হোমিওপ্যাথিতে এনাল ফিসারের চিকিৎসা ও সম্ভাবনা

ডা. একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকী

11

আমাদের দেশে এনাল ফিসার হলো মলদ্বার তথা পায়ুপথের একটি কমন রোগ, পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এ রোগের সংখ্যা বেশী দেখা যায়। তবে পায়ুপথের সব রোগই সাধারণ মানুষ অর্শ বা পাইলস মনে করে থাকে। কিন্তু পাইলস ছাড়াও পায়ুপথে যত ধরনের রোগ হয়ে থাকে, সেগুলোর মধ্যে এনাল ফিসার একটি। এ রোগে মূলত মলদ্বার তথা পায়ুপথ ছিঁড়ে যায়।
এনাল ফিসারের সম্ভাব্য কারণ : সাধারণত প্রবল কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে অথবা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মলত্যাগ করা সম্ভব না হলে শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপের কারণে শুরুতে পায়ুপথ সামান্য ছিঁড়ে যায়। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে।এক এটি অত্যন্ত জটিল আকার ধারন করে।
লক্ষণ : যেহেতু মলদ্বার তথা পায়ুপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা, সেহেতু ছিঁড়ে যাওয়ায় মলত্যাগ করতে গেলেই তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ওই ব্যথা কারো আধা ঘণ্টা, কারো ক্ষেত্রে সারা দিন স্থায়ী হয়। ব্যথা সুই ফটানো, পিন দিয়ে খোঁচা দেওয়ার মতো, ছুরি দিয়ে কাটার মতো হতে পারে। এ ব্যথা সারা উরু,তলপেটে ও পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে চুলকানি ও অস্বস্থিবোধ হতে পারে। রোগী ব্যথার ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময় মলত্যাগে ব্যথা আরও প্রবল হয় যা অনেকের ক্ষেত্রে অসহ্য হয়ে পড়ে। ব্যথা ছাড়া অন্য আরেকটি উপসর্গ হচ্ছে রক্ত যাওয়া,এটি তরুন অবস্থায় বেশী দেখা যায়। তবে এনাল ফিসারের পুরাতন অবস্থায় রক্ত বেশি যায় না। সাধারণত মলের গায়ে লেগে কিংবা টিস্যু পেপারে দেখা যায়। দুই-এক ফোঁটা রক্ত কমোডেও দেখা যেতে পারে। রক্ত, ব্যথা ছাড়া পায়ুপথে সামান্য ফোলা, চামড়া সংকুচিত বা স্কিন টেগ বা গেজ, টয়লেট আসতে দেরি হওয়া ইত্যাদি হতে পারে।
চিকিৎসা : ব্যথা যতই তীব্র হোক না কেন, উপযুক্ত চিকিৎসায় এনাল ফিসার সারিয়ে তোলা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু স্থানিক মলম, মল নরমের ওষুধ ইসুবগুল ইত্যাদি ব্যবহার করলে ভালো হয়ে যায়। যাদের এসবে হয় না, বা বারে বারে দেখা যায় তাদের জন অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। তাই অসহনীয় থাকতে এরোগ লালন পালন না করে চিকিৎসা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে এ রোগের স্থায়ী ও সুন্দর চিকিৎসা আছে, একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক লক্ষণ সংগ্রহ করে নিজের লব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়ে এরোগের দ্রæত ও কার্যকরি চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন।
লেখক : চট্টগ্রাম বিভাগীয় বোর্ড মেম্বার, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড