অফিস সহকারীই সর্বেসর্বা

101

ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তৃতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ট্রেডমার্ক। সাধারণ মানুষের মাঝে ট্রেডমার্কের গুরুত্ব বাড়লেও পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অফিস অবহেলিতই রয়ে গেছে। মাত্র একজন ‘পিয়ন’ ও একজন ‘নৌশ প্রহরী’ দিয়েই চলছে পুরো চট্টগ্রামের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্কস কার্যক্রম। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।
শুধু বাণিজ্যিক প্রসারই নয়, ট্রেডমার্ক বা লোগোর মাধ্যমে বাড়ে প্রতিষ্ঠানের সুনামও। স্বতন্ত্র ট্রেডমার্ক বা লোগো ভোক্তাদের আগ্রহের কারণ হয়েও দাঁড়ায়। কমে যায় পণ্যের চুরি বা নকল হওয়ার সম্ভাবনা। এজন্য প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে নিতে হয় এ রেজিস্ট্রেশন। পাকিস্তান আমল থেকেই পণ্যের ট্রেডমার্কস রেজিস্ট্রেশনের এ কার্যক্রম চলে আসলেও কালের পরিক্রমায় এতে পেটেন্ট ও ডিজাইনও যুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত) পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬টি আবেদন জমা পড়ে। তবে এরমধ্যে কতটি ট্রেডমার্কের অনুমোদন পাওয়া গেছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই এ কার্যালয়ে। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক রিপন বড়–য়া বলেন, কেউ ট্রেডমার্কস করার জন্য আসলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি দিয়ে আবেদন করলে আমরা সেগুলো ঢাকা অফিসে পাঠাই। বাকি কাজগুলো ঢাকা অফিসে থেকে করা হয়।
আগ্রাবাদে মাত্র ৪ কক্ষের একটি অফিসে চলছে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম। এ অফিসের দায়িতে আছেন একজন অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক এবং একজন নৌশ প্রহরী। বিভাগীয় অফিসের কার্যক্রম বলতে শুধুমাত্র আবেদন গ্রহণ করা। এরপর সে আবেদন পাঠিয়ে দেয়া হয় প্রধান কার্যালয়ে। যার কারণে চট্টগ্রামে আবেদনকারীদের পড়তে হয় নানা দুর্ভোগে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসের এমন নাজুক অবস্থার কারণ জানতে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার মো. সানোয়ার হোসেন এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ওবায়দুর রহমানের মোবাইলে একাধিকাবার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।
ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তৃতির সাথে পণ্যের প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। নকল পণ্য বাজারে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে মূল পণ্যের মালিকের ক্ষতি হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক মার্কা শুধু নিবন্ধনকারী ব্যবসায়ী ব্যবহার করার একচেটিয়া আইনি অধিকার রাখেন। স্বত্বাধিকারী ব্যতীত অন্য কেউ কোনো পণ্যের বাণিজ্যিক মার্কা নিয়ে ব্যবসা করলে বা বিজ্ঞাপন দিলে, তা আইনত দÐণীয় অপরাধ। ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, পেটেন্ট হলো একটি দেশের কোনো উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনী পণ্যসেবাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এককভাবে তৈরি, বিতরণ ও সংরক্ষণ করার অধিকার সনদ। ডিজাইন হলো, হাতে বা যন্ত্রে প্রস্তুত করা দৃশ্যমান নকশা, যা কোনো প্রস্তুত পণ্যে ব্যবহার করা যায় এবং ট্রেডমার্ক হলো, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্যসূচক চিহ্ন, যা ওই ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের পণ্যসেবাকে সমজাতীয় অন্যান্য পণ্যসেবা থেকে আলাদা করে।