১৫ মাসেও আমজু মিয়ার খোঁজ মিলেনি

3

চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের রেগঘাটা থেকে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন আমজাদ হোসেন প্রকাশ আমজু মিয়া (৫৫)। এরপর দীর্ঘ সাড়ে ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও তার সন্ধান পায়নি পুলিশ।
এরমধ্যে জনতার সহায়তায় দুই আসামিকে আটক করা গেছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আসামিরা একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে দায় সারে পুলিশ।
আমজু মিয়া কি বেচে আছেন, নাকি মারা গেছেন? এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় পুলিশ। ফলে তার পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ আর হতাশা। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন আমজু মিয়ার পরিবার।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর না হয়ে আমজু মিয়ার পরিবারকেই হয়রানি করেন মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমির হামজা। থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলা করেন আমজু মিয়ার পরিবার। তাই পরিবারের সদস্যদের উপর ক্ষ্যাপা ছিলেন তিনি। মামলার বাদী ও তার বৃদ্ধা মাকে বেশ কয়েকবার বাড়িতে গিয়ে হুমকি, বাদীকে সহায়তা করা লোকজনকে আটক করে মারধর করেন তিনি।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে মামলাটি। সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।
জানা গেছে, আমজু মিয়া নিখোঁজের ঘটনায় ছেলে মো. আলমগির বাদি হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ধোপাছড়ি তদন্তকেন্দ্রের তৎকালিন ইনচার্জ এসআই মো. আমির হামজা। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আমজু মিয়াকে ফোন করে মাছ ধরার কথা বলে ডেকে নেন একই ইউনিয়নের নুরুল আমিন প্রকাশ কালা আমিন। এরপর থেকে আর ফেরেননি আমজু মিয়া। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন নুরুল আমিন প্রকাশ কালা আমিনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করলে পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কোর্টে প্রেরণ করে। এরমধ্যে নিখোঁজ আমজু মিয়ার পুত্র মো. আলমগির বাদি হয়ে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সিআর মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পিবিআই) মোজাম্মেল হক বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইয়ে আসার পর আমাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিস্তারিত জেনে আমজু মিয়ার সন্ধানে কাজ শুরু করেছি। আশা করি মামলাটির সঠিক সুরাহা হবে।