আতংকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ

স্বার্থের দ্বন্দ্বে পুড়ছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো

4

১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে ব্যাপক সন্ত্রাবাদী কর্মকাÐ অনেকটা থেমে গেলেও পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্ব›েদ্ব ক্ষতবিক্ষত আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ঝালাই-এ লিপ্ত হয়। এতে এ যাবৎ দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়। সম্প্রতি শেষ হওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মাঝে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন দেয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কার গ্রæপের বসু চাকমা নামে এক নেতার হত্যাকাÐের পর উভয় পক্ষের মাঝে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। কখন কার উপর গুলিবর্ষণ হয়। এই নিয়ে আতংকে ভুগছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ, এমনটাই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে জেএসএস ও ইউপিডিএ সমঝোতার ভিত্তিতে এক হয়ে যায়। তবে আঞ্চলিক অপর দুটি দল জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বাইরে থাকায় সংঘাতের শঙ্কা রয়েই গেল। পাহাড়ে দফায় দফায় তাদের সাথে সংঘাত লেগেই রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার পর দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখাচ্ছে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, রাঙামাটির রাজস্থলী ও বাঘাইছড়ির পর গত সোমবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর টহলদলের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। দীঘিনালা উপজেলার বড়াদমে ইউপিডিএফ’র (প্রসীত গ্রæপ) সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষায় সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি ছুড়লে ৩ সন্ত্রাসী নিহত হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত সংবাদে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা সূত্রে উল্লেখ করা হয়, নিহত ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’ এর কর্মী। নিহত সন্ত্রাসীরা হল বুজেন্দ্র লাল চাকমা (৪৫), নবীন জ্যোতি চাকমা (৩২) ও রশিল চাকমা (২৫)। তাদের মধ্যে নবীন চাকমা ও রশিল চাকমা একই উপজেলার কৃপাপুর এলাকার বাসিন্দা। আর ভুজেন্দ্র চাকমা পাবলাখালী এলাকার বাসিন্দা। সংবাদে বলা হয়, সোমবার সকালে জেলার দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বড়াদম এলাকায় কয়েক জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর উপস্থিতির খবর পেয়ে দীঘিনালা জোন থেকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ওই এলাকায় পৌঁছে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট গুলি বিনিময়ের পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৩ জনের মৃতদেহ, ২টি পিস্তল, ১টি আমেরিকান এম-৪ অটোমেটিক কার্বাইন, ১২ রাউন্ড গুলি ও ২ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে।
স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করেছেন পাহাড়ের এখনো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ে যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল সন্ত্রাসী গ্রæপগুলো তাতে বারবার ব্যর্থ হয়ে এখন পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেশের সেনাবাহিনীর উপর হামলা করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, বর্তমান সরকার ১৯৯৭ সালে সরকার পরিচালনাকালীন যে শান্তিচুক্তি করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী তা সুরক্ষায় সুদৃঢ় থাকবে। যতই ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাÐ হোক তা যেকোন কিছুর বিনিময়ে উপড়ে ফেলতে হবে। পাহাড়ের সহজ-সরল ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে আঞ্চলিকতার ধোঁয়া তোলে যারা রাজনীতি করছে তারা মূলত নিেেজদের আখের গোছাতেই সন্ত্রাসী কর্মকাÐে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। জনগণকে জিম্মি করে তাদের এ অপরাজনীতি যতদিন বন্ধ হবে না, ততদিন এ অঞ্চলে সত্যিকার শান্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করবেনা। আমরা আশা করি, সরকার যে আন্তরিকতার সাথে পাহাড়ে শান্তি নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে তাতে সকল পক্ষ সংযত হয়ে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।