৯৯ প্রকল্প উপহার নিয়ে আজ খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

27

৯৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এবং নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে আজ শনিবার খুলনা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর পর এ সফরে তিনি খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ আয়োজনে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে এই জনসভা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে খুলনাবাসীর জন্য ৯৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৭টির উদ্বোধন ও ৫২টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গত কয়েকদিন ধরে খুলনা ও আশপাশের জেলাগুলোর আলাদা আলাদা প্রস্তুতি সভা করেছে আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খুলনা শহর ও আশপাশের জেলাগুলোয় মাইকিং করা হয়েছে। আজ সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৫৮তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইইবি খুলনা কেন্দ্রে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। পরে বিকাল ৩টায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত খুলনায় যত জনসভা, জনসমাগম হয়েছে, এই জনসভা সব রেকর্ড ভাঙবে। খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে।’
সভাস্থলের বাইরেও যাতে শহরবাসী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি দেখতে পারেন এ জন্য বিভিন্ন সড়কে, মোড়ে মোড়ে, পাড়ায়-মহল্লায়, বিভিন্ন অফিস ও লোকসমাগমের স্থানে অসংখ্য এলইডি টিভি বসানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রচুরসংখ্যক মাইক লাগানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে খুলনা শহরের বিভিন্ন সড়ক আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। শহরের প্রবেশপথসহ পুরো শহরে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। ব্যানার-ফেস্টুনে উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও শ্লোগান তুলে ধরা হয়েছে। এই জনসভাকে ঘিরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েছে। আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরশন নির্বাচনের প্রার্থী হতে চান এমন নেতাদেরও প্রচারণা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনাবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। জনসভা ঘিরে পুরো শহরে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি খুলনায় জনসভা করেছিলেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে অবশ্য ২০১৫ সালে একবার খুলনায় এসেছিলেন তিনি। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে একটি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন-
উদ্বোধন : গল্লামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়ক। রূপসা-শ্রীফলতলা-তেরখাদা সড়ক। কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন। চালনা মোবারক মেমোরিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন। খুলনা আইডিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন। খুলনা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার হোস্টেল ভবন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবন। মেডিক্যাল কলেজের অডিটরিয়াম ভবন। শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন। তেরখাদা থানা ভবন। রূপসা ফায়ার স্টেশন ভবন। রূপসা সেনহাটি নদী ফায়ার স্টেশন। বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস। কৃষি বিভাগের অফিস-কাম-ট্রেনিং অ্যান্ড প্রসেসিং সেন্টার ভবন। রূপসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। দিঘলিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। তেরখাদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। ডুমুরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। পাইকগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। পাইকাগাছা আর অ্যান্ড এইচ-বাঁকা জিসি সড়কের কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ। খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নতুন ভবন। হাতিয়ার ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন। শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা আরএনজিপিএস কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন। দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া আরএন জিপিএস কাম সাইক্লোন সেল্টার ভবন। তেরখাদা আব্দুলের মোড় আর অ্যান্ড এইচ-মাঝিরগাথি জিসি ভায়া কোলা বাজার সড়ক। বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সম্প্রসারন। পাইকগাছা হাবিবনগর মাদ্রাসার মোড় থেকে ডুমুরিয়া মাগুরখালি-কাঁঠালতলা বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক। শহীদ মিনার, খুলনা। রেলওয়ে স্টেশন এবং ইয়ার্ড রি-মডেলিং প্রকল্প। খুলনা জেলা স্টেডিয়াম। পাঁচতলা কয়রা আধুনিক ডাকবাংলো ভবন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল ভবন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস। কয়রা থানা ভবন। ডুমুরিয়াতে শোভনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। জলমা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বর্ধিতাংশ)। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন)। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ভবন (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন)। মাইকেল মুধুসুদন দত্ত অতিথি ভবন (বর্ধিতাংশ)। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগার (বর্ধিতাংশ)। ওয়াসা ভবন, খুলনা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (খুলনা অংশ) সড়ক। পাইকগাছা কৃষি কলেজ। বটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমেজিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘এ’ ব্লক ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্সেস ডরমেটরি। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ ডরমেটরি। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাংকার। খুলনা সদর হাসপাতালকে ১৫০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীতকরণ। সিভিল সার্জনের অফিস ভবন। শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক ভবন। দিঘলিয়া উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পুলিশ সুপারের কার্যালয়। এএসপি ‘ক’ সার্কেল অফিস। দৌলতপুর থানা ভবন। আর্ম পুলিশ ব্যাটিলিয়ানের অস্ত্রাগার ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাডেমিক ভবন। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফায়ারিং বার্ট। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অস্ত্রাগার ভবন। জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন। রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ। আলিয়া মাদ্রাসা মডেল মসজিদ। ডুমুরিয়া ভদ্রা নদীর উপর ৩১৫.৩০ মিটার লম্বা পিসিগার্ডার ব্রিজি। বটিয়াঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। তেরখাদা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম। পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ফুলতলা উপজেলায় উচ্চ জলাধার ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক হাজার আসনের অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। জেলা কারাগার। জেলা পুলিশ লাইন। ১০ তলাবিশিষ্ট বিএসটিআই, আঞ্চলিক অফিস ভবন। আর আর এফ ব্যারাক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন। পাইকগাছা উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আর আর এফ-এর অস্ত্রাগার ভবন। পাইকগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। রূপসা শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্র পুনঃনির্মাণ ও আধুনিকীকরণ। ওজোপাডিকো লিমিটেডের ১৫ তলার প্রধান কার্যালয়। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন। বিএনএস তিতুমীর সংলগ্ন ভৈরব নদীর তীর সংরক্ষণ। শেখ রাসেল ইকো পার্ক। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার।