34

রাঙামাটি : রাঙামাটিতে ২৬মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি আধা-সরকারি এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সমাধিস্থলে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করা হয়। সকাল ৮টায় রাঙামাটি চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে  জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনসহ কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সমাবেত হয়ে ক্রীড়ানুষ্ঠান এবং ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

মাঠে জাতীয় পতাকাসহ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির। এদিকে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক, উন্নয়ন বোর্ড পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনসমূহ।

পুস্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর ও মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সাবেক জেলা যুগ্ম জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

সরকারি নীতি অনুসরণ করে জেলা পরিষদ হতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোন বৈষম্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে পাকিস্তানীদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের জন্যই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি -একথা ভুললে চলবে না। কাজেই তাদের সম্মান আমাদের সকলকে দিতেই হবে।

সোমবার সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে  পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্য শাহজাহান মোল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সান্তনা চাকমা, রাঙামাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন  রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ।  এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পর মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। তাই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই মার্চ মাস বাঙালি জাতির গৌরবের ও ঐতিহাসিক মাস। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর বিএনপি জামাত দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করতে উঠে পরে লেগেছিল। দুর্নীতির দেশ হিসেবে এ দেশকে বিশ্বে পরিচিত করেছিল তারা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে প্রচার করেছিল। কিন্তু জনগণ তাদের এই কর্মকাÐে অতিষ্ঠ হয়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জয়ী করে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা আজ কর্মকর্তা হওয়ার পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদেরই অবদান। তিনি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করার বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রæতি দেন।

পরে জেলা পরিষদ হতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ৬টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে ২হাজার ৫শত টাকা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬০জন এবং ২৭জন মৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ১হাজার টাকার প্রাইজবন্ড বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে বীর শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্য চ্চলচিত্র প্রদর্শনী ।