৬শ রোহিঙ্গা পরিবার যাচ্ছে প্রথম দফায়

15

লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে ভাসানচর যাচ্ছে ৬শ রোহিঙ্গা পরিবার। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক এসব রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে একাধিক কাপড়ের প্যান্ডেল ও বুথ তৈরি করেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বশীল প্রশাসনের কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক আয়োজন চোখে পড়ার মতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে (আজ) বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া কলেজ মাঠ হতে এসব রোহিঙ্গাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও খাদ্যসামগ্রী মজুত করা হয়েছে। এর আগে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম ঘিরে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপটি ঘুরে আসে ২২টি এনজিও’র প্রতিনিধি দল। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের জন্য মজুদ করা হয়েছে ৬৬ টন খাদ্যসামগ্রী। ক্যাম্প-২০ এর হেড মাঝি মোহাম্মদ হোছন বলেন, ক্যাম্প-২০ এবং ২০ এক্সটেশন থেকে পরিবার রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখাকালীন বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই সব পরিবার ক্যাম্পে অবস্থান করছিল।
ক্যাম্প-১৭ এর হেড মাঝি মোহাম্মদ নুর বলেন, তার ক্যাম্প থেকে ৭০ পরিবারের নাম দেয়া হলেও ৯ পরিবার ভাসানচরে যাওয়ার জন্য রাজি হয়েছে।
ক্যাম্প-৫ এর হেডমাঝি জাফর আলম বলেন, তার ক্যাম্প থেকে ৫ রোহিঙ্গা পরিবার ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক।
এদিকে শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছে এমন খবরে উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করছে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক তহিদুল আলম তৈাহিদ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপনে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু ভাসানচরে নয় পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোহিঙ্গাদেরকে স্থানান্তর করে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
রোহিঙ্গাদের নেয়ার পূর্বে ২২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিগণ ভাসানচর পরিদর্শন করে সরকারের পরিকল্পিত আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা। সেখানে উন্নতমানের একটি আবাসিক এলাকায় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, তার সবই রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার থেকে প্রথমে রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রাম আনা হবে। চট্টগ্রাম থেকে তাদের ভাসানচরে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজ। প্রথম দুই মাস তাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এরপর নিজ নিজ বাসস্থানেই তারা রান্না করতে পারবেন।
সংশিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকায় নির্মিত রোহিঙ্গাদের জন্য এই অস্থায়ী আবাসস্থল এখন কর্মমুখর।
দ্বীপটি বাসস্থানের উপযোগী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।
রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভবন, মসজিদ, স্কুল হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষও করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যা ধারণা করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর ও নিরাপদ জায়গা মনে হচ্ছে ভাসানচর।
আরেক বেসরকারি সংস্থা ‘মুক্তিথর মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশন কর্মকর্তা ফয়সাল বারী বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে কখন থেকে নেয়া শুরু হবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজারে ভূমিধস হয়। সেখানে রোহিঙ্গারা বন উজাড় করছে। এখানে আমার মনে হয় থাকা এবং খাওয়ার বিষয়টা খুবই ভালো হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাদের স্থানান্তর করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরবর্তী মিয়ানমারে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেন ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বসবাস করে আসছেন।