৩য় শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ায় শিশু শিক্ষা কোন পথে

মুহম্মদ আবু তৈয়ব

30

২০২০ সাল থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষা আর থাকছে না। সরকার উঠিয়ে দিচ্ছে। উক্ত প্রচলিত পরীক্ষা তথা সামেটিভ অ্যাসেসমেন্ট এর পরিবর্তে কোন ধরনের শিশু মূল্যায়ন চালু করা যায় তার উপর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও টেক্সট বুক বোর্ড একটি ধারনা পত্র তৈরি করে প্রস্থাবনাও দিয়েছে। এতে শিশু শিক্ষার মান কতটুকু বাড়ানো সম্ভব, শিক্ষার গুনগত মান বিচার কিভাবে হবে, হলেও মুল্যায়নের সঠিক মাপকাঠি কি ইত্যাদি বিষয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। উঠাটা স্বাভাবিক । যেখানে পরিবর্তন সেখানেই আলোচনা, সেখানেই সমালোচনা। এতে বিষয়টা সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। যা নতুন ধারা কার্যকর করায় সহায়ক।
আলোচনায় যাওয়ার আগে শিশু শিক্ষা নিয়ে কিছু বলা যাক।
শিশুকে সুস্থভাবে বেড়ে তোলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল শিশুর বিকাশ ও বর্ধনে স্বাভাবিক ভাবে অগ্রসর হতে দেওয়া। আর স্বাভাবিক অগ্রসরের জন্য শিশুর খাবারের পাশাপাশি তার মানসিক সুস্থতা ও আবেগ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হয়। তার কাজের ও ভাবের অনুমোদন দিতে হয়। এর জন্য শিশুর দরকার নিরাপদ ও মানসিক সঙ্গ। মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের চেয়ে শিশুর উপর সহানুভূতি ও ভালোবাসা বেশি কার্যকর হয়। মস্তিষ্কের চেয়ে হৃদয়বৃত্তির বিকাশের প্রতি গুরুত্ব দিতে হয়।
উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের ধারনা কি, তার মধ্যে শিক্ষাবিদদের মতামত কতটুকু কার্যকর তা দেখা যাক।
পরীক্ষার জন্য কিছু নির্ধারিত পাঠ্যসূচি থাকে। সেই পাঠ্যসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে তৈরি করা। এই তৈরি করার মধ্যে গুরুত্ব পায় পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া। আর ফলাফল হাতে আসলে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক তিনটি বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়। ক) সন্তান কোন ক্যাটাগরিতে পড়ল তা ভেবে। সন্তান যদি ৮০ নম্বরের উপরে পায় তাহলে সন্তান উত্তম, ৮০ নম্বরের নিচে পেলে মধ্যম আর ৫০ নম্বরের নিচে পেলে পিছিয়ে পড়া সন্তান। এইভাবে মার্কা মেরে দিই। তাতে সন্তানের মানসিক সুস্থতা থাকে না। নম্বরের জন্য অশুভ প্রতিযোগিতা সন্তান ও সন্তানের অভিভাবকদের মধ্যে গুরু হয়। খ) সন্তান তার শ্রেণিতে অর্জিত সর্বোচ্চ নম্বর থেকে কত নম্বরে পিছিয়ে আছে। এখানেও সে নম্বরের কথা। গ) সন্তান পূর্বের অর্জিত মেধাস্থান থেকে কতটুকু পিছাল বা সমনে গেল। এসব ধারনায় সন্তানকে আমরা নাম্বার প্রতিযোগিতায় সর্বক্ষণ ব্যস্ত রাখি। সেই ব্যস্ততার কথা সুহৃদ ও স্বজনদের মধ্যেও দেখা যায়। তাদের জিজ্ঞাসা সন্তান কোন শ্রেণিতে পড়ে, রোল নং কত, আরো একধাপ এগিয়ে জানতে চায় প্রাইভেট টিউটর কাকে দেওয়া হয়েছে, কয়জন দেওয়া হয়েছে। কারো মনে শিশুর মানসিক সুস্থতা ও আবেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় না। শিশুটির শোনার দক্ষতা কতটুকু বলার সক্ষমতার অর্জন কতটুকু বা শিশুটি কিসে বেশি আগ্রহ তা নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। মনোযোগ নেই।
প্রচলিত পরীক্ষা শিশুর মেধা বিকাশে অন্তরায় ঃ
পরীক্ষায় অর্জিত নম্বর হল শিক্ষার্থী মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র। যেটি হল সংখ্যাগত পরিমাপ। সংখ্যাগত পরিমাপ দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব না। এই সংখ্যাগত পরিমাপের চাপে শিশুর অন্যান্য সৃজনশীল মননশীল প্রতিভার গুণাবলি চাপা পড়ে যায়। শিশুর প্রতিভা বিকাশের জন্য সুষম আহারের পাশাপাশি শিশুর মানসিক সুস্থতা প্রয়োজন। আবেগিক বিষয়গুলো প্রকাশ করলে তার অনুমোদন প্রয়োজন তা বিবেচনায় রাখি না। ফলে যে শিশু পড়ায় আগ্রহী, গল্প বলায় দক্ষ সে ৮০ নম্বরের নিচে পেলে মধ্যম মানের ছাত্র বলে চিহ্নিত করে দিই।
আবার কেউ আবৃত্তিতে বা ছবি আকায় দক্ষ হলেও সে ৫০ নম্বরের নিচে পাওয়ায় তাকে পিছিয়ে পড়া ছাত্র বলে মার্কা মেরে দিই। এই আচরনে শিশু মানসিক ও আবেগিক নানা জটিলতায় ভোগে। পিছিয়ে পড়া সন্তান নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করে। শ্রেণি কার্যক্রমে তার আগ্রহ কমে যায়, তার মনের অনেক কষ্টের কথা, ভাবনার কথা সহজে প্রকাশ করতে পারে না। অন্য দিকে মধ্যমানের শিক্ষার্থী যাতে উত্তম হতে পারে, অন্যের চেয়ে ভাল নম্বর পেতে পারে তার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করে। যে প্রতিযোগিতা অন্যের সাথে হয় সেই প্রতিযোগিতার ফলাফল যাই হোক না কেন সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে একসময় ক্লান্তি নামে; অবসাদ এসে গ্রাস করে। এতে শিশুর মানসিক শান্তি বিঘিœত হয়। এসব দিক দিয়ে শিশু তার আনন্দের শৈশব হারিয়ে ফেলে, তার কাছে পরীক্ষা হয়ে উঠে একটি চরম স্ট্রেস দশা বা দৈত্য যে দৈত্য তার মনের সব সুকোমলবৃত্তি তাড়িয়ে দেয়। এতে প্রচলিত নম্বর ভিত্তিক পরীক্ষাটি শিশু শিক্ষা বিকাশে সহায়ক না হয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টিতে সচেতনতা তৈরির জন্য স্থানীয় পরিসরে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ, সেমিনার মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছি।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য প্রস্তাবনা ঃ
সম্প্রতি যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তাতে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষার পরিবর্তে অর্থাৎ সামেটিভ অ্যাসেসমেন্ট এর পরিবর্তে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে, যেখানে শিশুকে নম্বর দিয়ে পরিমাপগত স্কেলে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ নেই। শিশুর অন্তরে ঘুমন্ত গুণাবলী জাগিয়ে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১. শিশুর শোনা ২. শিশুর বলা ৩. শিশুর পড়া এবং ৪. শিশুর লিখার দক্ষতা।
১. শোনা ঃ শিশু কোন শব্দ শুনে বা বাক্য শুনে বুঝে কিনা সেদিকটাতে মনোযোগ দেওয়া। শোনার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নানা কৌশল নেওয়া। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রমিত উচ্চারণে তার সাথে কথা বলা, গল্প বলা। শিশুকে শিশুতোষ আদেশ নির্দেশ দিয়ে শোনার কার্যকারিতা যাচাই করা। গল্প শোনানোর পর তাকে গল্প হতে নানা প্রশ্ন করা । প্রশ্নের উত্তর যখন দেবে তখন তার শোনার দক্ষতার বিষয়টি মূল্যায়ন করার সুযোগ হয়। শিশুটির লেখার সক্ষমতা বিবেচনা করে শ্রুতিলিপির ব্যবস্থা করা । শোনার দক্ষতা শিশুকাল থেকেই অর্জন শুরু হয়। শিশুর মানসিক বিকাশে শোনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে ভূমিকা রাখে।
২. বলা ঃ শিশুকে কথা বলানোতে দক্ষ করে তুলতে হয়। শিশু যাতে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়। শিশুর বলাতে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হয় তা হল, শব্দ উচ্চারণে স্পষ্ঠতা, শুদ্ধতা, প্রমিত উচ্চারণে কথা বলা, শ্রবণ যোগ্যতা, সঠিক ছন্দে কথা বলার দক্ষতা ইত্যাদি। এসবে দক্ষতা অর্জনের জন্য তাকে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, কোন কিছু বর্ণনা করতে বলা, বাচন ভঙ্গিতে শুদ্ধতা আনার জন্য আবৃত্তি, ছড়া গানে উৎসাহিত করা। এসবে সফলতা নির্ভর করে শিক্ষকের আন্তরিকতা ও উপস্থাপনার সরস কৌশলের উপর। শিক্ষককে শিক্ষার্থীর বন্ধুর ভূমিকা, প্রিয় মানুষের ভূমিকায় থাকতে হয়। যাতে শিশুর মনে কোন ধরনের ভয় না থাকে। শোনতে বলতে উৎসাহিত হয়।
৩. পড়া ঃ পড়ায় শিশুকে দক্ষ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পড়ায় উৎসাহিত হওয়ার জন্য নানা প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ দিতে হয়। শিশুতোষ ছবি যুক্ত ছড়া গল্প, কার্টুন ক্যাপশন এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিশু পড়ার সময় বিবেচনা করতে হবে সময় উচ্চারণ, সাবলিলতা, পড়ার গতি পরিমাপ, শুদ্ধতা, শ্রবণ যোগ্যতা ইত্যাদি। তবে পড়তে চাপ দেওয়া যাবে না। পড়ার শিশুতোষ বই সহজলভ্য করা। পড়ার বিষয়বস্তু সহজ করে আলাপ আলোচনায় এনে পড়ায় তাকে আগ্রহী করা।
৪. লেখা ঃ শিশুর দক্ষাতা অর্জনের চতুর্থ বিষয় হল এই লেখার দক্ষতা। শিশুকাল থেকে নিয়মিত লেখার অভ্যাস করতে হয়। স্পষ্ট ও আদর্শ বা সঠিক আকারে লেখাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে বর্ণ দিয়ে শব্দ তৈরি, শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি, শূন্য স্থান পূরণ করা, এলোমেলো বর্ণ দিয়ে শব্দ গঠন ইত্যাদিতে শিশুকে নিয়মিত অংশ গ্রহণ করানো যায়। তবে সুন্দর হাতের লেখার প্রতি জোর দিতে হবে।
মজার ব্যাপার হল প্রচলিত পরীক্ষায় উল্লিখিত দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো সমানভাবে গুরুত্ব পায় না। শোনা ও বলাকে অনেক ক্ষেত্রে বিচেনাও করা হয় না।
নতুন প্রস্তাবনায় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কৌশল ঃ
দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষক প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য একটি রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবে। যাতে শিশুর দক্ষতা অর্জনের উপর মন্তব্য লিখতে হবে। কোন বিষয়ে এগিয়ে থাকল, কোন বিষয়ে আগ্রহ বেশি, কোন বিষয়ে পিছিয়ে পড়েছে ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। তবে কোন নম্বর দেওয়া যাবে না। যে নম্বরের খড়গে প্রচলিত পরীক্ষায় শিশুর গলা কাটা যেত। শিশুর রিপোর্ট কার্ডের তথ্য শুনে শিশু বা অভিভাবক বুঝবে শিশুটি পূর্বের তুলনায় কতটুকু এগিয়ে গেল বা পিছিয়ে গেল। শিশু যাতে নিজের সাথে নিজে প্রতিযোগিতায় নামে। অন্যদিকে শিশু যে বিষয়ে বেশি আগ্রহী তা মিটানোর জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। তার উপর ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন: যে বেশি ছড়া আবৃত্তি করে বা করতে চায় তাকে স্থানীয় নানা অনুষ্ঠানে ছড়া আবৃত্তি করার সুযোগ করে দিতে হবে। পর্যাপ্ত সরস ও শিশুতোষ ছড়ার বই পড়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। অডিও রেকর্ড, ভিডিও রেকর্ডে ছড়ার আবৃত্তি শুনার সুযোগ বাড়িয়ে দিতে হবে। রিপোর্ট কার্ডে যে বিষয়ে পিছিয়ে আছে বলে মূল্যায়িত হবে সে বিষয়ে এগিয়ে থাকার জন্য শিশুটির প্রতি বিশেষ পরিচর্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ অভিভাবককে দিতে হবে। রিপোর্ট কার্ডের মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে তথা শিশুটির সার্বিক মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নিত করা যাবে।
প্রস্তাবিত ধারাবাহিক মূল্যায়নে আমাদের প্রত্যাশা ঃ
ধারাবাহিক এই মূল্যায়নটি প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে কতটুকু সফলতা বয়ে আনবে তা নির্ভর করবে শিক্ষকের আন্তরিকতা ও দক্ষতার উপর। এখানে শিশুর হৃদয়বৃত্তি প্রকাশের গুরুত্ব বেশি, মস্তিষ্কের বুদ্ধির খেলার চেয়ে। কারণ চাপ সৃষ্টি করে শিশু থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় না। তাকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার ভেতরের সুপ্ত উদ্যম ও প্রেষণা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। মন থেকে আগ্রহ তৈরির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই আগ্রহ তৈরির পূর্ব শর্ত হল শিশু শিক্ষকের সাথে কতটুকু মানসিক নিরাপত্তাবোধ করবে ও আন্তরিক সঙ্গ পাবে তার উপর। শিক্ষক যদি শিশুকে মানসিক নিরাপত্তা ও সঙ্গ দিতে সক্ষম হয় তাহলে শিক্ষক তার মনের মাঝি হতে পারবে, আর মনমাঝি তো তার মত করে শিক্ষার্থীকে পরিচালিত করতে পারবে। শিশু তখন মানসিক অস্বস্থিতে ভোগবে না। তার আবেগের বিষয় সুখ দুঃখের অনুভূতির কথা শিক্ষককে বন্ধুর মত শোনাতে পারবে। এতে শিক্ষার্থী নিজেকে সুখি বলে মনে করবে। একজন সুখি ও মানসিকভাবে সুস্থ শিশুই উল্লিখিত দক্ষতা অর্জনের সফলতা নিশ্চিত করতে পারে।
দেখা যাক ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জন্য যে প্রস্তাবনা দিয়ে কাজ শুরু করেছে তাতে শিশুকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য ও সুখি করার বিষয়ে কোন ধরনের কর্মপরিকল্পনা দিচ্ছে। আর অন্য দিকে শিক্ষক শিশুর মনমাঝি হতে পারার জন্য, বন্ধু হয়ে উঠতে পারার জন্য, দক্ষ শিক্ষক হয়ে উঠতে পারার জন্য আর কোন কার্যক্রম যোগ হচ্ছে কিনা। যার উপর এই ধারাবহিক মূল্যায়নের সফলতা নির্ভর করে। কারণ ভাল কৃষকই বুঝে শিশু চারাগাছ বেড়ে উঠার পথে মাটির উর্বরতা, আলো, বাতাস, পানি, তাপ ইত্যাদি সুষম ভাবে কখন, কোন পর্যায়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় এবং শিশু চারার নিবিড় পরিচর্যা করে কিভাবে চারা গাছকে সুস্থভাবে বড় করে তুলতে হয়।
জানা গেছে উক্ত ধারাবাহিক মূল্যায়নের ধারনাপত্র বা প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার জন্য দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান একজন অতিরিক্ত সচিব। ধারনাপত্রটি নিয়ে জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের সাথে কর্মশালা করবে। কর্মশালার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি সেমিনার করা হবে। যেখানে দেশের বরণ্য শিক্ষাবিদদের মতামত গ্রহণ করা হবে। দেখার বিষয় ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার সময় দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষক হওয়ার জন্য এবং নির্ভীক ও স্বতঃস্ফূর্ত শিক্ষার্থী তৈরির জন্য অর্থবহ ও কার্যকরী কি কর্মপরিকল্পনা দিচ্ছে। বিষয় দুইটি সময়ের দাবি ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার চাবিকাঠি। উক্ত দুটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে প্রচলিত পরীক্ষার পরিবর্তে ধারাবাহিক মূল্যায়ন নামে যে পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে তা শিশু শিক্ষায় নবযুগের সূচনা করবে।