অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের জীবন কথা

193

জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম ১৯২৮ সনে পটিয়া থানার মোহাম্মদপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ওফাত হন। আসছে ২৪ জানুয়ারি তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এই তারিখকে সামনে রেখেই বর্তমান লেখার অবতারনা। স্কুল জীবন আমার গ্রামেই কাটে। বস্তুত মেট্রিক পাস করার আগে কখনো শহর দেখিনি। এ সময়কার একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার কথা মনে পড়ে। একবার আমি জ্বরে আক্রান্ত হই। সপ্তাহখানেক ধরে ঊর্ধ্বগতি। তখন গ্রামের অর্ধশিক্ষিত ডাক্তার বলল ‘সন্নিপাত’। এ জ্বরের পরিণতি তখনকার দিনে ছিল ভয়াবহ। ক্লোরোমাইসেটিন তখনো আবিষ্কার হয়নি। নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে মৃত্যু, না হয় অঙ্গহানি। এমন একটা রোগের কথা শুনে মা স্বভাবত আঁতকে উঠলেন। কিছুক্ষণের জন্য আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গে মাকে বলতে শুনি, ‘আল্লাহ! জীবের বদলে জীব দেব। জানের বদলে জান। তুমি আমার ছেলেকে বাঁচাও। তার অসুখটা আমাকে দাও।’ বারবার তিনি এ কথা বলতে লাগলেন। পরের দিন থেকে মা পড়ে গেলেন বিছানায়, আমার জ্বরের নিম্নগতি। কয়েক দিনের মধ্যে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম। মায়ের সুস্থ হতে সময় লাগল। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকে হয়তো পরিহাস করবেন। আমি বলি এটা আমার অভিজ্ঞতা। একটা প্রকৃত ঘটনার বিবরণ। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নয়। আমরাতো সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। বিজ্ঞানের যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই সব ভাল জানেন। কোনো মেহমান তাঁর কাছ থেকে কিছু না খেয়ে গেছেন এমন জানা নেই। মুড়ি থেকে মিষ্টি, আম থেকে আনারস, তা না হলে অন্তত দু-একটা ভাঙা বিস্কিট হয় কাগজে মোড়ানো, নয়তো টিনের কোটায় তাঁর কাছে থাকবেই। তাঁর বিশ্বাস মেহমানদারিতে বরকত হয়। অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে যখন দুপুরবেলা ঘরে ফিরি, বৈঠকখানায় মায়ের সঙ্গে বসে থাকা দু-একজনকে দেখলে মাঝে মাঝে কথা না বলে ভেতরে চলে যাই। হাত মুখ ধুয়ে তৈরি হই খাবার খেতে। মা আস্তে আস্তে ভেতরে এসে উপদেশ দেন, ‘ওরা গাঁয়ের মানুষ, হাসিমুখে কুশল জিজ্ঞেস করলেও মনে করবে আকাশ পেয়েছে।’ মায়ের কথা মেনে নিয়ে তাঁর উপদেশমতো কাজ করি। মেহমানদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।
মাকে নিয়ে ডা. নুরুল ইসলাম স্যারের আরেকটি প্রসঙ্গ। তাঁর মা বলতেন যে কোন অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সারাজীবন আমি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি একটি মাত্র কারণে-অন্যায় না করলে কোনদিন ভয় করবে না। তিনি বলেছেন ‘জীবনের প্রতি দুর্বিপাকে আমার স্নেহময়ী মায়ের এ সরল উক্তি আমাকে সাহসী নয়, বলতে গেলে দুঃসাহসী করে তুলেছে।’
স্কুলের প্রায় প্রতিজন শিক্ষকের কথা তিনি স্মরণ করেন পরম মমতার সাথে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধান শিক্ষক গিরিজাশংকর চৌধুরী। প্রধান শিক্ষক গিরিজাবাবু বন্ধু-পুত্র মৃনালকে বাঁচাতে গিয়ে যেভাবে স্বেচ্ছায় সলির-সমাধি হয়েছে সে মর্মস্পর্শী ঘটনা ড. ইসলামকে আজও পীড়িত করে চলেছে নানাভাবে। তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের কতটুকু নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পেরেছি জানিনা। তবে আমার সামান্য কৃতিত্বের বিরাট অংশীদার আমার পরম শ্রদ্ধেয় হেড মাস্টার।
তিনি আজও মনে রেখেছেন সফল সিএসপি কে.এম. আহসানের জীবনঘনিষ্ঠ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা। ‘জীবনের গতিপথে যে যত বেশি সফলতা লাভ করবেন, সুনাম অর্জন করবেন, শত্রু সংখ্যাও ততই বাড়বে। আপনি যতই ন্যায় কাজ করুন না কেন, অনেকেই সেটাকে অন্যায় রূপে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করবে, কাজে বাধা দেবে-’। সময়ের প্রতি পরিপূর্ণভাবে সজাগ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম। সুদীর্ঘ চাকুরী জীবনের ইতিহাসে একদিনের জন্যও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। পিজি’র দীর্ঘ চাকুরীজীবনে তাঁর সম্পর্কে একটা প্রবাদতুল্য কথা প্রচলিত ছিল-ক্যাম্পাসে ডা. ইসলামের গাড়ি ঢোকা মানেই সকাল ৭ টা বাজা। ‘হঠাৎ পায়ে ধরে সালাম, কথায় কথায় ‘স্যার’ কিংবা হুজুর, অথবা আপনি আমার বাপের মতো, অথবা আপনি আমার জন্য যা করেছেন তা জীবনেও ভুলবো না, আর যাই হই অকৃতজ্ঞ হতে পারব না- এই ধরনের আচরণ কিংবা কথাবার্তা যাঁদের কাছ থেকে পেয়েছি কিংবা শুনেছি পরবর্তীতে তাদের আসল রূপ ধরা পড়েছে বহুলাংশে তিক্ততার মাধ্যমে।’ ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত চিকিৎসক থাকাকালীন সময় এই ধরনের অনেক চরিত্র স্বচক্ষে দেখা এবং তাদের সাজানো কথা শোনার সুযোগ আমার ঘটেছিল। তাই বঙ্গবন্ধুকে একদিন বলেছিলাম, আপনার প্রথম সিদ্ধান্ত সঠিক থাকে। পরবর্তীতে কোথায় যেন গোলমাল বেঁধে যায়।’ কথাগুলো শুনে তিনি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন, ডাক্তার সাহেব ঠিকই বলেছেন। অনেক ব্যাপারে আমি যখন একা একা সিদ্ধান্ত নিই ঠিকই নিই। পরে শয়তানেরা এসে গোলমাল করে দেয়। রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবকে কোন এক গুরুত্বপূর্ণ সভার মধ্যেই বলেছিলাম, ‘আল্লাহতায়ালা শয়তান সৃষ্টি করেছেন একজন অথচ পয়গাম্বরের সংখ্যা এক লাখ চব্বিশ হাজার। একজন শয়তানের দাপটে সবাই হিমশিম খায়।’
বরখাস্ত হয়ে পিজি ছাড়তে গাড়িতে উঠার আগে আকস্মিকভাবে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ‘আপনারা আমাকে বিদায় দেবেন না। দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ পি.জি.তে আমি একদিন-না হয় একদিন ফিরে আসবই।’ গাড়িতে বসে ভাবছিলাম, অকপটে যাঁদের সাহায্য করেছি, সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে পেশাগত যোগ্যতার খাতিরে ভালো মনে করে যাঁদের পি.জি.তে নিয়ে এসেছি, তাঁরা আজ কোথায়? কৃতজ্ঞতা চাইনি। এমন একটা দিনে অন্তত এতটুকু সমবেদনা কি আমার পাওনা ছিল না?
ইশতিয়াক সাহেবের বাড়ি যাওয়া প্রায় সময় দরকার হত কেসের কারণে। আমার স্ত্রী ব্যস্ত তাকত কাগজপত্র সব ঠিক করে রাখতে। চাকরিজীবনের শুরু থেকে কত-যে বিপাকে পড়েছি, তার বিবরণী হিসেবে একটা পুস্তিকা প্রকাশ করা যাবে। সব কাহিনীর নথিপত্র আমার গোছানো। ব্যারিস্টার সাহেব তো একদিন বলেই দিলেন কি করে এত কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পারলাম। আমি বললাম, প্রশংসা গিন্নির পাওনা। কেন জানি মনে হত এগুলো কোনো-না কোনোদিন কাজে লাগবে।
অনেকের মুখের এবং মনের কথায় মিল খুঁজে পেতাম না। এমন একটা অস্থির পরিবেশে যিনি এগিয়ে এসেছিলেন তিনি হলেন সর্বজনপরিচিত ছাত্রনেতা জনাব নুরে আলম সিদ্দিকী। একদিন গভীর রাতে এসে তিনি বলেছিলেন মামলা চালাতে গিয়ে যদি আমার অর্থের অভাব হয়, সমস্ত ব্যয় তিনিই বহন করবেন। ততটুকু সামর্থ্য আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন। আমি যেন কিছুতেই মামলা বন্ধ না করি। সেদিনের তাঁর অন্তরের কথাগুলো কখনো ভুলতে পারব না।
সরকারি নির্দেশে পি.জি থেকে (সাময়িকভাবে) বিদায় নেবার বেলায় যাঁদের দেখিনি, যাঁরা পি.জি. থেকে আমার চিরবিদায়ের প্রত্যাশী ছিলেন, জেতার পর তাঁরা এলেন সবার আগে। শুধু তাই নয়, সরকারি ‘অবিচারের’ বিরুদ্ধে আজ তাঁরা সোচ্চার। যে-অবস্থায় এঁদের মুখোমুখি হতে হল তেমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অনেকের উপস্থিতির ত্বরিত গতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব, আমার প্রতি সীমাহীন দরদ দেখে মনে পড়ল সেদিন ওনারা কোথায় ছিলেন ?
মাত্র কয়েকদিন আগে কবীর সাহেবের দোকানে আগুন লেগেছিল। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক লাখ টাকা। অন্য কারো হলে কীভাবে নিতেন জানি না, তিনি এ ক্ষতিকে সহজেই মেনে নিয়েছেন। তাঁর ব্যবহার, আতিথেয়তা এবং চট্টগ্রাম সমিতির সাহায্যের ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখে মনে হল, এ ক্ষতিকে অত্যন্ত সাময়িক ব্যাপার বলে তিনি মেনে নিয়েছেন। দুঃখজক হলেও অগ্নিকান্ড এবং তার ক্ষয়ক্ষতি তাঁর মনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাইরে চলে আসার সময় পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র যখন সব দেখালেন, আশ্চর্য হলাম তাঁর মনোবল দেখে। ভাবলাম দান করে কেউ গরিব হয় না, এ যেন তাঁর নীতি।
ডাক্তার হিসেবে কালের বিচারে ড. ইসলামের প্রেসক্রিপশনের ঐতিহাসিক বড় বিশেষত্ব হল, তিনি ছিলেন অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বর্জনের পক্ষপাতি। পরিমাণ ও টাকার অংকে অতি অল্প এবং সহলভ্য ঔষধ দিয়ে রোগী ভাল করার ক্ষেত্রেই তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাসী। সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার লক্ষ লক্ষ রোগীর সফল চিকিৎসাই এর চলমান দৃষ্টান্ত। মাওলানা ভাসানী, পল্লী কবি জসীম উদ্দীন, সওগাত-সম্পাদক নাসিরউদ্দিন, কবি সুফিয়া কামাল এঁরা ছিলেন ড. ইসলামের প্রেসক্রিপশনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ (ডক্টর সেলিম জাহাঙ্গীর)। একবার গববঃরহম চলাকালীন অবস্থায় জনৈক ঝুহফরপধঃব গবসনবৎ স্যারকে প্রশ্ন করলেন, স্যার আমি একজন গবসনবৎ হিসাবে গাড়ি চাইতে পারি এবং আমাকে আনার জন্য একটি ঝঃধঃরড়হ ডধমড়হ পাঠানো হয়েছিল। স্যার আপনি একমাত্র ঋড়ঁহফবৎ ঠরপব ঈযধহপবষষড়ৎ, স্যার আপনার থাকবে, ইগড বা গবৎপবফবু ইবহু, স্যার বললেন, প্রফেসর সাহেব ও ধস ংবষভ রফবহঃরভরবফ, আমার এগুলির দরকার নেই (ডা. এইচ.এম. ইছহাক চৌধুরী)।
বর্তমানে আমি ইউএসটিসিতে সার্জারী বিভাগে কর্মরত আছি। চাকুরীতে যোগদানের আগে স্যারের সাথে কথোপকথনের কথা মনে পড়ছে। আমার যোগদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর স্যার আমার স্ত্রীকে বললেন (আমার স্ত্রীও ইউএসটিসি’র ফিজিওলজি বিভাগে কর্মরত আাছেন) ডা. সাবিনা আমি একটা সওয়াবের কাজ করলাম। আমরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি-চাকুরী পেয়ে লাভ হলো আমাদের, স্যারের সওয়াব হলো কিভাবে? স্যার বোধহয় আমাদের মনের কথা বুঝতে পারলেন, বললেন এই যে, আমি স্বামী স্ত্রী দুইজনকেই এক করে দিলাম। এতেই আমার মনের আশা পূর্ণ হল (ডা. বদিউল আলম)। আর একবার একজনকে টিচার হিসাবে নেওয়ার জন্য আমার কাছে পাঠালেন। আমি তার বায়োডাটা দেখলাম এবং আমার কাছে উপযুক্ত মনে হয়নি। আমি স্যারের উপর মনে মনে একটু রাগ করলাম এবং বলেছিলাম রেজাল্ট দেখে আপনি না করে দিতে পারতেন। কিন্তু আমার মতামতের জন্য কেন পাঠালেন? স্যার বললেন আমার কাজ আমি করেছি। আপনার কাজ আপনি করুন (লেখক)।
আমার পিএইচডি হওয়ার পর ডিসেম্বর ২০১২ সনে যখন অংংড়পরধঃব চৎড়ভবংংড়ৎ এর ওহঃবৎারবি দিতে গেলাম, তখন স্যারকে এত আনন্দিত হতে দেখলাম যে, মনে হল পিএইচডি টা যেন স্যারের হয়েছে। একজন মানুষ কত মহৎ হৃদয়ের অধিকারী হলে অন্যের আনন্দে নিজে এতটা পুলকিত হন তা আমি এই প্রথম দেখলাম (ড. মোজাম্মেল হক)। মিতব্যয়ী, অল্প আহারী ও সময়ানুবর্তিতা ছিলো ডা. নুরুল ইসলাম স্যারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কখনো বিলাস-বহুল গাড়িতে চড়তে দেখিনি। খাওয়া-দাওয়া করতেন খুবই পরিমিত। বলতেন ‘না খেয়ে কেউ মরে না, খেয়েই মরে।’
ঐব যধফ ঃযব মরভঃবফ ংশরষষ ড়ভ ঢ়ৎড়ারফরহম ংঢ়বপরভরপ ফরধমহড়ংরং, বসঢ়যধংরুরহম হড়হ-ফৎঁম ঃৎবধঃসবহঃ ধহফ ঢ়ৎবংপৎরনরহম াবৎু ভবি সবফরপরহবং রহ সড়ংঃ ড়ভ ঃযব পধংবং ষড়ি পড়ংঃ ড়হবং. ওহ ঘধঃরড়হধষ চৎড়ভবংংড়ৎ ঘ. ওংষধস, ড়হব পধহ রসধমরহব ধ মৎবধঃ ঢ়যুংরপরধহ, ধ মৎবধঃ সবফরপধষ ঃবধপযবৎ যধারহম ধষষ বীঃৎধড়ৎফরহধৎু য়ঁধষরঃরবং ভড়ৎ সবহঃড়ৎরহম ঃড় ঢ়ৎড়ারফব ঃড়ঃধষ পধৎব ঃড় ঃযব ঢ়ধঃরবহঃ রহ যড়ষরংঃরপ সধহহবৎ (গ. অ. ঋধরু).
১৯৯০ সনের কথা। আমার মেঝ বোন ও ভগ্নিপতি কলকাতায় অবস্থানরত। তাঁর বড় ছেলের একবার পায়ের সমস্যা দেখা দিল। কোলকাতার নামি দামি হসপিটালে নেওয়া হলো। সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডাক্তার বললেন তার পায়ের একাংশ কেটে ফেলতে হবে। কারণ ইনফেকশন দ্রæত ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং দ্রæত তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বোন ও ভগ্নিপতির উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। একমাত্র ভরসা এখন ডাক্তার চাচা। আমার বোন ডাক্তার চাচার সাথে টেলিফোনে কথা বললো। ভাগিনার সমস্ত টেস্ট রিপোর্ট ও ডাক্তারদের মতামত শোনালেন। ডাক্তার চাচার বজ্রকঠিন সিদ্ধান্ত কিছুই করতে হবে না। ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে আস। ডাক্তার চাচার দূরদর্শিতা ও ডাক্তারি বিদ্যায় অসামান্য পারদর্শিতা আমার ভাগিনাকে পঙ্গুত্ব থেকে রেহাই দিয়েছিল (মো. ফায়াজ খান)।
অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শুধু একজন ডাক্তারই ছিলেন না। তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ চিকিৎসক, সফল শিক্ষক, সফল পরিচালক, গবেষক এবং একজন ¯েœহপরায়ন অভিভাবক। চিরজীবন তিনি মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন (অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ)। পরিশেষে জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম স্যার, তাঁর স্ত্রী মিসেস আনোয়ারা ইসলাম এবং স্নেহময়ী মাতা গুল মেহেরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যে তাঁদের সবচেয়ে ভাল বেহেস্ত নসীব করেন। আরো দোয়া করি তাঁর ছেলে ইফতেখারুল ইসলাম (ক্রিয়েটিভ জিনিয়াস হিসেবে পরিচিত), ইঞ্জিনিয়ার দীনা ইসলাম ও ডা. নীনা ইসলাম সুস্থ ও সবল মনে স্যারের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ইউএসটিসিকে ঈবহঃৎব ড়ভ ঊীপবষষবহপব হিসেবে রূপ দিতে পারেন।
উৎস : এই লেখাটি লেখকের সম্পাদিত বই ‘জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম (১৯২৮-২০১৩) শুভানুধ্যায়ীদের দৃষ্টিতে’; ‘তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম: জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম” এবং জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম স্যারের জীবনীগ্রন্থ ‘জীবনস্রোতে’ অবলম্বনে রচিত।

লেখক : প্রাক্তন ডিন, এফবিএ, ইউএসটিসি