ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড

২০ একর পাহাড় কেটে সমতল!

দুটি পাহাড় কাটার প্রমাণ পেয়ে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করল পরিবেশ অধিদপ্তর

ফারুক আবদুল্লাহ

99

ফৌজারদারহাট থেকে বায়েজিদ লিংক রোড নির্মাণের সুযোগে রাস্তার উভয় পাশে জায়গা কেনার কথা বলে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। দিনের বেলায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চললেও রাতের আঁধারে পাহাড় কাটছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে চারপাশে উঁচু ইটের দেয়াল দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে প্রায় ২০ একর জায়গা সমতল করে ফেলেছে।
এদিকে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে সিডিএ’কে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করার পর এবার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তারা সিডিএ’র প্রকল্পের নকশার বাইরে গিয়ে পাহাড় কেটে ও জলাধার ভরাট করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করেছে। প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল পাহাড় কাটা ও জলাধার ভরাটের প্রমাণ পাওয়ার পর বুধবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়। গত বুধবার বিকেলে শুনানি শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক মোয়াজ্জম হোসাইন স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। শুনানিতে স্পেকট্রার পক্ষে প্রকল্প পরিচালক রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ লিংক রোড তৈরির কাজ করছে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। এই রোডের এক নাম্বার কালভার্টের পরে কিছুদূর সামনে গেলে রাস্তার বামপাশে তৈরি করা হয়েছে স্পেকট্রার অস্থায়ী ইয়ার্ড।ভিতরে গিয়ে দেখা যায় ইয়ার্ডের পিছনে পাহাড় কেটে ইটের সীমানা প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তাকে পাহাড় কারা কাটছে জানতে চাইলে তাদের জানা নেই বলেন। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত তাদের এক কর্মচারি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা পাহাড় কেটে সমতল করছে। কেউ যাতে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য চারদিকে ইটের দেয়াল তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে পাহাড় কেটে প্রায় ২০ একর জায়গা সমতল করেছে তারা। যা তাদের কেনা জায়গা বলে দাবি করছে।
একইভাবে রাস্তার ডানপাশে আরেকটি জায়গায় চারদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ভিতরে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। দূর থেকে দেখা যায় পাহাড় কাটার চিহ্ন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্পেকট্রার প্রকল্প পরিচালক রবিউল আলম পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা পাহাড় কাটছি না। ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য বাইরে থেকে মাটি এনে ভরাট করছি।’
প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবু কেন ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় ২০ একরের মত জায়গা আমরা তিন থেকে চারজন মালিকের কাছ থেকে কিনেছি। তবে এই জায়গায় আমরা কি করবো সেটা বলবো না। এছাড়া জায়গার মালিকানা বিষয়ে সিঙ্গাপুরের নাছির বলতে পারবে বলে জানান তিনি। এসময় পাহাড় কাটার অনুমোদন কে দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, লিংক রোডের উভয় পাশে ইটের উঁচু দেয়াল দিয়ে রাতের আঁধারে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে স্পেকট্রা। রাস্তার কাজের বাইরে গিয়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় উন্নয়নের নামে পাহাড় নিধন করছে তারা। এছাড়া এই এলাকাটা সিঙ্গাপুর নাছিরের দখলে। এখানে জায়গা কেনা-বেচা সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে চলে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, দুইটি পাহাড় কাটার দায়ে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে আরও পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বায়েজিদ লিংক রোড তৈরি করার সময় নকশার বাইরে গিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে সিডিএ’কে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।