9

বেতার ও বৈচিত্র্য

শামসুদ্দিন শিশির

আজ বিশ্ব বেতার দিবস ২০২০। বেতার দিবসের প্রতিপাদ্য বেতার ও বৈচিত্র্য। প্রতিপাদ্যটি যথাযথ হয়েছে। বেতার বৈচিত্র্যময়তার জন্য মানুষের কাছে যেতে পেরেছে। বেতার মানুষের বন্ধু। আমাদের প্রাণ স্পন্দন। জন্ম থেকেই বেতার মানুষের সুখে দুঃখের বন্ধুর হাত বাড়িয়েছে। এখনো সমহিমায় স্থির ও অকৃপণ ভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে বেতারের কার্যক্রম। আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু ১৯৫৪ সালের ২২ জুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৬২ সালে। ১ মার্চ ১৯৬৩ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগ্রাবাদ কেন্দ্রে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালের ২৭ অক্টোবর। এ এম ( Amplitude Modulation ) প্রতিদিন ১৪ ঘন্টা ৪০ মিনিট অনুষ্ঠান প্রচার স্থিতি এবং এফ এম (Frequency Modulation) প্রতিদিন ২০ ঘন্টা ৪৫ মিনিট বিবিসি, চায়না, রেডিও ইন্টারন্যাশনাল বাংলা অনুষ্ঠান। জাপান রেডিও NHR অনুষ্ঠান প্রচার স্থিতি।
বেতার বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান প্রচার করে জনগণের কাছে তথ্য প্রদান করে থাকে। বিশেষ বুলেটিনের মাধ্যমে জনগণের জন্য সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্প্রচার করে। উল্লেখযোগ্য মাস এবং দিন নিয়ে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করে। যেমন ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতার মাস, স্বাধীনতার মাস মার্চ। আবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ৮ মার্চ, ১৭ মার্চ, ২৬ মার্চ, ০২ এপ্রিল, ০৫ জুন, ১৫ আগস্ট, ২৪ অক্টোবর, ১৬ ডিসেম্বর বিশেষভাবে সম্প্রচারিত হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দশটি বিশেষ উদ্যোগ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিশেষজ্ঞ, তথ্যজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি বেতার আন্তরিক ভাবে করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে পাঠ, শেখ মুজিব আমার পিতা, কারাগারের রোজনামচা বই থেকে নির্বাচিত অংশ পাঠ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বইয়ের শব্দগুলো পৌঁছে দেয়। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সোনালী প্রত্যাশা, কৃষি খামার, গায়ের বধূ, কথা ও কবিতা, অমর একুশে, সাহিত্য সংস্কৃতি, তথ্য প্রযুক্তি ইত্যাদি অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে জন সচেতনতা সৃষ্টিতে বেতারের অবদান অনস্বীকার্য। ফোনো লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি শ্রোতার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা করে বেতারকে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এ ছাড়া বছরের প্রথম দিন বই উৎসব নিয়ে আলোচনাও শ্রোতামণ্ডলীকে আকর্ষিত করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়েও অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এ ছাড়া ইতিহাস ঐতিহ্য, সভ্যতা সংস্কৃতি তো আছেই। গান নাটক পরিবেশনায় শীর্ষে আছে বেতার। সময়ের আলোচিত বিষয় নিয়ে বেতার আন্তরিকতার সাথে কাজ করে থাকে যেমন- ডেংগু জ্বর থেকে মুক্তির উপায়, কোরোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা ইত্যাদি। নিত্য দিনের জোয়ার- ভাটা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বন্দরের খবরাখবর, বানিজ্য অর্থনীতির খবর শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে এতটুকু কার্পণ্য করে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বেতারই আমাদের একমাত্র ভরসা ছিলো। কয়েক গ্রাম মিলে একটি বেতার যন্ত্র হাজারো মানুষের খবরের উৎস ছিল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াসের খবরতো আছেই।
আলোকপাত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি শ্রোতাদের প্রাণের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের খবরাখবর, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ইত্যাদি খবর প্রকাশ করে শ্রোতাদের আপডেট রাখতে বেতারের জুড়ি নেই। প্রায়ই বেতার বহিরাঙণে অনুষ্ঠান ধারণ করে জন সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জাতীয়ভাবে উদযাপিত অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি প্রচার করার মাধ্যমে জনগণের খুব চলে গেছে। ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার ধারা বর্ণনা করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছে বেতার। আমাদের দেশের মতো সব দেশেই আজ বিশ্ব বেতার দিবস পৃথিবীর সব দেশেই সমানভাবে পালিত হচ্ছে। পৃথিবীর সব বেতার শ্রোতার জন্য শুভ কামনা। বেতার ও বৈচিত্র্য প্রতিপাদ্য টি বেতারের জন্য প্রযোজ্য। কারণ বেতার জনগণের বিনোদনের জন্য বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এ আয়োজনগুলোকে পরিকল্পিত, সুশৃংখল ও সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন একদল প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল। প্রয়োজন একাধিক সুরম্য রেকর্ডিং কক্ষ, আসবাব পত্র, ইলেক্ট্রোনিক্স যন্ত্রপাতি। বিশ্ব বেতার দিবস সফল হোক। প্রিয় বেতার তোমার জন্য শুভ কামনা রইলো।

লেখক : শিক্ষাবিদ