১২৯ ইউনিট চাঙা করছে নগর আওয়ামী লীগ

রাহুল দাশ নয়ন

28

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। আবারো দামামা বাজছে নির্বাচনের। চসিক প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় আছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। দল মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীও নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন দলীয় সভা-সমাবেশে। সাংগঠনিক কর্মকান্ডে জোরালোভাবে মনোনিবেশ করেছেন নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। প্রতিদিন নগরীর কোন না কোন স্থানে নগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৩টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১২৯টি ইউনিটে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কাজ করছে নগর আওয়ামী লীগ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। এসব সভা থেকে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে। একইসাথে আসন্ন চসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি বার্তাও দেয়া হচ্ছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের ভিত্তি সুসংগঠিত রাখতে চাই। এক্ষেত্রে যদি কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত হয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।সংগঠনের ভালোর জন্য প্রতিটি ইউনিটে যা যা করতে হবে সবই করবো আমরা।’
নেতাকর্মীরা জানায়, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও থেমে থাকেননি। নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানায় কর্মসূচি চলমান আছে। এ কর্মসূচির আড়ালেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বড় ধরনের জনমত গঠন করছে আওয়ামী লীগ। এসব সভা থেকেই দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের বার্তা যেমন দেয়া হচ্ছে তেমনি সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। যেখানেই কোন সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে সাথে সাথে তা নিরসনের কথা উঠছে। সাংগঠনিক পর্যায়ে এভাবে সভা করায় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের সৃষ্টি হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে সাংগঠনিক নির্দেশনা।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের আওতায় ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও ১২৯টি ইউনিট আছে। এরমধ্যে ১১টি ওয়ার্ডের ৩৩টি ইউনিটে সাংগঠনিক কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিটে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এসব সভা থেকেই ইউনিট কমিটিগুলো সচল করা হচ্ছে। অনেক কমিটিতে নেতারা মৃত্যুবরণ করেছেন। সেখানেও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এমন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে সবকিছুর আড়ালে চসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের আগাম প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক পূর্বদেশকে বলেন, ‘নগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি পালনে ব্যাপক সাড়া মিলছে। তৃণমূলে দীর্ঘদিন পর এমন কর্মসূচি পালনে সবার মধ্যে উৎফুল্লতা বিরাজ করছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসারে এবার বাড়তি পরিকল্পনা নিয়ে কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটেই এ কর্মসূচি পালিত হবে। ইতোমধ্যে ৩৩টি ইউনিটে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি সভা থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। কমিটিগুলো সচল করা হচ্ছে। সামনে চসিক নির্বাচন নিয়েই সভাগুলোতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তৃণমূলের এ সভাগুলো থেকে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে যা যা দরকার সবই নেয়া হচ্ছে।’