অপেক্ষার কষ্ট শেষে ১০ মিনিটের আনন্দ ভ্রমণ

19

পূর্বদেশ ডেস্ক

দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা শেষে বাইরের ভিড় ঠেলে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের দোতলা থেকে টিকিট কেটে তৃতীয় তলায় গিয়ে দাঁড়াতেই বাঁশি বাজলো মেট্রো ট্রেনের; সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে ট্রেন ছোটা শুরু করতেই হৈ চৈ পড়ে গেল ভেতরে। সেই হুল্লোরের রেশ থামতে না থামতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে যাত্রীরা উত্তরায় পৌঁছে গেলেন ঠিক ৯টা ২৪ মিনিটে। আগারগাঁও থেকে উত্তরায় গিয়ে ১০ মিনিটেই ট্রেন থেকে নামলেন যাত্রীরা। উড়াল পথে রেলে চড়ার নতুন এ অভিজ্ঞতা আনন্দের অনুভূতি ছড়ালো তাদের মাঝে। কেটে গেল আগারগাঁও স্টেশনে ঢোকার জন্য বাইরের দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি। যানজটের যন্ত্রণা ছাড়াই এত স্বল্প সময়ে এটুকু পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা হল অনেকেরই। খবর বিডিনিউজ।
ঢাকাবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল উদ্বোধনের একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর বুক চিরে ছুঁটতে শুরু করেছে দেশের প্রথম মেট্রো ট্রেন। যাত্রা শুরুর প্রথম দিন স্বপ্নের ট্রেনে চড়তে কাকডাকা ভোরেই আগারগাঁও স্টেশনে হাজির হয়েছিলেন আগ্রহী অনেকেই। মূল গেটের বাইরে দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে তাদের। ভেতরে টিকিট কাটার স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ত্রæটির কারণেও বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে কারও কারও। তবে ম্যানুয়ালি টিকিট কাটার পর মেট্রো ট্রেনে উঠতেই সব ভোগান্তির ছাপ যেন উধাও হয়ে গেছে ঢাকায় প্রথম মেট্রোতে চড়ার শখ মেটাতে আসা মানুষদের। যাত্রা শুরু করতেই যাত্রীদের শুভকামনা জানিয়েছে মেট্রো ট্রেন। শিশু আর তরুণরা তখন আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন। যাত্রীদের হাতে থাকা মোবাইল আর ভিডিও ক্যামেরাগুলোও সচল হয়ে যায়। অনেককে ফেসবুক লাইভ করতেও দেখা যায়। কেউবা বাইরে তাকিয়ে চোখ জুড়াচ্ছিলেন।
আগারগাঁও থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনে যাওয়ার পথে কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জিন্নাত মোল্ল্যার সঙ্গে। তার বাসা উত্তরার কাওলায়।
তিনি বলেন, কোনো প্রয়োজনে না, দুই মেয়েকে নিয়ে এমনিতে ঘুরতে বের হয়েছি। মাত্র ১০ মিনিটে এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যাওয়া যে যায়, এটাতে না চড়লে বোঝা যাবে না। পাশে বসা ছোট মেয়ে এবং সামনে সিটে বসা বড় মেয়েকে নিয়ে মেট্রো ট্রেনে উত্তরা থেকে আগারগাঁও গিয়ে আবার উত্তরা উত্তর স্টেশনে ফিরছিলেন তিনি।
ট্রেনের ভেতরে বেশ কয়েকজন ইউটিউবারেরও দেখা মেলে। তারাও ভিডিও করার পাশাপাশি পিটিসি দিচ্ছিলেন। এক বগি থেকে আরেক বগিতে যাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই একটি থেকে আরেকটিতে যাচ্ছিলেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেল খুলে দেওয়ার পর প্রথম সকালে যাত্রী হয়েছেন তারা ।
আগারগাঁও ছাড়ার পর পরের স্টেশনে না থামার ঘোষণাও দেওয়া হয় বগির ভেতরে। বগিতে নির্ধারিত স্ক্রিনে ‘পরবর্তী স্টেশন উত্তরা উত্তর’ লেখাও দেখা যায়। মিরপুর ১১ নম্বর অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসে অপর একটি মেট্রো ট্রেন। সেটি দেখেও উৎফুল্ল হয়ে চিৎকার দেন অনেকে। একে অপরকে সেই দৃশ্য দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছার ঠিক আগ মুহূর্তে পশ্চিম দিকের দরজা দিয়ে বের হওয়ার ঘোষণা ভেসে আসে। আগারগাঁও স্টেশনে ট্রেনে প্রবেশের সময় পূর্ব দিকের দরজা ব্যবহার করতে হয়েছিল।
আগের ঘোষণা অনুযায়ীই আগারগাঁও থেকে উত্তরার পথে মাঝে কোনো স্টেশনে থামেনি ট্রেন। স্টেশনে পৌঁছানোর আগে গতি কমিয়েছে, ধীরে ধীরে প্লাটফর্মে দাঁড়ানোর পর খুলে গেছে স্বয়ংক্রিয় দরজা, নেমে পড়েছেন সবাই।
শুরুতে মেট্রোরেল চলছে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁওয়ের ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমটার পথ, মাঝের সাত স্টেশনে থামছে না তা। শুরুতে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কয়েক মিনিট বিরতি দিয়েই টানা চলেছে প্রথম দিন।

ট্রেনে ওঠার পথ ফুটপাথ থেকে কলসিবল গেট পেরিয়ে সাধারণ সিঁড়ি বা চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে দোতালায় উঠে একটু হেঁটে মূল প্ল্যাটফর্ম। তার পাশেই চোখে পড়ে টিকিট কাউন্টার। আগারগাঁও বা উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তে একই দৃশ্য এটি। বাইরে ফুটপাথে শতশত মানুষ লাইনে দাঁড়ালেও প্ল্যাটফর্মে তুলনামূলক যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল প্রথম দিন। প্ল্যাটফর্মের দুইদিকে টিকিট কাটার মেশিন। ম্যানুয়াল কাউন্টারের সঙ্গে ‘বাড়তি ভাড়া আদায় কাউন্টার’ও রয়েছে। জরিমানা আদায়ের জন্য এ বাড়তি ভাড়া কাউন্টার হলেও অন্য টিকিট কাটার মেশিন বিকল হওয়ায় গতকাল এ কাউন্টার থেকেই সাধারণ টিকিট দেওয়া হচ্ছিল। টিকিট কেটে সাধারণ সিঁড়ি বা চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে তিন তলায় উঠেই মূল প্ল্যাটফর্ম এবং মেট্রোরেলে ওঠার মুখ। আগারগাঁও ও উত্তর উত্তরা স্টেশনে ঢোকার আগে ফুটপাথ ধরেই পঙ্গু, অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে লিফট। এ লিফটে দোতালায় যাওয়া যায় এবং টিকিট কেটে আবার লিফটে করে তিনতলায় উঠে একেবারে মেট্রোরেলে উঠার মুখে পৌঁছানো যায়।