অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি হাঁকালেই ধরবে স্পিড গান

20

 

দুর্ঘটনা রোধে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক বিভাগ শুরু করেছে স্পিড গানের ব্যবহার। পরীক্ষামূলকভাবে বিজয় সরণির মোড় থেকে গণভবনের মোড় পর্যন্ত স্পিড গানের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি জোরে গাড়ি চালালেই ধরা পড়ছে চালক। নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গণভবনের মোড় থেকে বিজয় সরণির মোড় (উড়োজাহাজ মোড়) পর্যন্ত রাস্তাটিতে কোনো ডিভাইডার নেই। সড়কটিতে ঢুকলেই গতি বাড়িয়ে দেন চালকরা। রাস্তাটির পাশের লেক এবং চন্দ্রিমা উদ্যানে সকাল-সন্ধ্যায় অনেকেই হাঁটতে আসেন। গাড়ির গতির কারণে অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনের রাস্তাটিতে পরিচালিত হয় স্পিড গানের প্রাথমিক ব্যবহার। এ সময় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং লেন পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চন্দ্রিমা উদ্যানে ঘুরতে আসা রাজাবাজারের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, রাস্তাটিতে ঢুকলেই গাড়ির গতি বেড়ে যায়। রাস্তা পার হওয়ার সময় বেশ সময় লাগে ও খেয়াল করে পার হতে হয়। আজ দেখলাম গাড়ির গতির উপর নজর রাখছে ট্রাফিক পুলিশ।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা শুভ বলেন, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা আগের চেয়ে বেশি দেখছি। প্রযুক্তির নজরদারি থাকলে চালকরা বেপরোয়া গতিতে চালানোর সাহস পাবে না।
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাহেদ আল মাসুদ বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের কাছে দুটি স্পিড গান রয়েছে। যা দিয়ে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির গতি মনিটরিং করা হয়। তবে গণভবন এবং সংসদ ভবনের মাঝখান দিয়ে বিজয় সরণির যাওয়ার (চন্দ্রিমা উদ্যান লেক সংলগ্ন) যে রাস্তাটি রয়েছে, সেখানে কোনো স্পিড ব্রেকার না থাকায় চালকরা গতি বাড়িয়ে দেন। আগেও আমাদের নজরদারি ছিল, এখন স্পিড গানেই ধরা পড়ছে কারা গতিসীমা ভাঙছে। যারাই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে। তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনগণ ও পথচারীদের সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ট্রাফিক মুনিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, গণভবনের পাশের রাস্তা থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড গান ব্যবহার করা হচ্ছে। চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনের রাস্তাটির পাশাপাশি মানিক মিয়া এভিনিউ, প্রগতি সরণি ও এয়ারপোর্ট রোডে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে স্পিড গান। এ ছাড়া সচেতনতা বাড়াতেও পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান ট্রাফিকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
যেভাবে কাজ করে স্পিড গান
পিস্তলের মতো দেখতে এ যন্ত্রে থাকে একটি ট্রান্সমিটার। যা রেডিও তরঙ্গ ছোড়ে। ওই তরঙ্গ কোনো কিছুতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসলে সেটা শনাক্ত করে রিসিভার। চলমান বস্তু থেকে রেডিও তরঙ্গের প্রতিফলন থেকেই ওই বস্তুর গতি শনাক্ত করতে পারে যন্ত্রটি।