অবহেলিত জনপদ ফারুয়া

8

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলাধীন ফারুয়া ইউনিয়নের আয়তন ২৮০ বর্গ কিলোমিটার। দেশে এর চেয়ে কম আয়তনের অনেক উপজেলাও রয়েছে। আয়তনে বড় হলেও এ উপজেলায় লোকসংখ্যা অনেক কম। প্রায় ১৮ হাজার নাগরিক অধ্যুষিত এ ইউনিয়নের মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে অনেক দূরে। সড়ক যোগাযোগ নেই বললেই চলে, হাঁটাপথই মানুষের একমাত্র ভরসা। নেই বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারত- তিন দেশের সংযোগস্থল হলেও এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেনি কোন কালেই। এ উপজেলা ঘিরে পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যোগাযোগ দুর্গমতা না কাটলে তা সুদূর পরাহত। এ উপজেলার ধুপপানি ঝর্নার শব্ধ অনেক দূর থেকেই শোনা যায়। ঝর্নার কাছে প্রকৃতির অপরূপ প্রতিচ্ছবি আর মাটির গন্ধে সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়। সর্বত্র উঁচু-নিচু পাহাড় আর পাহাড়।
স্থানীয়রা উৎপাদন করেন নানা জাতের ফল ও শাক-সবজি। কিন্তু এর কোনটাই বাইরে বাজারজাতের সুযোগ নেই। বর্ষা মৌসুমে সামান্য কিছু সবজি ও ফল বাইরে থেকে আসা পাইকাররা সংগ্রহ করেন। কিন্তু এর ব্যবাসায়িক মূল্য উল্লেখ করার মতো নয়।
ফারুয়ায় শবিবার দিন বসে সাপ্তাহিক হাট। নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের পসরা নিয়ে বাজারে বসেন জুমিয়ারা। নানা রকম ফল, সবজি বিক্রি করে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে নিয়ে যান। অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও এ বাজারের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বাজারের অনেকখানি বিলীন হয়ে গেছে রাইংখিয়ং নদীতে। একমাত্র মসজিদটিও ভাঙনের মুখে রয়েছে। ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী লোকসংখ্যা ১৪ হাজার বলা হলেও বর্তমানে এখানে অন্তত ১৮ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। আবার বিদ্যুৎ না থাকায় টেলিভিশন দেখাও যায় না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা থেকে অনকে দূরে এ ১৮ হাজার মানুষ। সোলারের সাহায্যে বর্তমানে কিছু এলাকায় টেলিভিশন দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, ফারুয়া ইউনিয়নে নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ। কাপ্তাই বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও এখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঠেগামুখ স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটার লম্বা প্রস্তাবিত ট্রানজিট সড়কটির ভায়াপথ এ ফারুয়া। সড়কটির কাজ শুরু হলেও চলছে দ্রুত গতিতে। স্থানীয়দের দাবি, তারা যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও শিক্ষার সুযোগ পান। আর হাটবারে শান্তিতে নিজের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো কেনা-বেচার সুযোগ যেন পান।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এ ৩ জেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় মোবাইলের আওতায় এনেছি। দুঃখের বিষয় দুর্গম কিছু এলাকায় যেমন ফারুয়া ইউনিয়ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ এর আওতায় আনতে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজের কারণে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।