৩১ মার্চের মধ্যে আবার ভোট চান ডাকসুর ভিপি

7

ডাকসু নির্বাচনের ফল বাতিল করে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। আর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলোর নেতারা।
তারা বলেছেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দাবি পূরণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হবেন।
তবে সেই দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে যে নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলকে ‘অশ্রদ্ধা দেখানোর’ এখতিয়ার তার নেই। নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।
গত ১১ মার্চের নির্বাচনে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত নূরসহ ভোট বর্জন করা পাঁচ প্যানেলের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার দুপরে উপাচার্য আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে পুননির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়।
উপাচার্যের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান সাংবাদিকদের বলেন, উনি আমাদের সব কথাই শুনলেন এবং আমাদের সাথে কথা বললেন। উনি বললেন, যারা ক্রিমিন্যাল অ্যাক্টিভিটির সাথে জড়িত, তাদের হাড্ডিগুড্ডি রাখা হবে না।
আমরা তখন বললাম, এক বছর ছাত্রলীগ যে ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি চালিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদের হাড্ডিগুড্ডি কেন আছে এখনও পর্যন্ত? এই প্রশ্নের উত্তরটা আমরা পাইনি। অনেক কথা প্যাঁচানো হয়েছে, কিন্তু আমরা আমাদের উত্তরটা পাইনি।
নিজেদের দাবিগুলো উপাচার্যের কাছে তুলে ধরার কথা জানিয়ে অরণি বলেন, শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম। শনিবারের মধ্যে যদি পুনঃতফসিল ঘোষণা করা না হয়, যারা কারচুপির সাথে জড়িত, তাদের পদত্যাগ না হয়, যত মিথ্যা মামলা আছে, তা প্রত্যাহার না হয়, আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। যারা ছাত্রদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খবর বিডিনিউজের
বাম জোটের ভিপি প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, উপাচার্যের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া তারা পাননি।
আমরা বলেছি, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আমাদের কথা শোনেননি। বরং বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ করে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অ্যাক্টে মামলা দেওয়া হবে।
যারা এতদিন ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করল, তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হল না- তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। বরং গতরাতে যারা রোকেয়া হলে আন্দোলন করেছে, তাদের এক ধরনের থ্রেটের মত দিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলার কথা বললেন।
পরে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা ডাকসুর নতুন ভিপি নুরুল হক নূর।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ব্যতিত অন্য সকল ছাত্র সংগঠন পুনঃনির্বাচন চাচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যে তারা আন্দোলন করছে। আজকে (বুধবার) ভিসি স্যারকে তারা তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে, এত কারচুপির মধ্যেও যেহেতু নির্বাচিত হয়েছি, আমি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছি।
আমিও চাই, এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।
ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলোর দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপাচার্য আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু নির্বাচন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রম-সময় ও মেধার যে খরচ হয়েছে, তার প্রতি অসম্মান জানাতে পারি না। তাদের শ্রমকে অসম্মান করার এখতিয়ার আমার নেই।
কেউ কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ক্যাম্পাসকে অশান্ত করা চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই তা সহ্য করবে না বলে হুঁশিয়ার করে উপাচার্য।