হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার

হাটহাজারী প্রতিনিধি

37

হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্র আলী আকবরের (২৩) লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার। গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা যাওয়ার কথা বলে সে ও তার বন্ধু মাহমুদ মাদ্রাসা থেকে বের হয়। ওই দিনের পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, চলতি বছর দাওরায়ে হাদীসে অধ্যয়নরত ছিল আলী আকবর। মাদ্রাসার আহমদ মঞ্জিলের দ্বিতীয় তলার ৬০০ নম্বর কক্ষে থাকত সে। এসময় এলাকার ছেলে মাহামুদের সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় মাহামুদের সাথে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যেত আলী আকবর। গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা যাওয়ার কথা বলে সে ও তার বন্ধু মাহমুদ মাদ্রাসা থেকে বের হয়। সে দিনের পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গত ২৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ নন্দনপুর নামক এলাকার ধানক্ষেত থেকে তার হাত-পা বাঁধা গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। তবে উদ্ধারের পর তার নাম পরিচয় অজ্ঞাত ছিল পুলিশের কাছে। গত শুক্রবার পরিচয় পাওয়ার পর তার লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানায় পুলিশ। নিহত আলী আকবরের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান থানার চরশুবি দারুল উলূম আজিজিয়া মাদ্রাসা এলাকায়। তার পিতার নাম আবদুল মালেক। তবে কি কারণে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। এ হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউল হক জানান, নন্দনপুর এলাকার ধানক্ষেতে হাত-পা বাঁধা গলাকাটা অজ্ঞাত একটি লাশ দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার কারে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। এরপর বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়।
হাটাহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ জানান, নিহত আলী আকবরের পিতা ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তার খোঁজে হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান। সেখানে তাকে না পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসেন। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার দেওয়া তথ্যের সাথে নিহতের পরিবারের বক্তব্য মিলে যায়। তখন তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেই। এরপর গত শুক্রবার আলী আকবরের পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় গিয়ে তার লাশটি সনাক্ত করে।
এদিকে মাদ্রাসা ছাত্র আলী আকবরের খুনের সাথে জড়িত অপরাধীদের ধরতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজরী মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা আহমদ শফী। তিনি বলেন, মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের ছাত্র মুহাম্মাদ আলী আকবরকে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন।