চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

২৫ ওয়ার্ডে এখনও স্থাপন হয়নি ডিজিটাল সেন্টার

ওয়াসিম আহমেদ

41

২০১০ সালে ১০৬ ধরনের নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছে দিতে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টিতে এখনও ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন হয়নি। ফলে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব ওয়ার্ডের নাগরিকরা। তবে চসিকের দাবি, ওয়ার্ড অফিসে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালে প্রতি ওয়ার্ডে দুইজন করে মোট ৮২ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাদের মধ্যে অনেকে অন্য পেশায় যুক্ত হন। তাই ২০১৬ সালে আবারও প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ৪১ জন উদ্যোক্তা নির্ধারণ করে চসিক। তাদের মধ্যেও অনেকে হতাশ হয়ে দিনাতিপাত করছেন। এসব উদ্যোক্তা জানান, সংশ্লিষ্টদের অনাগ্রহ ও সদিচ্ছার অভাবে ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে না।
সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড অফিসে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হবে। ওয়ার্ড অফিসের প্রবেশমুখে ও দৃশ্যমান স্থানে কমপক্ষে ১৮০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট কক্ষ বরাদ্দ করতে হবে। যেখানে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ওয়েবক্যাম, ইন্টারনেট কানেকশন, কমপক্ষে ৬টি বসার চেয়ারসহ টেবিল বসানো যায়। সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব তহবিল থেকে এ কাঠামো তৈরি করবে। আর নির্ধারিত উদ্যোক্তারা এ সেন্টার পরিচালনা করবেন।
২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এসব ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নাগরিকরা টাকার বিনিময়ে ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে ১০৬ ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। এর মধ্যে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন, পর্চার আবেদন, পাসপোর্টের আবেদন, পাসপোর্টের ফি জমা, হজ যাত্রীদের প্রাক নিবন্ধন, বিদ্যুৎ বিল জমা, বিদ্যুতের মিটারের আবেদন ও ভিসা আবেদন উল্লেখযোগ্য।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি তাগিদপত্র দেওয়া হয়। এতে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারগুলোর তথ্য এবং বাকিগুলো কবে শেষ হবে তা জানতে চাওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১০ জুলাইও একই তথ্য চেয়ে চসিকের কাছে পত্র পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা মতে, ওই বছরের ২০ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের একটি তালিকা পাঠায় চসিক। তালিকায় ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টিতে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই ২৫টি ওয়ার্ডে গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে উল্লেখ করে পত্র পাঠায় চসিকের প্রকৌশল বিভাগ।
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনে প্রকৌশল বিভাগ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। জায়গা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সচিবালয় বিভাগের। মূলত জায়গা নির্ধারণ না হওয়ার কারণেই ডিজিটাল সেন্টারগুলো স্থাপন করতে দেরি হচ্ছে।
জানা গেছে, সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভোলার চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে দেশের প্রথম ডিজিটাল সেন্টার স্থাপিত হয়। এরপর দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চসিক ২০১৩ সালে চান্দগাঁও ওয়ার্ডে প্রথম ডিজিটিাল সেন্টার স্থাপন করে।
ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে ভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১৫নং ওয়ার্ডের উদ্যোক্তা মাসুদ পারভেজ পূর্বদেশকে বলেন, আমি ২০১৬ সালে ১৫নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে নির্ধারিত হই। কিন্তু ওয়ার্ড অফিসে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তিনি সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে মন্তব্য করেন।
৩১নং আলকরণ ওয়ার্ডের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান শুভ বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শীঘ্রই শুরু করা যাবে। তিনি আরও জানান, ২০১৩ সাল থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। এরপর প্রায় ৬ বছর এ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অনাগ্রহতাই এর অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, সবগুলো ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করতে। কিন্তু ওয়ার্ড অফিসে যথেষ্ট জায়গা না থাকার কারণে যথাসময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা আমাদের ওয়ার্ড অফিসগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়নি। এমনকি অনেক ওয়ার্ড অফিসে কাউন্সিলর নিজেই ভালোভাবে বসতে পারেন না। তাছাড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে, ডিজিটাল সেন্টারগুলো ওয়ার্ড অফিসের নিচতলায় করতে হবে। আসলে এ কারণেই দেরি হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, সবগুলো ওয়ার্ডে যাতে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা যায়।