অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার হোক শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের বিকল্প নেই

14

আর মাত্র ৪দিন পর বহুকাক্সিক্ষত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়ছে। মেয়র পদে প্রধান দুই দলের প্রার্থী ছাড়াও ওয়ার্ড কাউন্সিলের সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ছোট-বড় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সেইসাথে গত মঙ্গলবার ২নং গেইট যুবলীগের মিছিলে হামলা, বুধবার নূর আহমদ সড়কে বিএনপি কার্যালয় অতিক্রম করার সময় নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় বিএনপি দলীয় কর্মীদের হামলার অভিযোগসহ বিএনপির পক্ষ থেকেও উল্টো হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের অভিযোগ আনা হচ্ছে। এরমধ্যে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচনী উৎসবে প্রতিদ্ব›দ্বীদের মধ্যে উত্তাপ ও পাল্টা পাল্টি অভিযোগ মানানসই যদি না তা স্বশস্ত্র সংঘাতে না যায়। কিন্তু সিটি গত ১৪ জানুয়ারি রাতে নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সাথে গণসংযোগকালে পেছন থেকে ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন স্থানীয় মহল্লা সর্দার আজগর আলী বাবুল। গুলিবিদ্ধ হন মাহবুব নামে আরও একজন। এ ঘটনার পর মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়ে বিদ্রাহী প্রার্থীদের তৎপরতা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে নগরবাসী। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে নানা হুঁশিয়ারি ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি আসলেও তাদের নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলীয় মনোনয়নে যারা প্রার্থী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তে আসছে হুমকি-ধমকি। সম্প্রতি পাঁচলাইশে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন পরিচালকের হুমকির ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় সহযোগী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে আশার কথা হচ্ছে, ওই ঘটনার সাথে জড়িত বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের আগেও নগরীতে একাধিক ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে, মামলাও হয়েছে। কিন্তু আসামীদের গ্রেফতার করা হলেও মূলত অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও মজুদ উদ্ধার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সম্ভব হয়নি। ফলে এ নির্বাচনে নগরীতে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধিসহ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে আগাম যে বার্তা পাওয়া গেছে, তা থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রয়োজন এখনই অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা। বিশেষ করে, নির্বাচনের মত অতি স্পর্শকাতর আয়োজনের আগে বৈধ অস্ত্র সাময়িকভাবে থানায় জমা নেয়া এবং যত বেশি সম্ভব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা জরুরি। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রধারীকে আইনের আওতায় আনতে না পারলে তা জনসমাজে যেমন নিরাপত্তা-হুমকি তৈরি করে, তেমনি নির্বাচনেও ভয়ঙ্কর অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
আশার কথা গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশ দেশে তৈরি এলজিসহ কয়েকজন অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। শুক্রবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানিয়েছে, নগরীতে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এলাকাভিত্তিক বড় ভাইদের হাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের বিশাল মজুদ। আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনে আত্মগোপনে চলে যাওয়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের অনেকে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় ফিরে এসে ফের আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় হয়। শক্তি বৃদ্ধির জন্য তারা ধীরে ধীরে অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার গড়ে তুলেছে। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক লেবাসধারী সেসব বড় ভাইরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে অবৈধ অস্ত্র তুলে দিয়েছে নিজ নিজ এলাকার উঠতি বয়সীদের হাতে। বড় ভাইয়ের প্রশ্রয় আর হাতে অস্ত্র পেয়ে কিশোর বয়সেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা। জননিরাপত্তা পড়েছে চরম হুমকিতে। নগরীতে পুরনো সাম্রাজ্যে ফিরে আসা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের অনেকে নিজ নিজ ডেরায় অবস্থান নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বড় ভাইদের সাথে হাত মিলিয়েছে। আর বড় ভাইরা এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা বা তোলাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাÐে ব্যবহার করছে উঠতি বয়সীদের। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র তুলে দেয়ায় তারা চোখের পলকেই বিপথগামী হচ্ছে। কথায় কথায় কিংবা তুচ্ছ ঘটনায়ও অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে উঠতি বয়সীদের। বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, এসবিবিএল গানের পাশাপাশি দেশে তৈরি এলজিও তাদের হাতে দেখা মেলে। নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতায়ও কেউ কেউ তাদেরকে ব্যবহার করছে বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। আমরা আশা করি, পুলিশ আন্তরিকতার সাথে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।