অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা জরুরি

4

 

বর্তমানে জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহ চলমান। দেশের ঋতুচক্রে শীতকাল। শীতের মাঝামাঝি এ সময়ে প্রকৃতির মধ্যে শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রকৃতিতে গাছের পত্র-পল্লব শুকিয়ে ঝরন্ত অবস্থায় রয়েছে। কিছু কিছু গাছের পাতা এরই মধ্যে ঝরে গেছে। আবার কিছু কিছু গাছের পাতা ঝরার অপেক্ষায়। এমতাবস্থায় পাহাড়-জঙ্গল, বসতভিটা সবখানে একটু আগুনের ছোঁয়া লাগলেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রকৃতির শুষ্ক আবহাওয়া এবং পাতাঝরা রিনিঝিনির সময়ে দেশের মানুষকে খুবই সতর্কভাবে আগুনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেয়াশলাইর কাঠি, গ্যাস সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক শট-সার্কিটজনিত কারণে শীত ও বসন্তকালে সারাদেশে বহু অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকা, গ্রামের খড়োঘর সহ যেসব এলাকায় গুচ্ছ গুচ্ছ নিম্ন আয়ের মানুষের মাথাগুঁজার ঠাঁই রয়েছে সেখানে অধিক সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। একঝলক আগুন পুড়িয়ে ভষ্ম করে দিতে পারে ঘনবসতিপূর্ণ লোকালয়।
শীতকালে পুকুর, ডোবা, জলাশয়, ছড়া এমনকি কোন কোন নদীও শুকিয়ে যায়। পানির জন্য বিভিন্ন এলাকায় হাহাকারও দেখা দেয়। শুষ্ক মৌসুমে কোথাও আগুন ধরলে তা নিয়ন্ত্রণ খুবই কঠিন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি কিংবা মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানোর উদ্যোগ নেয়ার পূর্বেই জ্বলে-পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায় বহু ঘর-বাড়ি। তাই আগাম সতর্কতা এবং জনসচেতনতাই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের হাত থেকে দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা করতে পারে। জ্বলন্ত সিগারেটের শেষাংশ, জ্বলন্ত দেয়াশলাইর কাঠি, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বর্তনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের মানুষকে অতি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
মিয়ানমার রাষ্ট্রের রোহিঙ্গা শরণার্থী আমাদের দেশের জন্য একটা বাড়তি জঞ্জাল। মিয়ানমার থেকে সেদেশের সাময়িক জান্তার অত্যাচারে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিয়ে সরকার ও দেশের মানুষ বড় বিব্রতকর অবস্থায় আছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হলেও তাদের স্বাভাবিক জীবন মানে থাকার ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিদেশের বহু রাষ্ট্র তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসলেও রোহিঙ্গারা এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে টেকনাফ উপজেলায়। কিছু কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সরকার ভাসান চরে পুর্ববাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তারপরও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অসংখ্য রোহিঙ্গা বস্তি বা ঝুপড়ির মধ্যে বসবাস করছে। তাদের বসবাসের ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের। ব্যবস্থা বলতে টিনের নিম্নমানের ঘর। যা গাদাগাদিভাবে নির্মিত। এবছরের ২ জানুয়ারি উখিয়ার ২০ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক করোনা আইসোলেশন সেন্টারে আগুন লাগে। যাতে হতাহত না হলেও ৭০ শয্যার হাসপাতালটির প্রায় আট লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির খবর আমরা পেয়েছি। ০৯ জানুয়ারি উখিয়ার পালংখালি শফি উল্লাহকাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১২শ ঘর পুড়ে গেছে বলে পত্রিকার প্রতিবেদনে এসেছে। যা মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মড়ার উপর খঁড়ার ঘা। পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায় গ্যাস সিলিন্ডার হতে উক্ত অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। সর্বস্তরের মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বিকাল ৫টায় সংঘটিত এ অগ্নিকান্ড নেভাতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। ব্যাপক হতাহত-পরিস্থিতি এড়ানো গেলেও ১২শ ঘর জ্বলে যায় উক্ত অগ্নিকান্ডে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো বহু অগ্নিকান্ডের খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। দেশের অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারকারী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীদের সতর্কতাই দেশের অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে।
শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নয় সমগ্র দেশের মানুষকে শীতকালের এ শুষ্কমৌসুমে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে অগ্নিদুর্ঘটনার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে নিজেকে এবং দেশের মানুষের ঘর বাড়ি বস্তিঘর দোকান পাট এবং ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, মিলকারখানাকে। ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বনই অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে এমন ধারণা সচেতন নাগরিকদের।