হুতিদের অসহযোগিতা ইয়েমেনে বন্ধ হতে পারে মানবিক ত্রাণ

11

কয়েক বছরের যুদ্ধ আর অবরোধে দুর্ভিক্ষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষকে দাতা সংস্থাগুলোর দেয়া জীবন রক্ষাকারী ‘মানবিক সাহায্য’ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হুতি কর্তৃপক্ষের ‘অভূতপূর্ব ও অগ্রহণযোগ্য বাধায়’ দাতাদের অসন্তোষের কারণে এমন পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশি এ সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ইয়েমেনের সংকটাপন্ন নাগরিকদের মানবিক সাহায্য পাঠানোর পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যৌথ পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে বৃহৎ দাতা গোষ্ঠী ও বিশ্বের বড় বড় সাহায্য সংস্থাগুলোর একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। ইয়েমেনের লাখ লাখ লোক এ সাহায্য সংস্থাগুলোর পাঠানো ত্রাণের ওপরই গত কয়েক বছর ধরে নির্ভর করে আসছিলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইয়েমেনে সংক্রান্ত সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে,মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে যে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা ইয়েমেনের ৬৭ লাখ মানুষের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। “এ সংখ্যা আগে কখনোই এত ছিল না,” বলেছে তারা। কর্মকর্তারা এর জন্য ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের বাধা ও অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন। “মানবিক সাহায্য দেওয়া সংস্থাগুলোকে এমন পরিবেশে কাজ করতে দিতে হবে, যেখানে তারা মানবিক সাহায্যের মূল নীতিগুলো মেনে চলতে পারেন। যদি সেখানকার পরিবেশ তা না করতে দেয়, তাহলে এটার পরিবর্তনে আমরা সবকিছু করতে পারি,” বলেছেন ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম বিষয়ক আবাসিক সমন্বয়ক লিসে গ্রান্ডে।
সমাধান খুঁজতে ‘একেবারে শেষ মুহুর্তেও’ ঊর্ধ্বতন হুতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে মাসের পর মাস ধরে চলা বৈঠক, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় দূত পাঠানো এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের একের পর এক বিবৃতিতেও লাভ হয়নি। হুতিদের বিরুদ্ধে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সাহায্য পণ্যের প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিতে দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি, কর্মীদের আটকে রাখাসহ নানান অভিযোগের পাহাড় জমেছে।
দাতা সংস্থার এক কর্মকর্তাও মানবিক সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখানকার পরিবেশকে ‘ভয়াবহ প্রতিকূল’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ইয়েমেনে ক্রিয়াশীল প্রতিটি দাতা সংস্থার ওপর হুতিদের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (এসসিএমসিএইচএ) কর আরোপের একটি প্রস্তাব উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। প্রস্তাবিত করের পরিমাণ সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের প্রায় দুই শতাংশ।