সরকারি-বেসরকারি স্কুল

১ম, ২য়, ৩য়-রা সারাবছর ক্লাস ক্যাপ্টেন নয়

16

দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক ও মানবীয় গুণাবলী সমৃদ্ধ নেতৃত্ব বিকাশের জন্য তিন দফা পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। গতকাল সোমবার মাউশির ডিজি স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে স্কুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সব উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্লাস ক্যাপ্টেনের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদেরই নির্বাচিত না করে অন্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মাউশি মহাপরিচালক। খবর বাংলানিউজের
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুণগত শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ। বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জিত হওয়া প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় বিবেচনায় রেখে বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের অঙ্গন ও ওয়াশব্লক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিকল্পনা ও পরিচালনা করবে এবং শিক্ষকরা এ কাজে সহযোগিতা করবেন।
ক্লাস ক্যাপ্টেন : শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী, সময় সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাবোধ তৈরি করার জন্য ক্যাপ্টেনদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ক্লাসে বার্ষিক পরীক্ষায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে কেবল তাদেরকেই সারাবছরের জন্য ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এখন থেকে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টির জন্য শিক্ষকের তত্ত¡াবধানে প্রতি ক্লাসে একই সঙ্গে ৩/৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পাবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যায়ক্রমে ক্লাস ক্যাপ্টেন পরিবর্তন করতে হবে।
স্কুল বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা : শিক্ষার্থীদের ভাষার চর্চা, যোগাযোগ দক্ষতা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির জন্য তাদের দিয়ে অনুষ্ঠানসূচি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য স্কুল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন- বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, মিলাদ, বিদায় অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠ্যপুস্তক উৎসব, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় শিশু দিবস, জাতীয় শোক দিবস ও অন্যান্য জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও পরিচালনা এবং সঞ্চালন শিক্ষার্থীদের দিয়ে করাতে হবে এবং শিক্ষকরা এ কাজে সহযোগিতা করবেন।