ঈদগাঁওতে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

4

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে শীতের শুরুতেই গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে গাছি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেঁজুরের রস আহরণের জন্য। বাঙালির শীতের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর রসের তৈরি পিঠা-পায়েস। প্রাচীনকাল থেকে বৃহত্তর ঈদগাঁওতে বিভিন্ন এলাকার খেজুর রসের যশ ছিল। দিনবদলের সাথে এ এলাকায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু পরিবর্তন হয়নি খেজুরের রস সংগ্রহ পিঠা তৈরির পদ্ধতি। শীত আসছে তাই রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ পরিস্কার ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। সদরের ঈদগাঁও’র বিভিন্ন গ্রামে প্রতি বছর গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহ করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাছিরাও খেজুর গাছের ডালপালা পরিস্কার করে গাছ তোলাসহ যাবতীয় কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ক’দিন পরই রস পাওয়া যাবে। স্থানীয়রা জানান, শীত দরজায় কড়া নাড়ছে, তাই প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছিরা গাছ মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা প্রথমে খেজুর গাছের মাথা পরিস্কার করেন। এরপর শুরু হয় রস সংগ্রহ। চিরাচরিত সনাতন পদ্ধতিতে মাটির কলসে রাতভর রস সংগ্রহ করা হয়। ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রস ভর্তি মাটির কলস গাছ থেকে নামিয়ে মাটির হাড়িতে কিংবা টিনের বড় হাড়ি (জালা) জ্বালিয়ে রস তৈরি করে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ চাছার কাজ শুরু করেছে। অল্প দিনের মধ্যে বাজারে নতুন খেজুর রস পাওয়া যাবে। গত বুধবার ইসলামাবাদের বোয়ালখালী গ্রামে চোখে পড়ছে খেজুর গাছ চাছার দৃশ্য। গাছিরা এখন মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিছুদিন পরই গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে পিঠা রস তৈরির উৎসব। গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কি ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধ্যায় কাঁচা রস খেতে খুবই মজাদার। রসে ভেজা চিতই পিঠার স্বাদই আলাদা। রসনা তৃপ্তিতে এর জুড়ি নেই। পিঠা পাটালির মধ্যে নারিকেল কোরা, তিল ভাজা মিশালে আরো সুস্বাদু লাগে। শীত মৌসুমে যা তৈরি হয় তা রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। আবহমানকাল থেকে বাংলায় নবান্নের উৎসব পালনে খেজুর রসের কদর রয়েছে।

ঈদগাঁওতে অবৈধ বালি
উত্তোলন সরঞ্জাম জব্দ
ঈদগাঁও প্রতিনিধি
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও-ইসলামাবাদে বালি উত্তোলনের অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দিল জনপ্রতিনিধিরা। গত ৮ নভেম্বর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গজালিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় কয়েকটি বালি উত্তোলনের মেশিনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুর ছিদ্দিকের নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান ১ নুরুচ্ছাফা ও প্যানেল চেয়ারম্যান ২ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যান্য মেম্বার, নারী সদস্য, চৌকিদার, দফাদার এবং পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম জব্দ করে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন করে আসছিল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। বালি উত্তোলনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এমনকি বালি পরিবহনযাত করতে গিয়ে গজালিয়া সড়কটি বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক বার বার বালি উত্তোলন বন্ধ করতে নিষেধ করলেও তা মানেনি। তিনি আরো জানান, এদিন চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অব্যাহত ভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে বারন করেছি। এবং সরঞ্জাম জব্দ করে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দিয়েছি। পুনরায় মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করলে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হবে। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেম্বার আবদু শুক্কুর, সিরাজুল হক, ওমর আলী, হেলাল উদ্দীন, আবু বক্কর ছিদ্দিক বান্ডি, দিদারুল ইসলাম, মহিলা মেম্বার নাছিমা আক্তার, তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা নুরুচ্ছফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যান পুত্র ইমরুল কায়েস প্রমুখ।