হাজী আব্দুর রশিদ জামে মসজিদ

এম আনোয়ার হোসেন

28

দূর থেকে দৃষ্টি কাড়ে দ্বিতল ভবনের মসজিদটি। শুধু যে বাহিরের চাকচিক্যময় দৃশ্য বিদ্যমান তা কিন্তু নয় ভেতরেও তার দেখা মেলে; দেয়ালজুড়ে দু’বার ঠাঁই পায় সৃষ্টিকর্তার গুণবাচক ৯৯টি নাম। রয়েছে ১২০ মিটার সুউচ্চ মিনার, ৫ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মুয়াজ্জিন মুসলিমদের সমধুর কন্ঠে ডাকে যা শোনা যায় বহুদূরের গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত।
মিরসরাইয়ে সর্বপ্রথম আর্কিটেক্টচারাল হাজী আব্দুর রশিদ জামে মসজিদ। উপজেলার ৫ নম্বর ওছমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট গ্রামে অবস্থিত এটি। এটির পূর্ব নাম ছিল হলুদ মসজিদ। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণে পুরো অর্থের জোগান দেন পাতাকোট এলাকার সন্তান বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. এসএ ফারুক। মসজিদটির ডিজাইনকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলার বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত বারইয়ারহাট পৌরসভার সম্রাট বিল্ডার্স। তাদের দাবি মিরসরাইয়ের সর্বপ্রথম আর্কিটেক্টচারাল মসজিদ এটি। মসজিদটি সম্রাট বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠানের চিফ আর্কিটেক্ট কাওছার উদ্দিন তৈরি করেন। পূর্বের আধাপাকা হলুদ মসজিদটি ভেঙ্গে সেখানে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নান্দনিক একটি আর্কিটেক্টচারাল মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি জুমার নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে মসজিদটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখতে উদ্বোধনী দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৪ সহস্রাধিক লোকের সমাগম হয়। মসজিদ নির্মাণে ব্যয় বহণকারী ডা. এসএ ফারুক নির্মাণ ব্যয়ের বিষয়ে কাউকে কোন তথ্য দেননি, ধারণা করা হচ্ছে এই মসজিদ নির্মাণে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এছাড়া ওইদিন ডা. এসএ ফারুকের মা-বাবাও বোনের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহর থেকে স্বপরিবারে গ্রামের বাড়ী আসার সময় পথিমধ্যে পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে ডা. এসএ ফারুকের মা-বাবাও একমাত্র বোন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। মসজিদ উদ্বোধন এবং মা-বাবা এবং বোনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার মানুষের মধ্যহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে উপজেলার বিভিন্নস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বিশেষ করে পৌর মেয়র, ওসি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাউল করিম টিটু জানান, ডা. এসএ ফারুকসহ পরিবারের সদস্যরা এলাকার মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন। আজকাল মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণও এতে অর্থ সহায়তার হাত বাড়ায় এমন লোকের সংখ্যা নঘন্য অথচ তিনি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে মিরসরাইয়ের সর্বপ্রথম আর্কিটেক্টচারাল মসজিদ নির্মাণে ব্যয়ের পুরো অর্থ একাই বহন করেছেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. এসএ ফারুক জানান, এই মসজিদ নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে সেই হিসেবও আমি রাখিনি। আমি হিসেব রেখে কি করবো, কার কাছে অর্থ ব্যয়ের হিসেব দেবো। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন ধনদৌলতও দিয়েছেন তার ইবাদাতের জন্য তাই আল্লাহর ঘর নির্মাণে অর্থ ব্যয় করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।
মসজিদটির ডিজাইনকারী প্রতিষ্ঠান সম্রাট বিল্ডার্সের সত্বাধিকারী প্রকৌশলী নুর উদ্দিন মাসুক জানান, আমার জানামতে মিরসরাইয়ের সর্বপ্রথম আর্কিটেক্টচারাল মসজিদ এটি। মসজিদের বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে ইমামের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ, জানাযা পড়ার ব্যবস্থা; ডাবল হাইটের জন্য উপর তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত দেখা যায়।
দু’তলা ফাউন্ডেশনের মসজিদটিতে একসাথে প্রায় অর্ধ সহস্র লোক নামাজ পড়তে সক্ষম হবেন।