলতাও এসেছে। ফিফার পুরুষ র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অবস্থান যখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তখন মেয়েদের ধারাবাহিক সফলতায় দেশবাসী স্বভাবতই আনন্দিত ও উল্লসিত। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে। তার বিপরীতে ফুটবলে নারী দলের সাফল্য প্রশংসনীয়। এটাই আমাদের আশার জায়গা। বাংলাদেশে নারী ফুটবলের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। মাত্র এক যুগ আগে আমাদের দেশে শুরু হয় নারী ফুটবলের পথচলা। এই অল্প সময়ের মধ্যে তারা যে সাফল্য দেখিয়েছে, নবীন এই ফুটবলারদের ব্যাপারে যতœবান হলে তারা আরো বড় আসরেও সাফল্য নিয়ে আসতে পারবে। আমরা আশাবাদী, নারী ফুটবলারদের সাফল্য আমাদের নীতিনির্ধারকদের নতুন ভাবনায় উজ্জীবিত করবে।