অন্য রকম ডাবলের অপেক্ষায় মাহমুদুল্লা

4

‘সাইলেন্ট কিলার’ নামটা মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে খুব একটা বেমানান নয়। অনেক বড় বড় জয়ে অবদান রাখলেও কখনোই আলোয় থাকেন না তিনি। নীরবেই সবার অলক্ষ্যে নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন নিয়মিত! দলের বিপদে ইনিংস মেরামত করায় মাহমুদউল্লাহর জুড়ি নেই। তার ভক্তরা তাই তো তাকে ‘ক্রাইসিস ম্যান’ হিসেবেও ডেকে থাকেন। কারণ ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী মাহমুদউল্লাহ। সেই ব্যক্তিটিই মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের ২০০তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলতে নামবেন।
মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এর পর নিজের শততম ওয়ানডে খেলেছেন ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইশতম ওয়ানডে খেলার সুযোগ তার সামনে।
বাংলাদেশের হয়ে ২০০ ওয়ানডে খেলার কৃতিত্ব আছে কেবল চারজনের। ২২৭ ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে শীর্ষে আছেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবালের ম্যাচ সংখ্যা ২১৮টি। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাকিব আল হাসান খেলেছেন ২১৪টি ম্যাচ।
পরিসংখ্যান দিয়ে হয়তো মাহমুদউল্লাহকে বিচার করা যাবে না। পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে বহুবার তিনি দলকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি করে নিজের নামটা রেকর্ড বুকে তোলার পরও মাহমুদউল্লাহ পার্শ্বনায়ক হয়েই ছিলেন। ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানই। এমন অনেক বড় বড় জয়ে অবদান রেখেছেন তিনি।
মাহমুদউল্লাহ ১৯৯ ওয়ানডেতে ৩৪.৯১ গড়ে ৪ হাজার ৪৬৯ রান করেছেন। নামের পাশে আছে তিন সেঞ্চুরি, ২৫টি হাফ সেঞ্চুরি। এছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ৭৬ উইকেট। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা ৫ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম- ২২৭ ওয়ানডে; মাশরাফি বিন মুর্তজা- ২১৮ ওয়ানডে; তামিম ইকবাল- ২১৮ ওয়ানডে; সাকিব আল হাসান- ২১৪ ওয়ানডে; মাহমুদউল্লাহ-১৯৯ ওয়ানডে।