৮৫শতাংশ টিউবওয়েল অকেজো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তীব্র পানি সংকট

উখিয়া প্রতিনিধি

55

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন দাতা সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত টিউবওয়েলের মধ্যে ৮৫শতাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে কিছু কিছু টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছেনা। ফলে এসব টিউবওয়েলে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানির চাহিদা পূরণের লক্ষে গভীর নলকূলের স্থাপনের কাজ শুরু করলেও তা অদ্যাবধি শেষ না হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানির জন্য হাহাকার করছে। শনিবার সকালে উখিয়ার মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা, তাজনিমারখোলা ক্যাম্প ঘুরে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। রোহিঙ্গাদের অভিযোগ ক্যাম্পগুলোতে টিউবওয়েল স্থাপনের নামে সম্পৃক্ত ঠিকাদারগণ টাকা লুটপাট করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। যে কারণে টিউবওয়েল স্থাপনের পর এক মাস না যেতেই অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।
কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের পলিথিনের ঝুপড়িগুলো গরমে যেন পুড়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা মাঝি হামিদ হোসেন জানান, তার ক্যাম্পের একটি টিউবওয়েলেও পানি নেই। অনেকেই বাজার থেকে বোতলজাত পানি ক্রয় করে তৃষ্ণা নিবারণ করলেও আনুসাঙ্গিক ব্যবহারের পানির অভাবে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নাকাল হয়ে পড়ছে। আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। পানি সমস্যা নিবারণের জন্য সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ পানি পাওয়া যায় তাও সঠিক করে বলা যাচ্ছেনা।
থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার শুরুতেই নলকূপ বসানোর হিড়িক পড়েছিল। কে কিভাবে নলকূপ স্থাপন করেছে তার কোন হদিস নেই। ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ আলী জানান, স্থানীয় পাড়াপড়শির বাসা বাড়ি থেকে অনেকেই পানি সরববারহ করছে। এসব এলাকায় স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের পানি দিতে বিরক্তবোধ করছে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগ খাল, নালা, পুকুর ও জলাশয়ের পানি ব্যবহার করছে। যে কারণে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশু। ওই ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ব্রাকের স্বাস্থ্যকর্মী লিলুফা ইয়াসমিন জানান, ক্যাম্পে বর্তমানে পানি বাহিত রোগ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অতি সহসায় বৃষ্টিপাত না হলে রোহিঙ্গাদের পরিণতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এমন মন্তব্য করলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি ভাবে ৭শ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। উখিয়ায় স্থানীয়দের জন্য ৫শ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ক্যাম্পগুলোতে ৫হাজার ৫৩টি অগভীর নলকূপ ও ৪৭৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনাবৃষ্টির ফলে পানির স্তর ৫০ থেকে ৬০ ফুট নিচে চলে যাওয়ার কারণে বর্তমানে ৮৫শতাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, পানি চাহিদা পূরণের জন্য তাদের কাভার্ডভ্যানগুলো দিয়ে পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, পানি সমস্যার সৃষ্টি হলেও তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কাজ করছে।