বিদায় উইন্ডোজ ৭, এখন?

সাফ্ফাত আহম্মদ খান

41

আপনি যদি উইন্ডোজ ৭-এর ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে উইন্ডোজ ৭-এর জনপ্রিয়তা অন্য সবগুলো থেকে ছাড়িয়ে গেছে। অনেকে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে উইন্ডোজ ৭ থেকে ১০-এ আপডেট করতে চাইছেন না। কিন্তু আপনাদের জন্য একটি খারাপ খবর হলো আর মাত্র কিছু দিন পর মানে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারির পর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৭-এর কোনো আপডেট বা সাপোর্ট দেবে না। তার মানে কি উইন্ডোজ ৭ আর ব্যবহার করা যাবে না? ব্যাপারটি আসলে তেমন নয়। আপনি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু কোনো সিকিউরিটি আপডেট বা সাপোর্ট পাবেন না। আপনার কম্পিউটার স্ক্রিনে বড় করে মেসেজ দেখাবে ‘ইউর উইন্ডোজ ৭ পিসি ইজ আউট অভ সাপোর্ট’। একটি অপারেটিং সিস্টেমের সিকিউরিটি আপডেট না পাওয়া আর সিস্টেমকে হ্যাকারের হাতে তুলে দেয়া একই কথা কারণ হ্যাকাররা সবসময় অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করে সিস্টেমকে নিজেদের আয়ত্তে¡ আনে। আর সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত সেই দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করে আপডেট করে যাতে ব্যবহারকারীরা হ্যাকিং ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে।
উইন্ডোজ ৭ বাজারে ছাড়া হয়েছিল ২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর। মাইক্রোসফট-এর অফিসিয়াল সিস্টেম অনুযায়ী যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের উইন্ডোজ ভার্সনগুলো মূলত ১০ বছরের সাপোর্ট পেয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রথম ৫ বছর হচ্ছে মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট যেখানে ফিচার আপডেট, ডিজাইন আপডেট, ইউআই আপডেট, সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্সড ইত্যাদি প্রদান করা হয়ে থাকে। মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট শেষ হওয়ার পরের আরো ৫ বছর তারা এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করে যেখানে শুধু বাগ বা ত্রæটি ফিক্সড এবং সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করা হয়ে থাকে। নতুন কোনো ফিচার বা ডিজাইন আপগ্রেড করা হয় না। সেই হিসাবে উইন্ডোজ ৭-এর মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট ২০১৫তেই শেষ হয়ে যায় কিন্তু জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট বাড়ানো হয়েছিল। তবে আরো একটি খবর হলো মাইক্রোসফট আরো তিন বছর উইন্ডোজ ৭-এর পেইড এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করবে অর্থাৎ ২০২৩ সাল পর্যন্ত এর সিকিউরিটি আপডেটগুলো রিলিজ করা হবে কিন্তু এর জন্য আপনাকে আলাদা টাকা দিতে হবে। এই বাড়তি সময়টা দেয়ার কারণ হলো অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এখনও উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে। ব্যক্তি পর্যায়ে অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করা সহজ হলেও একটি প্রতিষ্ঠানে সবগুলো কমúিউটার একসাথে আপগ্রেড করা খুবই ঝামেলা এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আপগ্রেডেশনের সাথে আর্থিক ব্যাপারও জড়িত। আবার প্রতিষ্ঠানে হয়ত এমন সফটওয়্যার চলে যা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সাথে মিলবে না। যখন উইন্ডোজ ১০-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন মাইক্রোসফট থেকে বলা হয়েছিল উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে আপগ্রেড করতে পারবে। তবে এই অফার প্রযোজ্য ছিল ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই পর্যন্ত কারণ এটি ছিল একটি প্রমোশনাল অফার। এখন আপনাকে উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড হওয়ার জন্য লাইসেন্স কিনতে হবে। তবে কিছু কিছু মানুষের বøগ পড়ে জানতে পারলাম ফ্রী আপগ্রেডটি এখনও কাজ করে। আপনি চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ইংরেজি ওয়েবসাইট ‘দ্য ভার্জ’ চলতি বছরের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদনে বলেছে যে বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ ৭-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ কোটি। ভাবা যায় কী বিশাল সংখ্যক মানুষ উইন্ডোজ ৭কে পছন্দ করে।
তবে যাই হোক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আপনি যদি এখনও উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে দ্রæত আপনার অপারেটিং সিস্টেমটি উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড করে নিন। উইন্ডোজ ১০-এ আপগ্রেড করার জন্য আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কমপক্ষে ১ গিগাহার্জ গতির প্রসেসর থাকতে হবে, সাথে কমপক্ষে ২ জিবি র‌্যাম এবং হার্ডডিস্কে ৩২ জিবি জায়গা লাগবে। তবে আপগ্রেড করার সময় অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় ডাটাগুলো ব্যাকআপ নিয়ে নেবেন।
উইন্ডোজ ১০-এর কিছু আকর্ষণীয় ফিচার যা আপনার কাজের গতি ও আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ১. এতে খুব সুন্দর স্টার্ট মেনু আছে যেখানে আপনি সবগুলো অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি নিজের মতো করেও সাজিয়ে রাখতে পারবেন । ২. মাল্টিপল ডেস্কটপ মানে আপনি চাইলে উইন্ডোজ ১০-এ একটি ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি করতে পারেন এবং সেখানে কিছু অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করতে পারেন। যেমন: আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েব ব্রাউজিং-এর জন্য একটি আর অন্যান্য কাজের জন্য আরেকটি যা আপনাকে একটি কম্পিউটারে মাল্টিপল কাজের সুবিধা দেবে। এটি করতে টাস্ক ভিউ থেকে নতুন একটি ডেস্কটপ সিলেক্ট করতে হবে এবং যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো সেখানে দেখতে চান সেগুলো মাউস দিয়ে টেনে নিয়ে সেখানে বসাতে হবে। ৩. উইন্ডোজ ১০-এর আরেকটি মজার ফিচার হলো এটিকে খুব সহজেই মোবাইল ফোনের সাথে যুক্ত করা যাবে। নিয়ার শেয়ার অ্যাপ-এর মাধ্যমে খুব দ্রæত এবং সহজে ডাটা, ছবি ইত্যাদি সেন্ড ও রিসিভ করা যাবে। ৪. আমার কাছে উইন্ডোজ ১০-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো এর ডিফল্ট এন্টিভাইরাস উইন্ডোজ ডিফেন্ডার। পূর্ববতী ভাসর্নের চেয়ে উইন্ডোজ ১০-এর ভার্সনটি অনেক শক্তিশালী যা অন্যান্য পেইড এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এটি আপডেট থাকলে মোটামুটি আপনার কম্পিউটারটি নিরাপদই ধরে নিতে পারেন। তো, দেরি না করে আজই আপনার অপারেটিং সিস্টেমটি আপডেট করে নিন।