হিন্দু মন্দিরে পশু বলি নিষিদ্ধ করছে শ্রীলঙ্কা

17

হিন্দু মন্দিরে ধর্মীয় আচারের অংশ হিসাবে পশু বা পাখি বলি দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। শ্রীলঙ্কা সরকারের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আনা একটি প্রস্তাব বুধবার অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রীসভা। হিন্দুদের অধিকাংশ উদারপন্থি সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। দেবতার প্রতি নৈবদ্য হিসেবে মন্দিরে পাঠা, ষাঁড় বা মোরগ বলি দেওয়া হিন্দু ধর্মের রীতি। কিন্তু বৌদ্ধ প্রধান শ্রীলঙ্কায় প্রাণী হত্যার এই আচার নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। বিবিসি লিখেছে, বৌদ্ধদের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রাণী অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা হিন্দু ও মুসলমসানদের উৎসবে পশু বলি ও কোরবানি বন্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
হিন্দুদের মধ্যে অনেকে পশু বলিতে অংশ নেন না। কিন্তু যারা নেন, তারা শ্রীলঙ্কা সরকারের ওই নিষেধাজ্ঞাকে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতায় বাধা হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, ধর্ম বিশ্বাসের অংশ হিসেবে পশু বলি দেওয়ার এই রেওয়াজ চলে আছে প্রাচীনকাল থেকে, আর তা চলতে দেওয়াই উচিৎ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার মুসলমানদের পশু কোরবানির বিষয়টি আপাতত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে না।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশে জনসংখ্যার দিক দিয়ে মুসলমানদের অবস্থান তৃতীয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে মুসলিমবিরোধী সহিংসতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন, মুসলমানদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।