হাটহাজারীতে মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণে বাঁধা

হাটহাজারী প্রতিনিধি

22

হাটহাজারী উপজেলার পুর্ব ধলই গ্রামের শরীফ বাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছ শরীফের পৈতৃক জায়গায় নিজের পুরানো জরাজীর্ণ বেড়ার ঘরটি ভেঙ্গে সেমিপাকা বসতঘর নির্মাণে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ মুক্তিযোদ্ধাকে বসতঘর নির্মাণে বাঁধা দেওয়া ছাড়াও প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিনিয়ত মামলা-হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে চলেছে। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা-হামলা ও ভয়-ভীতি দেখানো বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবী করেন। জানা যায়, পুর্ব ধলই গ্রামের শরীফ বাড়ীর মৃত জাকের আলী শরীফের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছ শরীফ তার প্রায় দুই শতক পৈতৃক জায়গা ভোগ দখল করে আসছেন। তিনি কিছু দিন আগে এ জায়গায় একটি সেমিপাকা বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ একই বাড়ির গোলাপুর রহমান এ জায়গা তাদের দাবি করেন। এছাড়া মামলা-হামলা ও ভয় ভীতি দেখিয়ে বসতঘরটি নির্মাণ করতে বাধা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছে বলে ভুক্তভোগি পরিবারের দাবী করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছ শরীফ। তিনি বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তিতে সেখানে একটি সেমিপাকা বসতঘর নির্মাণ করার সময় গোলাপুর রহমান কাগজপত্র ছাড়াই এ জায়গার মালিকানা দাবি করেন। তিনি ও তার লোকজন ঘর ভাংচুর করার পর জমি দখলের চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত গোলাপুর রহমান গং আমার অনেক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার পর সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এসব জায়গায় যেন আমি দখল করতে না পারি এজন্য সে দখলবাজদের দিয়ে হুমকি-ধমকি, মামলা-হামলা করে আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে আমার সকল জায়গায় সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতে করে আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভীত ও শংকিত। এছাড়া এদিকে এ জায়গার মালিক দাবী করে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর আমাকে হয়রানি করার জন্য অহেতুক ১৪৫ ধারায় আদালতে একটি মামলা দাখিল করে। তবে প্রায় দুই বছরেরও বেশি মামলাটি বিচারাধীন থাকার পর চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রæয়ারি বিজ্ঞ আদালত গোলাপুর রহমান গং করা মামলাটি খারিজ করে দেয় বলে জানান এ মুক্তিযোদ্ধা। এ ব্যাপারে গোলাপুর রহমানের পুত্র গিয়াস উদ্দীন শরীফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লোকজন দিয়ে ঘর ভাংচুর করার পর জমি দখলের চেষ্টা এবং তাদের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার মত এমন কোনো ঘটনার সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা নাই। আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযাগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বরং তারাই কাগজপত্র ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার প্রভাব কাটিয়ে আমাদের এ জায়গার মালিকানা দাবি করে গৃহ নির্মাণের পাঁয়তারা করছে।