নগরীর পশুরহাট

স্বাস্থ্যবিধি মানায় ভিড় কম এবার নেই পশু চিকিৎসক

এম এ হোসাইন

76

বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সবাই মিলে হাটে পশু কিনতে যাওয়ার চলন অনেক পুরোনো। কোরবানির ঈদের আগে পশুর হাটে তাই এক ধরনের উৎসবও জমে যায়। এবার সে পরিস্থিতির কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে ভিড়ও কমেছে। তবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলেও পশুর স্বাস্থ্য অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। অন্যান্য বছর পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য যতো আয়োজন করা হতো এবার সে আয়োজনে পড়েছে ভাটা।
রোগমুক্ত পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রত্যেক বছর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়োজিত করা হতো। এবার ভেটেরিনারি চিকিৎসক নেই কোনো পশুর হাটে। ফলে কোনো ক্রেতা তার কেনা পশুটি রোগমুক্ত কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ তদারক টিম রাখা হয়েছে। এসব টিম নিয়মিত বিভিন্ন বাজার তদারকিতে নিয়োজিত আছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, আমাদের উপজেলাগুলোতে ৭৩টি ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ টিমগুলো পশুর হাট তদারকি করছেন। শহরে প্রতিবছর ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা কাজ করতেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। আমাদের তিনজন চিকিৎসক আছেন, তারা তিনজনই অসুস্থ। বাইরের ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে আমরা তিনটি টিম করে পশুরহাট তদারকি করছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পশুর হাটে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে হাটগুলোতে। হাটে প্রবেশের সময় মাস্ক পড়ার বিষয়টি তদারক করা হচ্ছে। ঘুরে ঘুরে যাচাই-বাছাই করে পশু কিনতে গিয়ে ঝুঁকি না বাড়ানো, যথাসম্ভব কম সময়ে পশু কেনা, বাসায় ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং গোসল করে নেয়া, জনসমাগম ও ভিড় না করার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো প্রচার করা হচ্ছে। তবে হাটের মধ্যে এসব স্বাস্থ্যবিধির যৎসামান্য মানা হচ্ছে।
ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আমরা লিফলেট দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ টিম হাটগুলো তদারকি করছে। সার্বক্ষণিক হাটের ইজারাদারের মাইকে প্রচার করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। হাটে প্রবেশে মাস্ক পড়া এবং মাস্ক সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য নিরাপদ কিনা সেটাও ভ্রাম্যমাণ টিম তদারকি করবে। পশুর কোনো সমস্যা হলে সেটার চিকিৎসা ও পরামর্শ দিবে এ টিম।
তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত পশুর হাটগুলোতে কোনো ভিড় জমেনি। যারা যাচ্ছেন তারা দূরত্ব মানছেন মোটামুটি। বুধ ও বৃহস্পতিবার থেকে হাটে ভিড় বাড়তে পারে। শেষ মুহুর্তে অনেক মানুষ ভিড় করে। ভিড় যেন না হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।