চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

১৪ বছরেও উৎপাদনে যেতে পারেনি টিউব লাইট ফ্যাক্টরি

ওয়াসিম আহমেদ

30

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান তিনটি কাজের একটি হচ্ছে নগরের আলোকায়ন নিশ্চিত করা। এ সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৪ বছর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) টিউব লাইট ফ্যাক্টরি করার উদ্যোগ নেয়। নগরীর সাগরিকা গরু বাজারের পাশে চসিকের সাগরিকা ইয়ার্ডে করা হয় এ ফ্যাক্টরি। অবকাঠামো তৈরি হলেও গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারেনি ফ্যাক্টরিটি। এছাড়া ১০ বছর আগে করা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ‘প্রিমিয়ার ড্রিংকিং ওয়াটার’ ও রং ফ্যাক্টরি অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব আয়বর্ধক কারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ত। ফলে এসব কারখানা বন্ধ থাকার কারণে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারখানার ছাদে বড় আকারের অনেকগুলো ফুটো। সে ফুটো দিয়ে বিকাল পর্যন্ত সূর্যের আলো কারখানার ভেতর প্রবেশ করে। যদিও রাতের শহরকে আলোকিত করতে টিউব লাইট তৈরির কথা ছিল এ কারখানায়। কিন্তু ১৪ বছরেও তা হয়নি। এখন অবশ্য সিটি কর্পোরেশন টিউব লাইটের পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করছে। টিউব লাইট উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময়টা অনেক দীর্ঘ হওয়ায় চাহিদা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন টিউব লাইট তৈরির মেশিনগুলোকে ধূলোর স্ত‚ত। পাশেই খালি জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বিন।জানা গেছে, ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে এ টিউব লাইট ফ্যাক্টরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বছরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ফ্যাক্টরিটির অবকাঠামোর কাজ শেষ করে সিটি কর্পোরেশন। তবে সেই সময়ে শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্যাস পায়নি সিটি কর্পোরেশনের এ ফ্যাক্টরি। ফলে গ্যাস সংযোগের অভাবে একটি টিউব লাইটও তৈরি হয়নি এ কারখানা থেকে।
এ বিষয়ে চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ঝুলন কুমার দাশ বলেন, তখন গ্যাস সংযোগের দায়িত্বে ছিল বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড (বিজিএসএল)। তাদের কাছে সিটি কর্পোরেশন বেশ কয়েকবার আবেদন করেও গ্যাস সংযোগ পায়নি। কেননা তখন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের টিউব লাইটের চাহিদা কমে যায়। ফলে ওইদিকে আর না গিয়ে সে জায়গায় আয়বর্ধন স্থাপনা করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
তিনি আরও বলেন, এখন ৬০ শতাংশ বাতি এলইডি হচ্ছে। বাকিগুলোতে এনার্জি লাইট ব্যবহার করা হয়। সামনে পুরোটা এলইডি বাতি ব্যবহার করা হবে। ফলে টিউব লাইটের এখন কোন চাহিদা নেই।
অন্যদিকে টিউব লাইট ফ্যাক্টরির পাশেই রয়েছে চসিকের প্রিমিয়ার ড্রিংকিং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। যেটি ২০০৯ সালের ২৭ জুন উদ্বোধন করা হয়। সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনীয় খাবার পানি ব্যবহারের পর বাড়তি উৎপাদিত পানি জারে করে বিক্রি করা হতো। তাও ৬ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের এ পানির চাহিদা ছিল। বাজারে কমমূল্যের মানহীন জারের পানি সয়লাব হওয়ায় টিকতে পারেনি এ পানি। তবে সেটাকে লাভজনক করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে বন্ধ করে দেন তৎকালীন সিটি মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। তখন থেকে সবধরনের উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্বেও কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের ওই সাগরিকা ইয়ার্ডেই রয়েছে রং ফ্যাক্টরি। যেখানে সিটি কর্পোরেশনের সড়কে ব্যবহারের জন্য সবুজ, লাল ও সাদা রং তৈরি করা হতো। ফলে সাশ্রয় হতো প্রায় ২৫ শতাংশ খরচ। সেই রং ফ্যাক্টরিটিও বন্ধ গত ১ বছর ধরে। কেন বন্ধ রয়েছে তারও কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, টিউব লাইট ফ্যাক্টরি করা হয়েছিল ১৪ বছর আগে। সেটা চালু করাই সম্ভব হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিটি কর্পোরেশনে সোডিয়াম বাতি ও টিউবলাইট থেকে সরে এলইডি বাতি প্রয়োগ করা হয়। সময়ের মধ্যে শতভাগ এলইডি বাতি হয়ে যাবে। এখন টিউব লাইটের কোন চাহিদা নেই। তাই আমরা সেখানে আয়বর্ধক স্থাপনা করার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে সড়কের জন্য রংয়ের প্রয়োজন হয়। সেটা যেকোন সময় খোলা যেতে পারে। কেননা সেখানে বড় কোন কাজ নেই।