আগামী সপ্তাহে কর্ণফুলীতে চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস

২০ মিনিটেই সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর

ফারুক আবদুল্লাহ

49

যানজট নিরসন ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের সুবিধার্থে অবশেষে কর্ণফুলী নদীপথে ওয়াটার বাস আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হচ্ছে। এতে করে মাত্র ২০ মিনিটে নগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাটে যাওয়া যাবে। সেখান থেকে কয়েক মিনিটে অভ্যন্তরীণ বাসে যাওয়া যাবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।
এদিকে কর্ণফুলী নদীতে ওয়াটার বাস চালু হওয়ার ফলে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব হবে। যাত্রীরা সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবে। এতে বিমানের লোকসানও কমে আসবে। বহির্বিশ্বে এই বিমান বন্দরের সুনাম উজ্জ্বল হবে।
তবে নৌপথে সদরঘাট থেকে বিমান বন্দরে যাওয়ার পথটি সহজ হলেও সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক পথের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে না পারলে ওয়াটার বাস চালুর পদক্ষেপে সুফল আসবে না। তাই একই সাথে সদরঘাটে আসার সড়ক পথ সংস্কারসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, কর্ণফুলী নদীতে প্রথমে দুইটি ওয়াটার বাস দিয়ে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এগুলো বিমানের শিডিউলের সঙ্গে মিল রেখে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা নিয়মিত আসা-যাওয়া করবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব ওয়াটার বাস যাত্রীদের নিয়ে যাতায়াত করবে। বিমানবন্দরের যাত্রীরা ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ যাত্রীরাও এ সার্ভিসের সুবিধা পাবেন। আরও তিনটি ওয়াটার বাস আসার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করেছে ৪০০ টাকা। এতেই যাত্রীদের লাগেজ ওয়াটার বাসে উঠা-নামা, বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ বাসে তোলাসহ সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর প্রতিটি ওয়াটারবাসে থাকবে দুইটি দুইশ হর্সপাওয়ারের জাপানি ইয়ামাহা ইঞ্জিন। রয়েছে জাপানি নেভিগেশনাল যন্ত্রপাতি, ওয়াইফাই সুবিধা, সোলার সিস্টেম, এয়ার কন্ডিশন। যাত্রীদের জন্য প্রতিটি বাসে রয়েছে ২৫টি আসন।
এছাড়া নিউমার্কেট মোড় থেকে সদরঘাট মোড়ের আগেই হাতের বামপাশে থাকবে গাড়ি পার্কিং সুবিধা, দোতলা আধুনিক টার্মিনাল ভবন, গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াটার বাসের স্টেশন। টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় রয়েছে চারটি বিমান কোম্পানির জন্য ডেস্ক ও যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য রয়েছে চেয়ার। রয়েছে ভিআইপি সোফা। ছাদে রুপটপ রেস্টুরেন্ট হচ্ছে।
ওয়াটার বাস পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া এসএস ট্রেডিংয়ের টার্মিনাল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান জানান, মাত্র ২০ মিনিটে সদরঘাট থেকে বিমানবন্দরে যাওয়া সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা ওয়াটার বাস দুইটি ট্রায়াল দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করেছে ৪০০ টাকা। এ ভাড়ার মধ্যেই যাত্রীদের লাগেজ ওয়াটার বাসে উঠা-নামা, বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ বাসে তোলা সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মূলত যানজটের কারণে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের যাত্রীদের ফ্লাইট মিস না হয় সে লক্ষ্যে এ ওয়াটার বাস চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথমে দুইটি ওয়াটার বাস দিয়ে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। আরও তিনটি ওয়াটার বাস চালু করা হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ওয়াটার বাস চলবে। বিমানের যাত্রী ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ যাত্রীরাও এ সার্ভিস উপভোগ করতে পারবেন।
এদিকে নগরীর জিইসি মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। আর নিউমার্কেট মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। এই দুটি স্পট থেকে বিমানবন্দরে যেতে স্বাভাবিকভাবে আধাঘন্টার মত সময় লাগার কথা। কিন্তু এসব স্থান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৮টি স্পটের যানজট এড়াতে হয়। অনেক সময় তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীরা সঠিক সময়ে বিমান বন্দরে পৌঁছাতে পারে না। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন কেউ না কেউ এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ওয়াটার বাস চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। এ জন্য কর্ণফুলী নদীতে নতুন একটি নৌরুট চালুর প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে তা আলোর মুখ দেখেছে ।
সিভিল এভিয়েশন সূত্র মতে, প্রতিদিন চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে ২৮টির মতো ফ্লাইট অপারেট করা হয়। এসব ফ্লাইটে সাড়ে ৪ হাজারের মতো যাত্রী থাকেন। যানজটের কারণে এসব যাত্রীদের প্রায় সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সদরঘাট থেকে ওয়াটার বাসে করে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত গেলে নগরীর বিভিন্ন স্পটে লেগে থাকা যানজট থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, যানজট নিরসন আর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের সুবিধার্থে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এজন্য ওয়াটার বাসগুলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে তা আলোর মুখ দেখছে। এতে করে বিমানবন্দরের যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।