সমাবেশে বক্তারা

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িত সকলের মৃত্যুদন্ড চাই

চন্দনাইশ ও রাউজান প্রতিনিধি

13

রাউজান : ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক রহমানসহ সকল আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। তিনি গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার পরপরই নিজ নির্বাচনী এলাকার চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা থেকে জলিলনগর বাসস্ট্যান্ট পর্যন্ত রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ আয়োজিত মিছিল ও মুন্সিরঘাটা দলীয় কার্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকার পক্ষকে আপিলের অনুরোধ জানিয়ে আরো বলেন, এই ধরনের ঘৃণ্যতম কাজের জন্য তারেক রহমানসহ সকলের মৃত্যুদন্ডই আশা করেছিল জনগণ। কিন্তু তা হয়নি। তাতে জনগণের আজ কিছুটা হলেও হতাশা এসেছে। আমি মনে করি সরকার আপিল করলে এতে সকলের মৃত্যুদন্ড হতে পারে। এতেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য উপযুক্ত বিচার হবে বলে আমি মনে করি।
রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, আলমগীর আলী, কাজী মো.ইকবাল, আলমগীর আলী, ইরফান আহমেদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার, ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, আবদুর রহমান চৌধুরী, প্রিয়তোষ চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর এডভোকেট দিলিপ চৌধুরী, এডভোকেট সমীর দাশগুপ্ত, জানে আলম জনি, শওকত হাসান, আজাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, ইউসুফ খান, সৈয়দ হোসেন কোম্পানী, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সুমন দে, সারজু মো.নাছের, শওকত হোসেন, আহসান হাবিব চৌধুরী হাসান, আলমগীর আলী, তপন দে, হাসান মো.রাসেল, জিয়াউল হক রোকন, জাবেদ রহিম, জিল্লুর রহামন মাসুদ, আবদুল লতিপ, আবু সালেক, মো.আসাদ, শাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, অনুপ চক্রবর্ত্তী, মো.আসিফ, আরমান সিকদার, ফয়সাল মাহমুদসহ স্থানীয় আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
চন্দনাইশ : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় আ.লীগের কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশিত হওয়ার পর পর চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল ১০ অক্টোবর ২১ গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশিত হওয়ার পর পর চন্দনাইশ উপজেলা, পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়ন আ.লীগ পৃথক পৃথক মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে। এ সকল সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরীসহ আ.লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া উপজেলা আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ইউনিয়ন আ.লীগের নেতৃবৃন্দ এ সকল সমাবেশে বক্তব্যে বলেন, আ.লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। দলীয় সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ১৪ বছর আগে গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও তারেক জিয়া গংরা। সেদিন গ্রেনেড হামলায় জননেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা পেলেও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পত্নী, কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়। ২শতাধিক নেতাকর্মী জখম প্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় ২টি মামলা হয়। সে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১০ অক্টোবর রায় দেয়া হয়। রায়কে স্বাগত জানিয়ে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তরা বলেন, এ হত্যাকান্ডের মূল নায়ক, অর্থ ও হুকুমদাতা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ইন্ধনদাতা তারেক জিয়ার ফাঁসি দাবি জানান।
রায় প্রকাশের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত বিজিসি ট্রাস্ট,গাছবাড়িয়া পুরাতন কলেজ গেইট, দক্ষিণ গাছবাড়িয়া মক্কা পেট্রোল পাম্প, দেওয়ানহাট মোড়, দোহাজারী সদর, চন্দনাইশ পৌরসভা, সাতঘাটিয়া পুকুর পাড়সহ বিভিন্ন স্পটে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।