চট্টগ্রামে ভোটার তালিকা হালনাগাদ

৬ উপজেলায় ৯২ হাজার ভোটারের তথ্য সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচিতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলায় ২১ দিনে ৯২ হাজার নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১৩ মে পর্যন্ত চলে। আজ থেকে মিরসরাই ও সীতাকুন্ডে তথ্য সংগ্রহ করা ভোটারদের রেজিস্ট্রেশন (ছবি তোলা) শুরু হবে। ১৫টি উপজেলা ও নগরীর ছয়টি থানায় ৪২টি টিম ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকবে।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান পূর্বদেশকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে। আগামীকাল (আজ) রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রথমদিনে মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের ভোটারদের ছবি তুলে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২৫ মে থেকে আরো তিনটি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।’
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মিরসরাই, সীতাকুন্ড, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশে প্রথম ধাপে নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে মিরসরাইয়ে ৩০ হাজার, সীতাকুন্ডে ২৫ হাজার, লোহাগাড়ায় ১৫ হাজার, আনোয়ারায় ২০ হাজার, কর্ণফুলীতে ১০ হাজার, চন্দনাইশে ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য ফরম পাঠানো হয়। ২০ শতাংশ নিজেদের হাতে রেখে বাকি ৮০ শতাংশ ফরম তথ্য সংগ্রহকারীদের নিকট প্রদান করে উপজেলা নির্বাচন অফিস। সে হিসেবে প্রায় ৯২ হাজার নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন সময়েও তথ্য ফরম পূরণ করে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে। প্রথম ধাপে চলমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ছয়টি উপজেলায় এক লক্ষ ১৫ হাজার তথ্য ফরম পাঠানো হয়। যারমধ্যে প্রায় ৯২ হাজার নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। নিজেদের হাতে রাখা ফরম থেকেই তথ্য সংগ্রহকালীন সময়ে লিপিবদ্ধ না হওয়া ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন সময়েও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে গেলে নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। ছয়টি উপজেলায় ১১৭ জন সুপারভাইজার ও ৬৬৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী ভোটারদের বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। রেজিস্ট্রেশন (ছবি তোলা) প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত আছেন টেকনিক্যাল সাপোর্টার তিনজন, টিম লিডার ছয়জন, প্রæপ লিডার ১২ জন, ডাটা এন্ট্রি অপারেট প্রতি টিমে আটজন করে ৪৮ জন, হেলপার ছয়জন।
আগামী ২৫ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাঁশখালীতে ১১ জুন থেকে ২ জুলাই, পটিয়ায় ১৫ জুন থেকে ৫ জুলাই, সাতকানিয়ায় ১৩ জুন থেকে ৩ জুলাই, বোয়ালখালীতে ১ জুলাই থেকে ২১ জুলাই, স›দ্বীপ ও হাটহাজারীতে ১ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট, পাঁচলাইশে ৩১ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর, ডবলমুরিংয়ে ২১ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর, বন্দরে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলীতে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর, কোতোয়ালীতে ৫ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। চান্দগাঁও, পাহাড়তলী ও কোতোয়ালীতে পার্বত্য জেলার তিনটি টিম রেজিস্ট্রেশন কাজে নিয়োজিত থাকবে।
ইসি সূত্র জানায়, যাদের বয়স ১৬ বছর হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করবেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। আর যাঁদের বয়স ১৮ বছর হবে, তাঁরা ভোটার হতে পারবেন। অর্থাৎ ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৪ সালের ১জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের জন্ম তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাংলাদেশি প্রকৃত নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। ১৩ মে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে ওয়ার্ডে স্থাপিত নিবন্ধন কেন্দ্রে চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি ও দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। কোনো কারণে তথ্য সংগ্রহের সময় কেউ যদি বাদ পড়েন, তবে তিনি নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও তার তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত হতে পারবেন। এরপর ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ভোটার হালানাগাদের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৬৫ জন ভোটার আছেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লক্ষ ১২ হাজার ৭৫ জন ও নারী ভোটার ২৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৯০ জন।