অতিরিক্ত সময়ে শিরোপার স্বপ্ন ভাঙলো যুবাদের

5

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুর্দান্ত লড়াই। কখনো মনে হয়েছে বাংলাদেশ জিতবে আবার কখনো ভারত। সিনিয়র নারী অথবা পুরুষ দলের কেউ নিকট অতীতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে না পারলেও অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে সুযোগ ছিল যুবাদের সামনে। নির্ধারিত সময়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর পথেই ছিল তারা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ২-২ স্কোরলাইন শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলের ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।
গতকাল রাতে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের ২০ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় ভারত। এ সময় ভারতের হিমাংশু জাংগ্রা ডি বক্সের বাইরে থেকে গোলপোস্টে আচমকা শট নেন। সেটা ঠিকভাবে ধরতে পারেননি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মো. আসিফ। বল সামনে চলে আসে। সেটাতে কিক নিতে যান ভারতের গুরকিরাত সিং। আর আসিফ আসেন ধরতে। তার পায়ে লেগে ভূপাতিত হন গুরকিরাত, মালদ্বীপের রেফারি হুসাইন সিনান পেনাল্টির বাঁশি বাজান।পেনাল্টি থেকে গুরকিরাত গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এটা ছিল চলতি আসরে তার পঞ্চম গোল। ৫ গোল নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন। বাংলাদেশের মিরাজুল ইসলাম ৪ গোল নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।
দশম মিনিটে বাংলাদেশ সমতা ফেরাতে পারতো। কিন্তু ডি বক্সের বাইরে থেকে রফিকুল ইসলামের নেওয়া শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা এগোয়।
তার মধ্যে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। এ সময় বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম ডানদিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন। ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে শট নেন। বল ভারতের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে চলে আসে রাজনের কাছে। রাজন জটলার মধ্য থেকে ডান পায়ে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান। তাতে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক পায় বাংলাদেশ। ফ্রি কিক থেকে ইমরান খানের নেওয়া শট ডি বক্সের মধ্যে ভারতের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ভিবিন ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন। বল উপরে উঠে যায়। সেটাতে হেড দিয়ে সামনে থাকা শাহীনের কাছে দেন জনি। শাহীন জোরালো শটে জালে পাঠান বল।
৫৯ মিনিটে সমতা ফেরায় ভারত। এ সময় ডি বক্সের মধ্য থেকে বাংলাদেশের মো. তানভীর হোসেন হেড দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেটা পেয়ে যান বক্সের সামনে ভারতের গুরকিরাত। ডান পায়ের জোরালো শট জালে আশ্রয় নেয়। চলতি আসরে এটা ছিল তার ষষ্ঠ গোল। আর এই ম্যাচে দ্বিতীয়।
৬৭ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ভারত। এ সময় হিমাংশুর নেওয়া শট গোলরক্ষক আসিফ ধরতে ব্যর্থ হন। বল জালে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। এমন সময় গোললাইনের ওপর থেকে সেটা ক্লিয়ার করেন বাংলাদেশের মো. আজিজুল হক অনন্ত।
৬৯ মিনিটে বাংলাদেশের মো. নাহিয়ান বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে গিয়ে সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু গোলপোস্টের সামনে কেউ না থাকায় গোল হয়নি।
এরপর এগিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে থাকে উভয় দল। কিন্তু আর কোনো গোল হয়নি। তাতে ২-২ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।
অতিরিক্ত সময়ে ৯২ মিনিটে হিমাংশু জাংগ্রা গোল করে এগিয়ে নেন ভারতকে। পরেই মিনিটেই গুরকিরাত সিং তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলে ভারত এগিয়ে যায় ৪-২ ব্যবধানে। চলতি আসরে এটা ছিল গুরকিরাতের সপ্তম গোল। ৯৯ মিনিটি নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। তাতে তার মোট গোল হয় ৮।