হেমন্তের ধান

বেণীমাধব সরকার

8

ধান ক্ষেতে নাচে ঝন্ ঝনা ঝন
সোনালি ধানের শিষ
সুগন্ধ তার মৌ মৌ করে
বাতাসে অহর্নিশ।

এই মাঠে ধান বাশমতি আর
ওই মাঠে কালিজিরা
আরেকটি মাঠে শালিধান যাতে
হয় অলকার চিঁড়া

কাটারিভোগের রঙে ঝল মল
গোসাইপুরের মাঠ
বতরের দিনে চাষিদের মনে
বসে আনন্দহাট।

ধানের ছড়ায় প্রজাপতি নাচে
নাচে যে ফড়িংরাজ
কবির কলম হয়েছে মাতাল
দেখে তার কারুকাজ !

রাঙ্গানলজ ভাওয়াইয়া ধান
মুড়ি মুড়কির তরে
নবান্নে সাড়া জাগিয়ে পাড়া
হেমন্ত আসে ঘরে।

ছবি আঁকার সাধ
বজলুর রশীদ

আঁকছে খোকা রঙতুলিতে
ভোর সকালে বেলা,
ফুলে ফুলে শিশির ফোঁটায়
প্রজাপতির খেলা।

মন ভোলানো সকালবেলার
শিশির ভেজা ঘাসে,
শিশির ফোঁটা ঘাসের ডগায়
সূর্যিমামাও হাসে।

খুকি দেখে এই ছবিটা
খুশিতে তাই নাচে,
খুকির দু’চোখ দিচ্ছে উঁকি
রঙতুলি নেয় কাছে।

আঁকবে খুকি খেজুর গাছে
মিষ্টি রসের হাঁড়ি,
দেখবে সবাই রসের হাঁড়ি
নজর নেবে কাড়ি।

হেমন্তেরই এমন দিনে
জাগবে কলোরব,
খেজুর রসের পিঠা-পায়েস
নবান্নের উৎসব।

নবান্নেরই পিঠা-পুলি
আঁকতে খুকির সাধ,
সেই ছবিটা দেখে সবাই
বলবে বাজিমাৎ।

খেজুর গাছে-গাছি এবং
রসের হাঁড়ি আঁকে,
খেজুর রসের মিষ্টি ফোটা
ঝরার দৃশ্য থাকে।

আরও আঁকে শিশির ফোটা
পাতার ফাঁকে ফাঁকে,
আশেপাশের দৃশ্যপটে
শীত কুয়াশাও আঁকে।