টাইগারপাস এলাকা থেকে১১ ডাকাত গ্রেপ্তার

26

সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দলের ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশ বলেছে, মহাসড়কে ডাকাতির পর তারা সীতাকুন্ডের পাহাড়ি গুহায় লুকিয়ে থাকত বলে তাদেরকে ধরা যাচ্ছিল না। গতকাল শনিবার ভোরে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুপুরে নগরীর মোমিন রোডে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন- মো. সালাউদ্দিন (২৪), মো. রাজু (১৯), ইসরাফিল হোসেন আলম (২২), আকবর হোসেন (২২), সেলিম (২৮), মো. টিটু (২৫), ইয়াসিন (২৩), ফজর আলী (৩৫), মো. সুমন (২৫), রহিম প্রকাশ হৃদয় (২২) এবং পলাশ হোসেন (২৫)। খবর বিডিনিউজের
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, এদের দলনেতা মো. সালাউদ্দিন আড়াই বছর জেলে ছিল। এরপর দুই মাস আগে বেরিয়ে আবার ডাকাতির কাজে জড়িয়ে পড়ে।
“চট্টগ্রাম নগরী, সীতাকুন্ড ও মিরসরাই উপজেলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফেনী, কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালী এলাকায় এরা ডাকাতি করে। ডাকাতি শেষে সীতাকুন্ডের পাহাড়ের গুহায় চলে যায়। যে কারণে তাদের সন্ধান পাওয়া যেত না।”
দুই মাস আগে গ্রেপ্তার অন্য একটি ডাকাত দলের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ডাকাত দলটিকে অনুসরণ করছিল পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, ভোরে পিকআপ ও প্রাইভেট কার নিয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির সময় টাইগার পাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় এলজি, দুটি কার্তুজ, দুটি টিপ ছোরা, ছয়টি কিরিচ উদ্ধার এবং একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার দলের সব সদস্যই নগরীর আকবর শাহ থানা এবং নগরীর উপকণ্ঠের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা।
মেহেদী হাসান বলেন, সীতাকুন্ডের পন্থিছিলায় দোকানে, সম্প্রতি মিরসরাইয়ে ডাকাতি, নগরীর সাগরিকা এলাকায় মোটর পার্টসের দোকানে, ফেনীর মহিপালে কাপড়ের দোকানে, ফেনীতে চালের দোকানে, চৌদ্দগ্রামে মার্কেটে এবং ফেনী, কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালী এলাকায় পিকআপ ভ্যান নিয়ে মহাসড়কে ডাকাতির কথা তারা স্বীকার করেছে।
“গত চার-পাঁচ বছরে তারা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রায় দুইশ ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মিরসরাই ও আকবর শাহ থানায় মামলা আছে। অন্য থানাগুলোতেও মামলা আছে কি না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসিন জানান, নগরীতে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত তারা দল বেঁধে ছিনতাইও করতো। ভোরের দিকে বাস ও ট্রেনে নগরীতে আসা যাত্রীরা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। যাত্রীদের রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকে ছোরার ভয় দেখিয়ে সব ছিনিয়ে নিত। কারও কাছে পাসপোর্ট পেলে ছিনিয়ে নিয়ে পরে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে টাকা আদায় করত। অধিকাংশ সময়ই টাকা আদায়ের পর পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র ফেরত দিত না।
১৪ এবং ১৯ অক্টোবর নগরীর টাইগারপাস মোড়ে প্রাইভেট কার ব্যবহার করে এরকম ছিনতাইয়ের দুটি ঘটনা ঘটে। ওই দুই ঘটনার সূত্রে পুলিশ এই দলটিকে খুঁজতে থাকে।
পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এরা গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে ঘুরতো। চলন্ত বাস দাঁড় করিয়ে ডাকাতি করার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক সংলগ্ন যেসব দোকানের শাটার বা ঘরের তালা ভাঙতে পারবে বলে মনে হত গভীর রাতে সেগুলো ভেঙে ডাকাতি করত। তাদের সাথে ঘর ও দোকার ভাঙার সরঞ্জাম থাকত।