৬ ইউপিতেই আওয়ামী লীগের ১৩ বিদ্রোহী

রাহুল দাশ নয়ন

33

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী স্বজন কুমার তালুকদারের বিনা প্রতিন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া অনেকটা নিশ্চিত। এছাড়াও মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের বাকি ছয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ১৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। যারা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ইতোমধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের থামাতে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় আওয়ামী লীগ।
সূত্র জানায়, সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আকবর হোসেন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. মারুফ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদীন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আরেক যুগ্ম আহবায়ক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগ সমর্থক নুরুল আলম ও মুহাম্মদ হায়াত সেখানে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। নানুপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, যুবলীগ আহবায়ক মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত আমরা সমঝোতার চেষ্টা করবো। সেক্ষেত্রে কতটুকু সফল হবো জানি না। তবে যারাই বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন তারা কেউ আমাদের তৃণমূলের ভোটে অংশ নেয়নি। এরমধ্যে হায়াত নামে সুয়াবিলে যে একজন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন সে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়নের কোন পদে নেই।’
লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইউনুচ। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক ও মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। আধুনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মুহাম্মদ নুরুল কবির। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব মিয়া ও প্রবাসী মাহমুদুল হক বাবুল। সেখানে আমিরাবাদে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না থাকলেও আধুনগর ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীরা মাঠে আছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘আসছে ৩ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রত্যেককে বহিষ্কার নোটিশ ইস্যু করবো।’
প্রসঙ্গত, আজ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। নির্বাচনী বিধি অনুসারে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর। ২ অক্টোবর দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৩ ও ৪ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করবেন। আগামী ২০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ করা হবে।