ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ পরিবারকে সরিয়ে নিল প্রশাসন

হাটহাজারীতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধস

আবু তালেব, হাটহাজারী

15

অবিরাম বর্ষণে হাটহাজারীতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার ১ নম্বর ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের উদালিয়া গ্রামের পাহাড়ে ঘেরা মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় প্রশাসন উক্ত পল্লীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরত ১৫টি পরিবারকে আগাম সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দুইটি বসতঘর বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পৌরসভা ও উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে উক্ত এলাকার সাধারণ জনগণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিগত কয়েকদিন যাবৎ বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পৌরসভার মোহাম্মদপুর, মিরের খিল এবং উপজেলার বুড়িশ্চর, শিকারপুর, গড়দুয়ারা, মেখল, ছিপাতলী, গুমানমর্দ্দন, নাঙ্গলমোড়া, উত্তর ও দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে পৌরসভা ও উপজেলার আওতাধীন ২২টি খাল ও ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব খাল ও ছড়ার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি নবনির্মিত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি দেবে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। ফলে উক্ত এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে এসব এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণ ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এদিকে নাজিরহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর উপর নির্মিত বহু বছরের পুরানো সেতুটির মাঝখানে দেবে গেছে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে শত শত মানুষ এ সেতু দিয়ে পারাপার করছে। তবে যে কোন মুহূর্তে সেতুটি বিলিন হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের অভাবে উক্ত মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যাত্রী ও চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া ভারি বর্ষণে ঝুকিঁপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজনদের বসতি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, পৌরসভার এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরত ১৫ পরিবারের অর্ধ-শতাধিক সদস্যকে আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে এসব পরিবারের সদস্যগুলো ওই পল্লীতে কিছুদিন আগে নবনির্মিত স্থানীয় একটি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়। ফলে বুধবার রাতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের উদালিয়া গ্রামের পাহাড়ে ঘেরা মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই সময়ে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন উপজেলাবাসীর জান-মাল রক্ষার্থে সর্বদা প্রস্তুত এমনটা জানিয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন এ প্রতিবেদককে জানান, মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরত ১৫টি পরিবারকে সময়মত সরিয়ে নেওয়ার কারণে পাহাড়ধসের মত ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে দুইটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবাই নিরাপদে আছে। তাছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫ পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ বেলা খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া পৌর এলাকা ও উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান আমরা পরিদর্শন করেছি এবং উপজেলাবাসীর সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি।