অনিয়মেই নিয়ম

37

 

লড়াই করে বেঁচে থাকার নামই জীবন। হাল ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। এটাই জেনেও মেনে চলার চেষ্টা অনবরত। তবে কিছু বিষয় ইদানীং চোখের সামনে বারবার আঘাত করে জানিয়ে চলেছে আসলে আমরা কিসের সাথে লড়াই করে চলেছি? নিয়ম? -—নাকি অনিয়মের সাথে?
বর্তমানে অভিজ্ঞতার কোন মূল্য নেই, যদি নিজের ঢোল নিজে না পিটিয়ে জানান দেন সবাইকে। তা না হলে কেউ আপনার অভিজ্ঞতার মূল্য দিবে না,অনেকটা জোর করে আদায় করে প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়ার মতো। মন যাদের উদার,অনেক ভালোবাসায় ভরা,মানুষের উপকার করতে ব্যস্ত,সেই সব মানুষদের প্রতি পদে পদে আঘাত পেতে হয়,হতে হয় অপমানিত।
আবার অনেক গুণ থাকা মানুষগুলোকে ঘরের খুব আপন মানুষরাই উপরে উঠতে বাধা দেয় প্রতিনিয়ত। তখন খুব প্রতিভাবান হওয়া সত্তে¡ও সেই প্রতিভাগুলোর মৃত্যু ঘটে আপন জনের হাতে একটু একটু করে।
কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি হয় অযোগ্য লোকের, যোগ্য লোকেরা একই জায়গায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। যারা যত তেল বা তোষামোদ করতে জানে,তারাই সুযোগ ও সুবিধা পান সবচেয়ে বেশি। আর তেল বা তোষামোদ করতে না জানা ব্যক্তিরা নিচে পড়ে যান ঐ তেলে পিছলে পড়ে গিয়ে।
ডাক্তার আছে বলে ই যেন রোগীরা বেঁচে থাকেন, রোগীদের জন্য ডাক্তার নয়,বরং ডাক্তার আছে বলে রোগীর কদর। কয়েকদিন আগে ডাক্তারের সিরিয়াল নেয়া রোগীকে অপেক্ষা করতে হয়,ঘন্টার পর ঘন্টা,আর ফোন পেয়ে তৎক্ষণাৎ এসে রোগী ঢুকে যান উপর মহলের তদবিরে।
অসহায় গরিব লোকেরা বিনা চিকিৎসায় মারা যায়,আর বড়লোকদের সামান্য জ্বরেও কয়েকজন ডাক্তার বসে থাকেন জ্বর না কমানো পর্যন্ত।
সুন্দর কন্ঠস্বর ও পারদর্শীদের টিভিতে সুযোগ হয় না, যারা গান জানে না তাদের বড় বড় মামা চাচার একটা ফোনেই চান্স হয়ে যায় অনায়াসে।
চাকরি ক্ষেত্রে যোগ্যতা সবচেয়ে বড় মাপকাঠি নয় এখন,বরং উপরি কিছু দরকার। আসলে কাজের ক্ষেত্রে ও সুন্দর মনের বা ভালো কাজের থেকে সুন্দর রূপের দাম অনেক বেশি। সরকারি অফিসে কাজের জন্য অনেক ঘোরাঘুরি করতে হয়,অথচ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে খুব দ্রæত হয়ে যায়।
যাদের আপনি খুব আপন ভেবে সব বলবেন, বিশ্বাস করবেন, সেই -ই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা করবে আপনার সাথে।
এখনও যারা ভালো কাজ নিয়ে চলে, ভালো কথা ভাবে তাদের প্রতিনিয়ত আঘাত পেতে হয়। আসুন অনিয়মের বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আবার সুন্দর একটা পৃথিবী গড়ি। যেখানে সকল ভালোর মূল্যায়ন হবে প্রতিনিয়ত। জটিলতায় ভরা জীবন ছাপিয়ে মন খুঁজে চলে সহজ একটা জীবন।