অ্যাড. সালাহ্উদ্দিন আহমদ চৌধুরী লিপু

35

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার এক বছর মেয়াদ পূর্ণ করলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন মাত্রা পেল। বাংলাদেশের আর কোনো রাজনীতিক দল পাঁচ মেয়াদে ১৬ বছর দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারেনি। গত এক বছর রাজনীতির মাঠ ছিল নিস্তরঙ্গ ও সরকারের জন্য দুর্ভাবনাহীন। একটি সরকারের সফলতা যেমন থাকে, ব্যর্থতাও তেমন থাকে। তবে এ সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতা অনেকাংশে বেশি। নিঃসন্দেহভাবে সরকারের টানা তিন মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের ইশতেহারের সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অধিকাংশ পূরণ করতে সামর্থ্য হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতি, ক্যাসিনো ও মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারে আইনের শাসন ও মানবাধিকারের সুরক্ষা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক নির্মূল, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন, প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক নগর সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি অনেক ক্ষেত্রে সরকার সাফল্য দেখিয়েছে সরকার।
২০১৮ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল করেছে। আর ২০২১ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এক বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি। বর্তমানে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে পাঁচটি দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির বাংলাদেশ একটি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আগামী এক দশকে বিশ্বের ২৬তম অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে দাঁড়াবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ধারণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর লন্ডনভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক আ্যান্ড রিসার্চ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে এক তথ্য প্রকাশ করেছে যে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও হংকংকে পশ্চাতে ফেলে বাংলাদেশ ৩০তম অর্থনৈতিক শক্তি হবে। ২০১৮ সালে জিডিপিতে ঋণ ছিল ৩৪ শতাংশ, এবছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.৬ শতাংশে ও গত অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৭৫১ মার্কিন ডলার তা এখন বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করত। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬.৫ কোটি, যার মধ্যে দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে ২০.২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার সাড়ে আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়। মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬ শতাংশে নিচে। বর্তমানে রেমিটেন্স আয় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আওয়ামী লীগের সরকারের দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রæতির অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। যেমন-পদ্মা সেতুর ৭৩ শতাংশ, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের ১৭.১৫ শতাংশ, ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের ৪০ শতাংশ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পের ৫০ শতাংশ, কর্ণফুলী বঙ্গবন্ধু টানেলের ৪৯ শতাংশ, দোহাজারি-ঘুনধুম পর্যন্ত রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ২৯ শতাংশ। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চন্দ্রা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পর চন্দ্রা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম স্টেশন-রংপুর এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলেছে। ৪০১ কিঃমিঃ নতুন রেলপথ নির্মিত হয়েছে। ১২২টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। যা যোগাযোগ ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৮.৫ শতাংশ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪১.২১ শতাংশ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২৬.৭২ শতাংশ পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ৫৬.৬৪ শতাংশ এবং মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
মানুষের গড়আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছর ৪ মাসে উন্নীত হয়েছে। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা আজ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। ২০ হাজার ১০২ জন নতুন চিকিৎসক ও ২১ হাজার ৬৯৭ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩৬টি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৭০টি। ৯৮% ঔষধ দেশে উৎপাদিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর ১৫০টি দেশে ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে। সারাদেশে ৬৫০টি মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করার মতো। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রেও সরকার অনেকটা সফল। সারাদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২২ হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট। প্রবাসী আয়, আমদানি, স্থানীয় বিনিয়োগ, বিশেষ করে সরকারি বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ সবকয়টি সূচকে টানা কয়েক বছর ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের আলোচিত বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণা করে সে প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। সরকারের দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান সর্বমহলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই অভিযানে নিজ দলের সহযোগি সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতাকে পর্যন্ত রেহাই দেয়নি। দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাংসদের বিরুদ্ধে দুদুক তদন্তে নেমেছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে পদ হারাতে হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রী সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারের মেয়াদ পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দুর্নীতিবাজ যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন তাদের ছাড় দিবেন না বলে কঠোর হুশিয়ারি করেছেন।
সরকারে ঈর্ষনীয় সাফল্য এসেছে কৃষিক্ষেত্রে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে দশম অবস্থানে রয়েছে। ফল উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান এখন ১৩.৬ শতাংশ। এই অর্থবছরে ডিএপি সারের মূল্য ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করায় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা অর্জন করেছেন। এবারও শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই তুলে দিয়ে সরকার সাধুবাদ কুঁড়িয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশুরাও ব্রেইল পদ্ধতির বই পেয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত প্রতি বছর ২ কোটি ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক, জাতীয়করণ এবং ৬৮৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে। ১ লাখ ৪২ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতি উপজেলায় ১/২টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থীকে মিড-ডে-মিল প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজারেরও বেশি কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রিকে মাস্টার্স এর সমমান প্রদান করে ৩৫ লাখ কওমি শিক্ষার্থীকে মূলধারায় নিয়ে এসেছে সরকার। দেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ কোটিরও অধিক সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা ৯ কোটি। দেশের ৩,৫০০ এর অধিক ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া হয়েছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা এবং ২০২১ সালে পালিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ মহাসোপানে উপনীত হবে।
এই এক বছরে কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারকে সমালোচিত হতে হয়েছে। পিয়াজ নিয়ে যে তুঘলকিকাণ্ড ঘটল তা রীতিমত বিষ্ময়ের। পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকার ছিল বিব্রত। পিঁয়াজ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জনগণ হতে কোটি কোটি টাকা পকেট কেটে নিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাংক খাতে এখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। সরকার ব্যাংক ওয়ালাদের কুম্ভকর্ণের কারণে সিঙ্গেল ডিজিটের ঋণ চালু করতে পারেনি। অর্ধমৃত শেয়ার বাজারকে জীবিত করাা সম্ভব হয়নি। লুটেরার দল কারসাজির মাধ্যমে লুটেপুটে শেয়ারবাজারে কবরের নিস্তব্ধতা এনে দিয়েছে। গত বছর জনগণকে পীড়িত করেছে দ্রব্যমূলের ধকল আর ডেঙ্গু রোগের ভয়ানক বিস্তার। কোরবানির পশুর চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারায় আলোচনা সমালোচনা ছিল। জঙ্গিবাদ, দমন সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সরকার দক্ষতার পরিচয় দিলেও ধর্ষণ ও খুন সরকারকে অনেকটা বিব্রত করেছে। মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারের তালিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। এই মেয়াদে মন্ত্রীসভা অনেকে ভালো করলেও অনেকে হতাশ করেছে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ড’, ফরিদপুরের ‘পর্দা কাণ্ড’, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ হরিলুট, ব্যাংক লুটেরাদের অর্থ লোপাটসহ কয়েকটি কেলেঙ্কারি সরকারের এই কষ্টার্জিত সাফল্য ম্লান করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ভিতর কতেক সুযোগ সন্ধানী প্রবেশ করেছে। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারি ও সুযোগ সন্ধানী এবং আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বখে যাওয়া নেতাকর্মীর কারণে সরকারের সকল অর্জন নি®প্রভ হয়ে পড়ছে। দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদীদের উল্লাস আজ বড় বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে। এদের বিভীষকাময় উল্লাস দেখতে চায় না বাংলাদেশ। দুর্নীতি ও সুবিধাবাদী এ দানবশক্তিকে রুখে দিয়ে মানুষের কল্যাণের গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের রাজনীতি দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর এ শুভক্ষণে কামনা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
লেখক : রাজনীতিক, প্রাবন্ধিক