পাল্টে যাচ্ছে নগরচিত্র, থাকছে না কাঁচা রাস্তা

১৪২৮ সড়কের জন্য চসিকের ৪৮০ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

38

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমূল পাল্টে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চিত্র। থাকছে না এতদিনকার কাঁচা ও আধাকাঁচা সড়ক। নগরীর এক হাজার ৪২৮টি কাঁচা রাস্তাকে পাকাকরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ। তবে প্রাথমিকভাবে ৪৮০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হলেও এসব প্রকল্পে যোগ হবে সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণও। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন বলে মনে করছেন চসিকের প্রকৌশলীরা।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯ ওয়ার্ডের এক হাজার ৪২৮টি সড়ককে পাকাকরণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। রাজস্ব খাতে ২২৫ কোটি টাকায় এক হাজার ১৫৯টি সড়কের ১৮০ কি.মি. এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকায় ২৬৯টি রাস্তার ১২২ কি.মি. উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব সড়ক উন্নয়নের যে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে তার সাথে সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস ও ট্রাক টার্মিনালও নির্মাণ করা হবে। তবে ২৩নং উত্তর পাঠানটুলি ও ৩১নং আলকরণ ওয়ার্ডের কোন সড়ককে এ তালিকায় রাখা হয়নি।
তথ্য মতে, ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ৭৮টি, ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডে ১১৯টি, ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে ১৬৭টি, ৪নং চান্দগাঁও ওয়ার্ডে ৬৯টি, ৫নং মোহরা ওয়ার্ডে ৬০টি, ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে ৭৪টি, ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে ৪৩টি, ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডে ৪৫টি, ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ৪৪টি, ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ৩৫টি, ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে ৬১টি, ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডে ১১টি, ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ৮টি, ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে ২৫টি, ১৫নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডে ৪টি, ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ডে ১৩টি, ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৩১টি, ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৭৫টি, ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে ১৭টি, ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডে ১২টি, ২১নং জামালখান ওয়ার্ডে ৪টি, ২২নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে ৫টি, ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে ৩৪টি, ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডে ২৬টি, ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে ৩৬টি, ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে ২৫টি, ২৮নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডে ২২টি, ২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে ৪টি, ৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে ১৮টি, ৩২নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে ২টি, ৩৩নং ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে ২টি, ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে ৫টি, ৩৫নং বক্সিরহাট ওয়ার্ডে ১১টি, ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে ২৫টি, ৩৭নং উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে ৪১টি, ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে ৩১টি, ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে ৩৭টি, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ৩৬টি এবং ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ৭৩টিসহ এক হাজার ৪২৮ সড়ক চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নগরীর ওয়ার্ডগুলোর গ্রামীণ সড়ককে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়।
চসিকের সহকারি প্রকৌশলী মনজুরুল হক তালুকদার পূর্বদেশকে বলেন, ‘নগরীতে ভবিষ্যতে কোন কাঁচা রাস্তা থাকবে না। কাঁচা ও আধাকাঁচা সড়কগুলো পাকা (সিসি) করা হবে। ইতোমধ্যে পুরো কর্পোরেশন এলাকা থেকে ১৪২৮টি সড়ককে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। এসব কাঁচা রাস্তা পাকা হয়ে গেলে পুরো নগরীর চেহারাই পাল্টে যাবে।’
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে কাঁচা সড়কগুলো চিহ্নিত করেছি। আগের প্রকল্পের বাদ পড়া সড়কগুলো সহ কাঁচা সড়কগুলোর তালিকা করা হয়েছে। সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যান অনুসরণেই সড়ক যোগাযোগের এসব উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় আমরা নগরীতে একটি বাস স্ট্যান্ড ও একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করবো। শুধু সড়ক পাকাকরণ, ড্রেন নির্মাণসহ প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের জন্য ৪৮০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা রাখা হলেও পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি তহবিল প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুরো প্রকল্পই এখনো প্রাথমিক স্টেজে রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে।’