হজযাত্রীদের জেদ্দার ‘ইমিগ্রেশন’ ঢাকায় হলো না

19

হজযাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ঢাকায় সারার কথা থাকলেও হজ ফ্লাইট শুরুর দিনে তা করা যায়নি। ফলে প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার চারটি ফ্লাইটে যে ৪১৭ জন পৌঁছাবেন সৌদি আরবে, তাদের সে দেশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া জেদ্দা বিমানবন্দরেই হবে।
জেদ্দা অংশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শাহজালাল বিমানবন্দরে করার প্রস্তুতি থাকলেও ইন্টারনেটে ‘নেটওয়ার্ক’ জটিলতায় তা করা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার উপ মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার। তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হজ ফ্লাইটে ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি’।
সন্ধ্যায় তার সঙ্গে কথা হওয়া পর্যন্ত তিনটি হজ ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়েছিল। রাতে আরেকটি রওনা হওয়ার কথা। কিন্তু ওই ফ্লাইটের আগে সমস্যা সমাধানের কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেননি তাহেরা। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গেøাবাল ডিজিটাল সমস্যা। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই নেটওয়ার্ক জটিলতার সমাধান হবে এবং যথারীতি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে’।
যেসব দেশের অনেক মানুষ হজ করতে যান, তারা বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া নিজ দেশেই করার বন্দোবস্ত করছে। ফলে ওই সব দেশের হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে বিমানবন্দরে বসে থাকতে হয় না। অন্যদিকে বাংলাদেশ সেই ধরনের কোনো বন্দোবস্ত না করায় জেদ্দায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হজযাত্রীদের সেই বিড়ম্বনার অবসানে সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ঢাকায় এনে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই তা ধাক্কা খেল। খবর বিডিনিউজের
এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যাচ্ছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর বিমানে যাবেন ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন, বাকিদের পরিবহন করবে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইনামুল বারী, বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান, ধর্ম সচিব, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাবের সভাপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হজযাত্রীরা যেন নির্বিঘœ ও সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পন্ন করতে পারেন সে ব্যাপারে অধিকতর সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। সব ক্ষেত্রে হজ সংক্রান্ত সব বিষয়ে যে কোনো ধরনের অবহেলা, সংকট ও অনিয়মকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং হবে’।
গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রী নেওয়া হবে সৌদি আরবে। হজ শেষে ফ্লাইট ১৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজিদের বাংলাদেশে আনবে।