স্বাস্থ্যসেবায় অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে তদারকি বৃদ্ধি করতে হবে

4

চট্টগ্রামে বেশিরভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অপরিচ্ছন্নতা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও রোগীদের প্রতি অবহেলা ও অপচিকিৎসার মৃত্যুর সংবাদসহ নানা অনিয়মের সংবাদ নিত্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক সাংবাদিক পুত্রের অপচিকিৎসাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল চট্টগ্রাম। যার আঁচড় পড়েছিল পুরো দেশে। এছাড়া প্রাইভেট চিকিৎসকের অতিমাত্রা ব্যবস্থাপত্র ফি, ডায়গোনিস্টিক সেন্টরগুলোতে টেস্টের নামে ভুয়া রিপোর্ট, অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে গণমাধ্যমে লেখা লেখির পর স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়হোনিস্টিক সেন্টারগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধিসহ বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আমরা জেনেছি। দেশের উচ্চ আদালত থেকেও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার সুচিকিৎসা যেন নিশ্চিত হয়-তা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্য তেমনটি কমছে বলে আমাদের মনে হয় না। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দেশের বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গঠিত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটি বিভিন্ন পত্রিকায় সার্কুলার জারি করে মূল্য তালিকা তৈরি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের ২৪ জুলাই এক আদেশে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি তালিকা করে টানাতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই আদেশের পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষার ফি, সেবার মূল্য তালিকা এবং চিকিৎসার ফির তালিকা করে প্রকাশ্যে টানানোর আদেশ জারি করে। দেশে সময়ে সময়ে উদ্ভূত জনস্বাস্থ্য সেবার সমস্যা ও সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। আমরা এধরণের আদেশকে স্বাগত জানাই। আশাকরি শেষ পর্যন্ত আদেশ যারা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপরোক্ত সমস্যা ও সংকটের চেয়ে আরো বড় সংকট অনেক বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোর মূলে রয়ে গেছে-এমনটি তথ্য দিল দৈনিক পূর্বদেশ। বুধবার পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় নগরীর ৭১টি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করছে। একইভাবে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের কোনো তালিকা নেই পরিবশে অধিদপ্তরের কাছে। এসব হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়মের শেষ নেই। নেই কোন রোগ নিরাময়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং নিজস্ব ডাক্তার। এ সকল প্রতিষ্ঠানে দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে এসে ভাড়াটে ডাক্তারের মাধ্যেমে চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নগরীতে আড়াই শতাধিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও পরিবেশ ছাড়পত্র আছে মাত্র ১২৯টির। ৭১টি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর ‘পরিবশে ছাড়পত্র’ না থাকায় চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো এর কোন বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রতিবেদক মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে চিকিৎসা সেবায় এসব প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম বেড়ে যাচ্ছে। আমরাও এর সাথে সহমত পোষণ করছি। চিকিৎসা ব্যবস্থার এসব হালহাকিকত পড়লে সহজেই অনুমেয় এ বিভাগের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ কিরকম নৈরাজ্যকর অবস্থায় তাদের বাণিজ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। দেশের সচেতন মানুষ এর অবসান দেখতে চায়। আমরা মনে করি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের জারি করা নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নজরদারি বাড়াতে হবে।