১ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে চট্টগ্রামের চারে চার

12

শেষ ওভারে জয় পেতে রাজশাহীর দরকার ১৪ রান। বল হাতে আসেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ক্রিজে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। প্রথম বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে শামসুর রহমানের হাতে ধরা পড়ে বিদায়। মাঠে নামেন রনি তালুকদার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে কোন রান নয়। চতুর্থ বল ছক্কা হাঁকিয়ে মাঠের বাইরে পাঠালেন রনি। শেষ দুই বলে আট রান প্রয়োজন। পঞ্চম বল ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারিতে চলে গেলে জমে উঠে ম্যাচ। শেষ বলে চার রান দরকার, কিন্তু কাটার মাস্টারের এই বল থেকে দুই রান নিতে পারে রাজশাহীর রনি তালুকদার। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল মিনিস্টার গ্রূপ রাজশাহীকে এক রানে হারিয়েছে গাজী গ্রূপ চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করে আসরের সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় চট্টগ্রাম। জবাবে রাজশাহীর ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে।
ফলে গাজী গ্রূপ চট্টগ্রাম টানা চার ম্যাচের চারটিতে অপরাজিত থেকে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো। অন্যদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচে দ্বিতীয় পরাজয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেল রাজশাহী ।
১৭৭ রান তাড়া করতে নেমে রাজশাহীকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেন ইমন। পরের ওভারে এক্সট্রা কভার দিয়ে শরীফুলকে চার মারেন শান্ত। নাহিদুলের করা তৃতীয় ওভারে চার মেরে শান্তকে স্ট্রাইক দেন ইমন। শেষ তিন বলে জোড়া ছক্কা হাঁকান রাজশাহী অধিনায়ক, ৩ ওভারে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ রান।
শরীফুলের করা প্রথম ওভারে ঠিক ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ইমন। সেই শোধটা পরের ওভারেই নিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সী এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথম বলে শান্তর কাছ থেকে সিঙ্গেল পাওয়ার পর শেষ পাঁচ বলে হাঁকান তিন বাউন্ডারি। শেষ বলে আপার কাটে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চারের মারে ওভারটি শেষ করেন ইমন।
দুই ওপেনারের সাবলীল ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামের মতোই পঞ্চম ওভারে দলীয় ফিফটি পূরণ হয় রাজশাহীর। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আক্রমণে এসেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলটি লেগস্ট্যাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। দূর থেকে খেলার চেষ্টা করেন শান্ত, ব্যাটে আলতো ছুঁয়ে চলে যায় উইকেরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে, ভেঙে যায় ৩৪ বলে ৫৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ২টি করে চার ও ছয়ের মারে ১৪ বলে ২৫ রান করেন শান্ত।
অধিনায়ক ফিরে গেলে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে জুটি গড়েন ইমন। দুজনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১২ ওভারে পূরণ হয় দলীয় শতক। নবম ওভারে তাইজুলের ওভারে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকানোর পর স্কয়ার কাটে বাউন্ডারি মারেন ইমন, তুলে নেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ইমন। দলের আশা বাঁচিয়ে রেখে ৩৫ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ফিফটি পূরণ করেন তিনি।
তবে এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি। জিয়াউর রহমানে নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে, খেলেন ৪৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। ইমনের আগেই অবশ্য সাজঘরে ফিরে যান আশরাফুল। মোসাদ্দেক সৈকতের ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ এজে ধরা পড়েন ফাইন লেগে দাঁড়ানো মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। আশরাফুলের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২০ রান।
সেট ব্যাটসম্যানদের উইকেট হারিয়ে পুরো দায়িত্ব বর্তায় নিচের দিকে থাকা শেখ মেহেদি হাসান, ফজলে রাব্বি, নুরুল হাসান সোহানদের কাঁধে। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলে মেহেদি আউট হন ১৭ বলে ২৫ রান করে। ফজলে রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ১১ রান। ফলে শেষ ১৭ বলে জয়ের জন্য বাকি থাকে ৩৫ রান। তখন উইকেটে ছিলেন সোহান ও ফরহাদ রেজা। মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারে একটি ছক্কা হাঁকালেও আসে মাত্র ৮ রান। শরীফুলের করা ১৯তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর চার ও ছয় মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ফরহাদ রেজা। কিন্তু পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরে যান ৫ বলে ১২ রান করা ফরহাদ। শেষ ওভারে রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬ বলে ১৪ রান।
শেষ ওভারে বল হাতে আসেন মোস্তাফিজ, প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান নুরুল সোহানকে। পরের দুই বল ডট খেলেন রনি তালুকদার। তবে চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফের জমান ম্যাচ, পঞ্চম বলে ব্যাটের কানায় লেগে হয় ৪। শেষ বলে যখন জয়ের জন্য দরকার ৪ রান, তখন লংঅনে মেরে ২ রানই নিতে সক্ষম হন রনি। ফলে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় টেবিল টপার চট্টগ্রাম।