সৎলোকের গায়ের ঘাম অসতের রক্তের চাইতে বেশি দাম

মছিউদ্দৌলা জাহাঙ্গীর

60

কৈশোর থেকে যৌবন দীর্ঘ বার-চৌদ্দ বছরে প্রচুর বাংলা সিনেমা দেখেছি! অধিকাংশ ছবির কোন না কোন দৃশ্যে নায়ক হয় বাবা নয় মা নয় ভাই বা প্রেমিকা অথবা বন্ধু, কারো না কারো রক্ত ছুঁয়ে একবার না একবার শপথ করবেই! বলবে; এই তোমার রক্ত ধরে শপথ করছি তোমার খুনের বদলা আমি নেবই! আমাদের বাংলা সিনেমার এটি একটি অতি পরিচিত দৃশ্য, তবে আলোচনার বিষয় হচ্ছে ডায়লগটি এখন সিনেমা থেকে বাস্তবে এসে গেছে! কথায় কথায় এখন সবাই নাটকীয়ভাবে রক্ত দেওয়ার কথা বলেন। এমনকি দায়িত্বশীল অনেক মন্ত্রীও নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর রক্ত দিয়ে তাঁর সফলতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া এক নবাগত মন্ত্রীও বুকের রক্ত দিয়ে হলেও তিনি বিমানকে লোকসান মুক্ত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা মনে করি, বিমানের লোকসান কমানোর জন্য সততা ও আন্তরিকতাই যথেষ্ট। তাতে রক্ত দেয়ার মত এতো সস্তা কথা দায়িত্বশীলদের মুখে বেমানান। এছাড়া রাজনৈতিক আন্দোলনেও নেতা-কর্মীরা কথায় কথায় সবাই শুধু রক্ত দিতে চায়! সাধীনতাত্তোর এমনটি প্রত্যয়ের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব থাকলেও এখন মনে হয়, রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজির কারণে তা ব্যবহার করা হয়। রক্ত দেয়ার এমনটি নিত্য কথনে আমাদের মনে হয় সন্ধানী’ কর্তৃক বেশি রক্ত সংগ্রহ হওয়ার কারণে আজ রক্তের এই হাল। মূল্য একেবারেই কমে গেছে, ফলে পেশাদার রক্তদাতারা পড়েছে বড় ঝামেলায়। একসময় পেশাদার রক্তদাতাদের বড় কদর ছিল, তারাও তখন এক ব্যাগ রক্ত বিক্রি করে ভালো আয় করত। সেদিন কিন্তু এখন আর নাই, বিনা মূল্যে এখন ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত পাওয়া যায় তাই পেশাদার রক্তদাতাদের কেউ এখন আর খবরও রাখে না। অনেক তরুণ ও যুবক এখন স্বপ্রণোদিত হয়ে রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করে থাকে। ফলে অর্থ ছাড়া এখন প্রচুর রক্ত যেখানে সেখানে পাওয়া যায়। প্রাচুর্যের এ যুগে রক্ত নিয়ে তাই কে আর এত ভাবে। সম্ভবত সে কারণে রাজনৈতিক নেতা বলুন বা মন্ত্রী এমপি বলুন কারো রক্ত দেওয়ার বক্তৃতা তেমন কারো মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে না। তা না হলে ভেবে দেখুন রক্তের কথা ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আর দেব এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্’- বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দিয়ে গোটাদেশের মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উজ্জীবীত করলেন। আর নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে ফেললেন। আর এখন রক্তগঙ্গা বয়ে দিয়েও জাতিকে সামান্য ঘুষ-দুর্নীতি এসব থেকে মুক্ত করা যাচ্ছে না! মনে হয় রক্ত দেখে দেখে মানুষ এখন অনেক শক্ত হয়ে গেছে তাই রক্তের কথা বলে এখন আর কোন কাজ হয় না। কথা হচ্ছে বিমান হলো একটি রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী অথচ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করে তুলতে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হবে কেন? মনে পড়ে চারদলীয় জোট সরকারের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা, সন্ত্রাসীদের তিনি মাটির নীচ থেকে খুঁজে বের করবেন! কি দরকার এসব মেঠো বক্তৃতা দিয়ে, শেষ পর্যন্ত কিছু করতে না পেরে বলবেন ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ্ নিয়ে গেছেন’! একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার জন্যে রক্ত দেওয়ার কোন দরকার নেই দরকার শুধু নজরদারীর। প্রথম দরকার বিক্রি বাড়ানো, পণ্যের দাম কমালে বিক্রি বেড়ে যাবে, পণ্য বা সেবার মান বাড়ানো তুলনামূলক দাম কমানো। তারপর দরকার খরচ কমা ও অনিয়ম বন্ধ করা, চুরি-দুর্নীতি বন্ধ করা, বাড়তি মানুষ ছাঁটায় করা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সর্বোপরি নিজে সৎ থাকা তাহলে আর রক্ত দিতে হবেনা। কথায় আছে বিদ্যানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে দামি তদ্রæপ সৎলোকের গায়ের ঘাম অসতের রক্তের চাইতে বেশী দাম। তাই সব সঠিকভাবে করতে পারলে যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লাভ হতে বাধ্য। সুতরাং সস্তা মেঠো বক্তব্য পরিহার করে সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তার সঠিক সমাধান খুঁজে বের করাই হচ্ছে আসল রক্তদান। গেল মন্ত্রীর রক্তদানের কথা। যখন দেখি একজন শিক্ষক কর্তৃক একটি শিশু শিক্ষার্থীর রক্ত নেওয়ার দৃশ্য অবাক না হয়ে তখন আর কিছু করার থাকে না! সম্প্রতি পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রামের ফৌজদার হাটে একটি এতিমখানায় মো. রহিম নামে এক শিক্ষক মাহফুজ হোসেন জিহাদ নামে ৮ বছরের এক শিশু ছাত্রকে নির্মমভাবে প্রহার করে রক্তাক্ত করেন! মাশাল্লাহ্ শিক্ষকই বটে রহিম, নামের সাথে কামের কোন মিল নেই দয়ার লেশমাত্র নেই! জিহাদের সাথে সত্যি সত্যিই জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন তিনি! বাল্যকালের দেখা সিনেমাগুলোতে দেখতাম নায়ক ভিলেনকে মেরে তক্তা বানানোর পর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেন চিকিৎসা করাতে। এখানে হতভাগ্য জিহাদের ভাগ্যে তো সেটি জুটলোই না উল্টো গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে তিন দিন সেখানে আটকে রাখা হয়! গুরু কর্তৃক শিষ্য গুরুতর আহত!
সত্যিকারের শিক্ষাগুরু রহিম ভালোই তত্ত¡াবধান করছেন ছাত্রদের জ্ঞান দান করছেন! কথায় আছে; আত্মবুদ্ধি শুভকারী, গুরুবুদ্ধি বিশেষতঃ, পরবুদ্ধি বিনাশায়, স্ত্রীবুদ্ধি প্রলয়ঙ্করী! মূলত পÐিতগণ বলতে গুরুগণই শ্লোকগুলো বানিয়েছেন তাঁদের জাগতিক মঙ্গলের জন্যে। আসলে ঠিক, আদিকালে পুরুষরা অনেক বিয়ে করতেন ফলে স্বামীকে নিজের বশে রাখতে কিংবা স্বামীর ক্ষতি করার জন্যে স্ত্রীগণ কুবুদ্ধির আশ্রয় নেওয়া স্বাভাবিক যাতে প্রলয় ঘটে। আর নিজের জন্যে তো পরের বুদ্ধি অবশ্যই ক্ষতিকর কারণ নিজের বুদ্ধিতে ভাত পরের বুদ্ধিতে হাভাত। সুতরাং গুরুগণ ঠিকই বলেছেন নিজের বুদ্ধিই উত্তম। কিন্তু তারপর যেটি বলেছেন সেটিই হচ্ছে আসল কথা অর্থাৎ নিজের বুদ্ধিতে যখন কাজ না হয় তখন গুরুর কাছে এসো কারণ গুরুর বুদ্ধি হচ্ছে স্পেশাল! তবে শিষ্য জিহাদের জন্যে গুরু রহিমের বুদ্ধিতে স্পেশালিটিটা কি ছিল সেটি বুঝে উঠতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। প্রখ্যাত লেখক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব তাঁর ‘দেশে বিদেশে’ উপন্যাসে লিখেছেন কাবুলে শিক্ষকতা কালীন তিনি এক গাধা শ্রেণীর ছাত্রের উপর ভীষণ চটে গিয়ে মারার জন্যে তাকেই পাঠালেন বেত আনতে! কাবুলে নাকি তখন বেতের কাঁটা ফেলা হতো না, কাঁটা সহ বেত দিয়ে শিক্ষকগণ ছাত্রদের পিটাতেন! তাই যে ছাত্রকে পেটানো হত শিক্ষকগণ তাকে দিয়ে কখনো বেত আনাতেন না কারণ সে কাঁটা বিহীন নরম বেত আনবে। যে ছাত্রের সাথে তার সম্পর্ক শত্রæ ভাবাপন্ন তাকে দিয়ে বেত আনাতেন যেন ঘন কাঁটাযুক্ত শক্ত বেত আনে! কিন্তু আলী সাহেবের সেই ছাত্র সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিজেকে মারতে ওস্তাদের জন্যে ঘন কাঁটাযুক্ত শক্ত বেত নিয়ে এলো! কারণ ছেলের মধ্যে গুরুভক্তি বেশী ছিল, গুরুকে ফাঁকি দিলে অমঙ্গল হবে গুরুর হাতে পিটা খেলে পরকালে কল্যাণ হবে। সে ধারণা যে আমাদের দেশ থেকে বহু আগে গত হয়েছে মনে হয় রহিমের তা খেয়াল ছিল না। ছেলে বেলায় শিক্ষকের মার খেয়ে ভাবতাম বড় হয়ে আমিও মাষ্টার হবো তারপর ছাত্রদের এভাবে পেটাবো! তেমনই কোন প্রতিক্রিয়া সম্ভবত রহিমের মনে বিক্রিয়া ঘটিয়েছে, তাই বেচারা শিশুটিকে তিনি এমন ছেঁচা ছেঁচলেন। গুরুরাই এক সময় বিধান দিয়ে ছিলেন ‘গুরু সেবিলে বিদ্যা বাড়ে’। দুষ্টু লোকেরা তাকে প্যারোডি বানালো ‘গুরু ছেঁচিলে বিদ্যা বাড়ে’- সম্ভবত রহিমদের মতো শিক্ষকদের কারণে। কথায় বলে একজনে করে নষ্ট সবে দুঃখ পায়, রহিমদের মতো শিক্ষকদের কারণে গোটা শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক হয়।
বিদ্যা অর্জন করতে প্রয়োজনে সুদূর চীন পর্যন্ত যাও- নবীজির (স.) সুস্পষ্ট হাদিস। পত্রিকার লিখানুসারে আমাদের শিশু জিহাদ, বায়েজিদের আতুরার ডিপো থেকে সীতাকুÐের ফৌজদার হাটে জ্ঞান অর্জনের জন্যে গেছে। দয়ালু শিক্ষাগুরু রহিম তাঁর গুরুবুদ্ধি দিয়ে শিশুকে মেরে তক্তা বানালেন, গুরুবুদ্ধি বিশেষতঃ, আমাদের বলার কিছু নেই। ওদিকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিলাসী গল্পে লিখেছেন; যাতায়াতে চার ক্রোশ পথ ভাঙ্গিয়া বর্ষায় হাঁটু কাদা আর গ্রীষ্মে ধুলার সাগর সাঁতার দিয়া স্কুলঘর করিতে আসা সেই দুর্ভাগা বালকদের মা-সরস্বতী খুশী হইয়া বর দিবেন কি তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া কোথায় যে তিনি লুকাইবেন, ভাবিয়া পান না। এখন আমাদের হয়েছে সে অবস্থা আর তা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কারণে! সম্প্রতি পত্রিকায় এসেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর একেকটি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১২০৮টি! মানুষ নেবে ২৮ জন আবেদন পড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে স্নাতক আবেদন করেছেন মাস্টার্স ডিগ্রী ধারীরা! বিমানমন্ত্রী তো রক্ত দিবেন এখন খাদ্যমন্ত্রী মহোদয় কি করবেন? ‘তিনিও কি মা-সরস্বতীর মতো লুকাইবার পথ খুঁজিবেন, দেশের এই শিক্ষিত বেকারদের যন্ত্রণা দেখিয়া?’ মাননীয় সরকার বাহাদুর এবং সম্মানিত মন্ত্রী বাহাদুরগণ দয়া করে লুকায়েন না, রক্তও দিয়েন না, শুধু ঘাম দিন। ঐসব দুর্ভাগা বেকারদের জন্যে শুধুমাত্র কিছুটা ঘাম ঝরান দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কি করতে হবে তা একটু পরে বলি আগে ঐসব শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে কিছু বলি। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা তোমরা খালি সরকারের দিকে তাকিয়ে থেকো না নিজেরা মিলে কিছু একটা করার চেষ্টা করো। দেশে করার মতো কাজের কোন অভাব নেই শুধু খুঁজে নিতে জানতে হয়। এই যেমন ধরো এখন শীতকাল, ফুলকপি-বাঁধাকপি সহ সকল শীতকালীন সব্জির দাম ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ সব বিভাগীয় শহরগুলোতে পঞ্চাশ টাকার উপরে কেজি! কিন্তু এই একই সব্জি ভোলা, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা সহ সকল প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে মাত্র পাঁচ-দশ টাকা কেজি! তোমরা সেখানে যাও গিয়ে সেসব সংগ্রহ করো ও শহরে সাপ্লাই দাও। আরো আছে, আমের দিনে আম, জামের দিনে জাম, লিচুর দিনে লিচু, কাঁঠালের দিনে কাঁঠাল, তরমুজের দিনে তরমুজ, পেয়ারার দিনে পেয়ারা আর কলা তো সারা বছরই আছে। তাছাড়া দুধ উৎপাদন করো, ডিম উৎপাদন করো, মাছ-মাংস, ইত্যাদি উৎপাদন করো সেই সাথে আরো করতে পারো কুঠির শিল্প, ছোট ছোট শো-পিস কারখানা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। তোমাদের উৎপাদিত পণ্য, সংগৃহীত পণ্য বাজার জাত করো, মার্কেটিং করো দেখবে কাজের কোন অভাব হবে না।
যে যেই কাজে পারদর্শী সে সেই কাজে লেগে যাও বাকীরা তাদের সাহায্য করো। তোমরা একে অপর সম্পর্কে খুঁজ-খবর নাও পরস্পর মত বিনিময় করো এবং একে অপরকে জানো। মোবাইল আছে, ফেসবুক আছে, যোগাযোগের আরো অনেক সহজ মাধ্যম আছে ফলে আর চিন্তা কি? এসব প্রযুক্তিকে বাজে কাজে ব্যবহার না করে সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করো ও নিজেরা কি জানো তা একে অপরের সাথে শেয়ার করে বাস্তবায়নে লেগে পড়। এবার আসি সরকারের কথায়, মাননীয় সরকার বাহাদুর উল্লেখিত কাজগুলো বাস্তবায়নে আপনারা যুবকদেরকে সহযোগিতা করবেন। ঋণ দিয়ে, ধন দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, ধ্যান দিয়ে ও কর্ম দিয়ে। সম্প্রতি পত্রিকায় দেখলাম দেড় লক্ষ কোটি টাকা ঋণ খেলাপী তারমধ্যে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার কোন হদিসই নেই! এসব টাকা উদ্ধার করুন, করে এসব যুবকদের সহজ শর্তে ঋণ দিন। বড় বড় প্রকল্প সেতু, ফ্লাইওভার এসব বানানো বন্ধ করুন, সে টাকা দিয়ে যুবকদের সাহায্য করুন তাদের কর্ম-সংস্থনের ব্যবস্থা করুন, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। এসব যুবকদের উৎপাদিত পণ্য দেশে-বিদেশে বাজার জাত করার ব্যবস্থা করুন। ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বি এস টি আইকে লেলিয়ে দিবেন না, আগে কর্ম-সংস্থান তারপর ভ্যাট, ট্যাক্স, বি এস টি আই। কারণ কর্ম-সংস্থান হলো খাদ্য আর ভ্যাট, ট্যাক্স, বি এস টি আই হলো প্রসাধন বা মে’কাপ। আমাদের দেশে সরকারের কোন বিভাগের সাথে কোন বিভাগের সমন্বয় নাই, সিটি কর্পোরেশন রাস্তা বানালে ওয়াসা এসে তা কেটে ফেলে! আবার সি ডি এ বা রাজউক রাস্তা বানালে গ্যাস, টি এন টি এসে তা কেটে ফেলে! এমন আরো অনেক সমস্যা এসব দূর করতে হবে সবার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। তখন আর মন্ত্রীকে রক্ত দিতে হবে না, ছাত্র মেরে শিক্ষককে জেলে যেতে হবে না, বেকার দেখে সরকারকে আর মা-সরস্বতীর মতো মুখ লুকাতে হবে না। তবে দুঃখের কথা কি বলবো আমার লিখা শেষ করতে পারি নাই এর মধ্যে খবর পেলাম আমাদের শিক্ষক সমাজের আরেক ধাপ উন্নতি হয়েছে! তাঁরা এখন ছাত্রকে রেখে ছাত্রের বাপকে মারা শুরু করেছেন আর এটি ঘটেছে কক্সবাজারে! সারা রাত রামায়ণ পড়ালাম সকালে উঠে বলে সীতা কার বাপ! হে মোর দুর্ভাগা দেশ।
লেখক : কলামিস্ট