হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু

8

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এদিকে, দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে কর্মচাঞ্চ্যলতা ফিরতে শুরু করেছে। হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ হারুন ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মাহবুব হোসেন বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক আবেদন করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ৪/৫ জন আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছি। এরপর আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ায় আজ রবিবার সকাল থেকে ভারতের হিলি কাস্টমসে পেঁয়াজ রপ্তানির উদ্দেশ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিকেল পৌনে ৪টায় পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু হয়। এপর্যন্ত আমরা খবর পেয়েছি ভারতের হিলিতে ২৫/৩০ ট্রাকের মতো পেঁয়াজ এসেছে যা ভারতের হিলি পার্কিংয়ে অবস্থান করছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৪টি ট্রাকে ৯২ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে। পর্যায়ক্রমে বাকি পেঁয়াজগুলো দেশে প্রবেশ করবে। আর দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা দাঁড়িয়েছিল সেটি কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
এদিকে, হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজভর্তি ট্রাক ঢুকলেও এখনও ক্রেতা পাননি আমদানিকারকরা। এ বিষয়ে আমদানিকারক মাহবুব হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য টন প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার দরে এলসি খুলেছি। ফলে আমাদের আনা পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে ২১ থেকে ২৫ টাকার মতো। এরসঙ্গে গাড়িভাড়াসহ অন্য খরচ ও লভ্যাংশ যোগ করলে আমাদের আমদানির পেঁয়াজের দাম পড়বে ৩০ টাকার মতো। বাজারে এ মুহূর্তে দেশীয় পেঁয়াজ উঠছে। তাই এখনও কোনও ক্রেতা আসেনি। আশাকরছি, ক্রেতা পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মুল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। স¤প্রতি ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হওয়ায় ও সরবরাহ বাড়ার কারণে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়ে ২ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। তাতে ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির কথা বলা হয়।