অবশেষে পাওয়া গেল মশার ওষুধ

42

ওয়াসিম আহমেদ

মশক নিধনে কীটনাশক প্রয়োগ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবুও মশার কামড় আর মশাবাহিত রোগ থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী। যেন মশার শক্তির কাছে কাবু হয়ে পড়েছে সংস্থাটি। গবেষণা, প্রতিবেদন ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারে কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাইয়ে দিনপার করলেও মশার নিপীড়ন থেকে মানুষ বাঁচতে পারছে না। দিনে কিংবা রাতে খোলা জায়গায় বসলেই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনগণ।
এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত কীটনাশক পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সন্তোষজনক ফলাফল পায়নি চসিক। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সুপারিশকৃত হারবাল কীটনাশক ও সেনাবাহিনী মশক নিধনে যে কীটনাশক ব্যবহার করে তার উপর আস্থা রাখছে সংস্থাটি। একইসাথে খাল-নালা পরিষ্কারের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের হিলভিউ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আলম। মশার যন্ত্রনার কথা জানিয়ে পূর্বদেশকে বলেন, আমার আবাসিকের এক কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। জিইসি মোড়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছেন। বাসা বা বাইরে কোথাও বসা যায় না। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জীবন। কয়েল জ্বালিয়েও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টা তো আর মশারি টাঙিয়ে থাকা যায় না। ৪নং ওয়ার্ডের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার জানান, বিকাল থেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে কয়েল জ্বালিয়ে রাখি। তবুও মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে। তাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভয়ে আছি। কারণ ডেঙ্গু হলে পুরো পারিবারিক জীবন অস্থির হয়ে উঠবে। এভাবে তো থাকা যায় না। শুধু এ দুইজন নয়, নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জনের সাথে কথা বলে একই সমস্যার কথা জানা গেছে।গতকাল চসিকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী পহেলা ডিসেম্বর থেকে মশক নিধন কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে মশক নিধন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে ৪টি জোনে বিভক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রমে ৪টি জোনে ৪ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তদারকীর দায়িত্ব দেয়া হবে। মেয়র বাড়ির আঙ্গিনা, বাগান, নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে চসিক পরিচ্ছন্নকর্মী ও মশার ওষুধ ছিটানো কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহব্বান জানান।
অবশ্য মশক নিধন ও কীটনাশক কেনার বিষয়ে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী পূর্বদেশকে জানান, নগরের পরিবেশগত কারণেও মশা বাড়ছে। জলাধার-খাল-নালাগুলো আলাদা সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আছে। কিন্তু মশা তো সব জায়গা থেকে প্রজনন করছে। আমাদের দায়িত্বে থাকা নালাগুলো পরিষ্কার করছি। এখন আবার পুরো ৪১ ওয়ার্ডজুড়ে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু সিডিএ যেসব খালে কাজ করছে সেখানে পানি আটকে রেখেছে, এতে মশার প্রজনন হচ্ছে। এসব সমস্যা নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখবো। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রচলিতভাবে কালো তেল ব্যবহার করি। এ ছাড়া চবির গবেষক দলের মসকুবার কীটনাশক ও সেনাবাহিন-নৌবাহিনী যে কীটনাশক ব্যবহার করে সেটা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করে তা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মশক নিধনে কোটি টাকার ওষুধ ছিটানোর পরও মশার অসহনীয় কামড় ও রোগব্যাধি থামছে না। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারস্থ হন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এরই প্রেক্ষিতে নগরীর ৫৭টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মশার ওপর পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ চালায় চবির একটি গবেষক দল। গত ২ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে চসিকের লার্ভিসাইড হিসেবে ব্যবহৃত ক্লোরপাইরিফস এম ফস ২০ ইসি এবং লিকুইড এডাল্টিসাইড হিসেবে ব্যবহৃত ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন-ডেল্টামেথ্রিন কীটনাশককে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করা হয়। একইসাথে কীটনাশক ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে জৈবিক উপায়ে মশক নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয় গবেষক দল। এরপর চসিকের বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি দেশের প্রচরিত ওষুধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। তার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলক ব্যবহারে যায় সিটি করপোরেশন।